মহানগরশিরোনাম-২শিশু বার্তা

রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতন, থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে শাহরিন (৮) নামে এক শিশুকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করেছে প্রতিবেশীরা। এ নিয়ে রাজপাড়া থানায় একটি মামলা দায়ে করা হয়েছে। শাহরিন রাজশাহী ক্যান্টমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে স্ট্যান্ডার্ড-২ তে লেখাপড়া করে। সে একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তারা বরেন্দ্র আবাসিক বিল্ডিং-ক/২-৩০৩-৩০৪ এর তৃতীয় তলায় বসবাস করেন। এ নিয়ে শাহরিনের মা সানজিদা আকতার বাদী হয়ে রাজপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন একই আবাসিক এলাকায় চলতি মাসের ২০ তারিখ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আসামী তারেকের ছেলে নাজমুল (১৭) মা নাজনিন (৩০) ও বাবা তারেক (৪০) সবাই মিলে অতর্কিতভাবে বরেন্দ্র আবাসিক গ্যারেজের সামনে হত্যার উদ্যেশ্যে ছেলে শাহরিনকে কিল ঘুষি মারে এবং পাকা দেয়ালের সাথে নিয়ে উপর্যপুরি মাথায় আঘাত করে। এক পর্যায়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে তার গলায় থাকা সাত আনা ওজনের চেইন এবং আঙ্গুলে থাকা দুই আনা ওজনের আংটি কেড়ে নেয়। যার মূল্য ৩১,৫০০টাকা।
তিনি আরো উল্লেখ করেন মারপিট করার সময় শিশু শাহরিনের চিৎকারে আবাসিকে বসবাসরত এরশাদের স্ত্রী মঞ্জিলা, জাকিরের ছেলে জিহাদ, রমজানের ছেলে রিয়াদ, চান এর ছেলে আকিব ও আজিমুদ্দিন এর ছেলে শাকিব এগিয়ে আসলে সবাইকে মেরে ফেলার হুমখী দেয় আসামীগণ। এক পর্যায়ে শিশু শাহরিন অজ্ঞান হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে। খবর পেয়ে তিনি ছুটে গিয়ে ছেলেকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতলে নিয়ে জরুরী বিভাগে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান।
সানজিদা মামলায় আরো উল্লেখ করেন, ডাক্তার দ্রুত শাহরিনকে চিকিৎসা দেন এবং বলেন, এই রকম আঘাতে শিশুর ব্রেইন ড্যামেজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শুধু শিশু শাহরিনকে মেরেই তারা ক্ষ্যান্ত হয়নি পরের দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিবাদী পক্ষ পুণরায় দলবল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহকারে কোয়াটারে এসে এ বিষয়ে কাউকে না বলার জন্য শাসায় এবং বললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকী দেয় । সেইসাথে সন্ত্রাসীরা বাড়ির ভেতরে থাকা কাঁচের গ্লাস ও থালা কেশ কিছু আসবাবপত্র ভাঙ্গচুর করে বাসার ছাদের দিকে চলে যায়। এ নিয়ে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতার ভূগছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করেন।
বাদি সানজিদা বলেন, এক নম্বর আসামীর মা নাজনিন বিএমডিএ তে পিয়ন পদে কর্মরত আছেন। নাজনিন তাদের রোপনকৃত আমগাছ দখল করতে চায়। এনিয়ে পূর্বে তাদের সাথে বাকবিতন্ডা হয়। এ জেরে সন্তান শাহরিনকে তারা সবাই মিলে মারে। তিনি আরো বলেন, নাজনিন এর তার দাপটে এই আবাসিকে বসবাস করাই দায় হয়ে পড়েছে। আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তশূলক শাস্তির দাবী জানান সানজিদা।
এ বিষয়ে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনহার্জ (ওসি) শাহাদত খান এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলার কপি বাদি দিয়ে গেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।

বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/অপস

Close