বাগমারাশিরোনাম-২

বাগমারার বকপাড়ায় অবৈধ সমিতি ফাঁদে লোকজন: কিস্তি না দেয়ায় মারপিট

সমিত রায়, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় এবার নামবিহীন গ্রাম্য সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে বিপাকে পড়েছে সাধারণ অসহায় লোকজন।
মহামারি করোনায় সরকারী ভাবে ঋণ পরিশোধে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সেটার তোয়াক্কাই করেন নি অবৈধ নাম সর্বস্ব একটি সমিতি।
করোনার মধ্যে কিস্তি পরিশোধ করতে না পারায় মারপিটের শিকার হতে হয়েছে ঋণ গ্রহীতাকে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সেলিম রেজা ওই সমিতির বেশ কয়েক জনের বিরুদ্ধে বাগমারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এছাড়াও সরকারী কোন অনুমতি না নিয়ে অবৈধ ভাবে নামবিহীন সমিতি গঠন করে উচ্চহারে সুদ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় উপজেলা সমবায় কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন স্থানীয় লোকজন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মুগাইপাড়া গ্রামের জামাল উদ্দীন, সাহাবুর আলী, আব্দুর রাজ্জাক, আবুল হোসেন, নারায়নপাড়া গ্রামের হারুন সহ প্রায় শর্ধশত ব্যক্তি কয়েক বছর থেকে বকপাড়া মোড়ে নাম বিহীন একটি মাসিক সমিতি গঠন করে।
প্রতি মাসে সদস্যরা পাঁচশত টাকা করে চাঁদা (সঞ্চয়) জমা করেন ওই সমিতিতে। সেই জমাকৃত টাকা বিভিন্ন এলাকার লোকজনের মাঝে হাজারে ২ শত টাকা হার সুদে ঋণ প্রদান করা হয়ে থাকে। সরকারী কোন অনুমতি ব্যতিরেখে অবৈধ ভাবে ঋণ কার্যক্রম পরিচালিত করে আসছে তারা। এদিকে করোনার কারনে সঠিক সময়ে কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় কাজিহাটা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ঋণ গ্রহীতা সেলিম রেজাকে মারপিট করে ভ্যানে করে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় স্থানীয় লোকজন তার চিৎকারে ছুটে আসলে ছাড়া পান সেলিম রেজা। পরে নানা ভাবে সমিতির লোকজন সেলিম রেজার প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে সেলিম রেজার চাচা আব্দুল মজিদ মচমইল বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে জামাল সহ তার সহযোগিরা মিলে বকপাড়া মোড়ে তার পথ রোধ করে এবং শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করে। সেই সাথে সেলিম রেজাকে ডেকে না আনা পর্যন্ত তাকে ছাড়া হবে না বলে অকথ্য ভাষায় কথা বার্তা বলে তারা। এদিকে একই ভাবে কিস্তি দিতে সাময়িক সমস্যা হওয়ায় একই এলাকার সবুজ, সান্টু, রজব, রতন, শিমুল, দুলাল সহ অনেক কেই লাঞ্ছিত হতে হয়েছে সমিতির সদস্যদের দ্বারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতি মাসের ১৫ তারিখে বকপাড়া মোড়ের মালেকের চা স্টলে বসে সমিতির কার্যক্রম। সেখান থেকেই বিতরণ করা হয় ঋণ। ১২ মাসে পরিশোধ করতে হয় ঋণ গ্রহীতার ঋণের অর্থ। এতে করে কোন ব্যক্তি ১ হাজার টাকা ঋণ নিলে তাকে সুদ সহ সর্বমোট ১২ শত টাকা পরিশোধ করতে হয়।
ঋণ গ্রহীতার পরিশোধকৃত এই অর্থ আবারও কোন ব্যক্তির নিকটে ঋণ আকারে বিতরণ করা হয়ে থাকে। সেই সাথে সমিতির ৪৩ জন সদস্য প্রতি মাসে ৫ শত টাকা করে সঞ্চয় জমা রাখে। ঋণ আদায়ের অর্থ এবং সদস্যদের জমানো টাকা পুনরায় অন্য কাউকে প্রদান করা হয়। এভাবেই চলছে নামবিহীন এই সমিতির কার্যক্রম।
সুদের কারবার করলেও নেই তাদের কোন অনুমোদন। ভয়ভীতি আর গায়ের জোরে ঋণ আদায় করে থাকে সমিতির সদস্যরা। সেলিম রেজা বলেন, আমার কাছ থেকে মাত্র ২ হাজার টাকা পাবে সমিতির সদস্যরা। করোনার কারনে কাছে টাকা না থাকায় যথা সময়ে কিস্তি পরিশোধ করতে পারিনি। সে কারনে সমিতির সদস্যরা আমাকে বকপাড়া মোড়ে মারপিট করে এবং ভ্যানে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। শুধু এটাই নয় গ্রামে গ্রামে নামবিহীন এরকম সমিতির অন্ত নেই। বিপদে পড়লে অসহায় লোকজন এ সকল গ্রাম্য সমিতি থেকে কড়া সুদে ঋণ নিতে বাধ্য হয়। কর্তৃপক্ষের উচিৎ হবে এ রকম অবৈধ সমিতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ সকল গ্রাম্য সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে অনেকেই হয়েছেন সর্বশান্ত। দিতে হয় সুদের উপর সুদ। সমিতির এক সদস্য আবুল হোসেন বলেন, আমরা মাসিক সঞ্চয় জমা রাখি এবং সেই জমানো অর্থ ঋণ হিসেবে লোকজনের মাঝে বিতরণ করে থাকি। তবে সমিতির কোন সরকারী অনুমোদন নেই বলেও জানান তিনি। এদিকে জামাল উদ্দীন নামের সমিতির আরেক সদস্য তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বলেন, মারপিট হয় নি তবে কিস্তি পরিশোধ না করায় কথা কাটাকাটি হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা বাগমারা থানার এসআই আমিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে উভয় পক্ষকে ডেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close