বাগমারাশিরোনাম

করোনাকালে বাগমারায় মাদকের হাট জনজীবন অতিষ্ঠ, প্রশাসন নিরব

 

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: করোনা আংতকের মধ্যেও রাজশাহীর বাগমারায় অবাধে চলছে মাদকের হাট, এতে জনজীবন অতিষ্ট কিন্তু প্রশাসন নিরব ভূমিকা পালন করছে।
বিভিন্ন সূত্রে ও সরজমিনে জানা যায়, রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রেতাদের যেন হাট বসেছে। পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাদেরকেও জানিয়ে কোন কাজ হচ্ছে না এমনটি বলছেন এলাকার মানুষ।
একটি সংঘবদ্ধ চক্র কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত পথ পাড়ি দিয়ে তানোর ও মোহনপুর হয়ে বাগমারার হাটখুজিপুর, হাটগাঙ্গোপাড়া, নরদাশ, বাইগাছা, মচমইল এলাকায়, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে হাট চকগৌরি, দামনাশ, শিমলা, বাধেরহাট, জোলাপাড়া ও বড়বিহানালীহাটে, বগুড়া ও নাটোর হয়ে তাহেরপুর, হামিরকুৎসা, গোয়ালকান্দির মির্জাপুর, কনোপাড়া, দক্ষিণ সাজুঁড়িয়া, রামরামা, কামারখালী, চেউখালী, দেউলা, মোহনগঞ্জ ও মাদারীগঞ্জ হাটে এবং নওগাঁর আত্রাই হয়ে শিকদারী, মাড়িয়া ইউনিয়নের গাঙ্গপাড়া বাজার, ঝিকরা ও ভবানীগঞ্জসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হেরোইন, ফেন্সিডিল, অ্যালকোহল, আফিম ও গাজাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদ্রক সামগ্রী এবং যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ইয়াবা সরবরাহ করছে। আর হাতের নাগালে সহজেই মাদক ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ইয়াবা পাওয়ায় বড়দের পাশাপাশি স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ উড়তি বয়সের যুবকরাও তা অবাধে সেবন করছে। এতে যুবসমাজ চরমভাবে বিপদগামী হয়ে পড়ছে।
এই পরস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন ও দুঃচিন্তার মধ্যে রয়েছেন।
তাহেরপুর পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ বলেন, পুলিশ র‌্যাব ইচ্ছা করলেই এই মাদক বিক্রেতাদেরকে গ্রেফতার করতে পারেন। যে ভাবে মাদক দ্রব্য বাগমারা এলাকায় ব্যাপক ভাবে বিস্তার লাভ করছে এটা যদি আমরা প্রশাসনের মাধ্যমে রুখতে পারি তবে সন্ত্রাস সহ বিভিন্ন অপকর্ম রোধ করতে পারব এবং বাংলাদেশ আরও উন্নত দেশে রুপান্তরিত হবে বলে আমি মনে করি। আওয়ামীলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন মৃধা বলেন, পুলিশ ও র‌্যাব পারেনা এমন কাজ নেই, তবে কেন মাদকের বিরুদ্ধে এত অবহেলা। গোয়াকান্দী ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা ও আলু ব্যবসায়ী আঃ সালাম বলেন, মাদক আমাদের এলাকায় মহামারী আকার ধারন করেছে। পুলিশ ও র‌্যাবের প্রতি আমাদের আকুল আবেদন এখনই মাদকের বিরুদ্ধে জরুরী পদক্ষেপ নেওয়া হোক। গোয়াকান্দী ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু মোল্লা বলেন, ভাই সাংবাদিকেরা আপনারা কি করেন আমাদের এলাকা সহ মাড়িয়া ও গাঙ্গপাড়া বাজারে প্রতিদিন শত-শত মাদক ক্রেতা ও সেবনকারীরা একত্রিত হয়ে মাদক সেবন করছে তা দেখার কেও নেই, আপনারা এর বিরুদ্ধে লেখা-লেখি করেন। এদিকে বাগমারা মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধ কমিটির আহ্বায়ক ও তাহেরপুর আঞ্চলিক প্রেসক্লাবের সভাপতি এস.এম সামসুজ্জোহা মামুন বলেন, বাগমারা এলাকায় অনেকে মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পান, এলাকায় মাদক সেবিরা যে ভাবে ব্যাপরোয়া হয়ে উঠেছে এতে করে এখনই মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার না হলে সন্ত্রাসিরা মাথাচাড়া দেবে বলে আমি মনে করি। আর তাই বাগমারা মাটি ও মানুষের বেচেঁ থাকার সার্থে এখনই মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যাবস্থা নেওয়ার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি র‌্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের।

ঝিকরা গ্রামের বাসিন্দা এ্যাডভোকেট আফতাব উদ্দিন আবুল, নন্দনপুর টেকনিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, পীরগঞ্জ টেকনিক্যাল কলেজের প্রভাষক আব্দুর রউফ লিটন এবং ভবানীগঞ্জ বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবু তালেব বলেন, এলাকার কোথায়, কোন বাড়িতে, কখন ও কিভাবে মাদক ব্যবসা চলে সে সম্পর্কে পুলিশও অবগত। অথচ রহস্যজনক কারণে পুলিশ তা বন্ধের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেয় না।

বাইগাছা এলাকার এক কলেজ শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, কয়েক দিন আগে এলাকার এক চিহ্নিত মাদক বাবসায়ীকে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্যসহ পুলিশ আটক করলেও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। বাগমারা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আল মামুন অভিযোগ করেন, বুধবার দুপুরে হাটগাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাকশৈইল গ্রামের শাহিন ও পারদামনাশ গ্রামের মোজাহার আলীকে বাড়ি থেকে আটক করে ক্যাম্পে নিয়ে আসে। এরপর তাদের কাছে মোটা অংকের অর্থ দাবি করা হয়। টাকা না দেয়ায় দামনাশ বাজার থেকে ৬০ লিটার চোয়ানীসহ তাদের আটক করা হয়েছে বলে গ্রেফতার দেখিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে আটককৃত শাহিন ও মোজাহার আলীর বিরুদ্ধে মাদক আইনে সুনির্দিষ্টভাবে মামলা হওয়ায় তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে হাটগাঙ্গোপাড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম দাবি করেন।

এদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অতিমাত্রায় মদপানে ১৫ মাদকসেবীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে একজন কলেজ শিক্ষক, একজন পল্ল­ী চিকিৎসক, একজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী, দু’জন এনজিও কর্মী, দু’জন ট্রলি ড্রাইভার, একজন সিএনজি চালক, দু’জন ব্যবসায়ী ও দু’জন দিনমজুর রয়েছেন। গণমাধ্যমে এ খবর প্রকাশের পর পুলিশ বাগমারায় মাদক বিরোধী অভিযান শুরু করে। এ অভিযানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৭ জন মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক সেবীকে আটক করা হয়। তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতিতে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান বন্ধ রয়েছে। আর এই সুযোগে মাদক কারবারীরা এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ফলে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে ও পাড়া-মহল্লায় মাদক ব্যবসা আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান বলেন, করোনা আতংকের মধ্যে থেকেও মাদক কারবার বন্ধের জন্য পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিতভাবে টহল দিচ্ছে।

বাগমারা উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরিফ আহম্মেদ বলেন, মাদক ব্যবসা বন্ধের জন্য শুধু পুলিশের উপর নির্ভর না করে গ্রাম পর্যায়ে সামাজিকভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। কারণ সমাজের লোকজন সচেতন না হলে এটা নিয়ন্ত্রন করা কখনই সম্ভব হবে না। এ ব্যাপারে রাজশাহী র‌্যাব-৫ এর সিও এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল রিসিভ করে ব্যাস্ত আছি বলে মোবাইলফোন কেটে দেওয়ায় তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বরেন্দ্র বার্তা/সরা/অপস

Close