চারঘাটশিরোনাম-২

চারঘাটে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা, ভোগান্তি পথচারীদের

 

মো. সজিব ইসলাম, চারঘাট : রাজশাহী জেলার চারঘাট পৌরসভার অধিকাংশ ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এতে পথচারীদের পোহাতে হচ্ছে ভোগান্তি। বছরের পর বছর এ অবস্থা চললেও পৌর কর্তৃপক্ষ ফুটপাত দখলমুক্ত করার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে এলাকাবাসীর।

চারঘাট পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ সালে চারঘাট পৌরসভা গঠন করা হয়। পর্যায়ক্রমে পৌর এলাকার বাজারসংলগ্ন বিভিন্ন সড়কে ব্যবসায়ীরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ২০১৯ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হয় চারঘাট। বর্তমানে পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে প্রায় ০১ হাজার দোকানসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ দোকানই দাঁড়িয়ে আছে ফুটপাত দখল করে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার পৌর এলাকার চারমাথা মোড় থেকে বানেশ্বর রোড, বাঘা রোড, আড়ানী রোড ও সরদহ বাজারসংলগ্ন সড়কগুলো ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানদার সামনের ফুটপাত দখল করে রেখেছে। কেউ বে বসিয়ে আবার কেউ দোকানের মালামাল ফুটপাতের ওপর রেখে এ দখল বজায় রেখেছেন। অন্যদিকে চারঘাট-বাঘা রোডে হোটেলের পাশের প্লাস্টিকের দোকানগুলো ফুটপাত দখলে আরো বেশি বেপরোয়া।

পৌর এলাকার বাসিন্দা শামিমা বেগম ও আফরোজা খাতুন অভিযোগ করেন, এমনিতেই রাস্তাগুলো অপ্রশস্ত। ভ্যান, নছিমন আর মোটরসাইকেল রাস্তার ওপরই রাখা থাকে। ফুটপাত দিয়েও হাঁটার উপায় নেই। করোনার মধ্যে বাজারে আসলে সামাজিক দুরুত্ব রক্ষার উপায় নেই। চলাচলে দারুণ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

চারঘাট থানা কমিউনিটি পুলিশিং এর সাধারন সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, ফুটপাত দূরে থাক, চারমাথা মোড় থেকে বাঘা ও বানেশ্বর রোড এবং আড়ানী রোড এলাকায় কারও শরীরে ধাক্কা না খেয়ে হাঁটা সম্ভব না। তিনি অভিযোগ করেন, পৌর কর্তৃপক্ষ পৌরবাসীর স্বার্থ না দেখে ব্যবসায়ীদের স্বার্থ দেখে। তাই দিনের পর দিন এ অবস্থা চললেও পৌর কর্তৃপক্ষ ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না। ফলে কোটি টাকায় নির্মিত ফুটপাত সাধারন জনগনের কোনো কাজে আসছে না।
ফুটপাত দখল করে দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চালানো অন্তত ১০ জন ব্যবসায়ীর সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা বলেন, দোকানের জায়গা সীমিত। তাই বাধ্য হয়েই দোকানের সামনের ফুটপাতে তাঁরা মালামাল রাখেন। তবে তাঁরা স্বীকার করেন, এভাবে ফুটপাত আটকে রাখাটা তাদের ঠিক হচ্ছে না।

এ বিষয়ে চারঘাট পৌরসভার মেয়র জাকিরুল ইসলাম বিকুল বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময়ে মাইকিং করে ফুটপাতে বসা দোকানিদের ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিই। কিন্তু তারা নির্দেশনা শোনেন না। জনগণের অসুবিধা করে আমরা কোনোভাবেই ফুটপাত দখল করে রাখতে দেব না। খুব শিগগিরই আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান শুরু করব।’

বরেন্দ্র বার্তা/ অপস

Close