সাহিত্য ও সংস্কৃতি

ভালোবাসার দাবানল

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি

 

রাত ২ টা বেজে ৪৫ মিনিট। পুরো শহর এখন ঘুমন্ত।অথচ আমার চোখে ঘুম নেই।তাই বাহিরে চাঁদের আলোতে ঘুরতে গেলাম।কিন্তু প্রচন্ড শীতে আর সম্ভব হলো না।তা ছাড়া চাঁদের মৃদু আলো পত্র পল্লবের উপর অপূর্ব জোছনা বর্ধন করেছে।মনে হচ্ছে সে আলো পৃথিবীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যককে ভালোবাসার পরশ বুলিয়ে আলিংগন করছে।হঠাৎ নিজের অজান্তেই কেনো জানি তোমার কথা মনে পড়লো।তাই ঘরে এসে কাগজ কলম নিয়ে বসলাম তোমার উদ্দেশ্যে।প্রথমেই সুন্দর এক প্রান্তর বণানী ঘেরা গ্রামের জীর্ণ কুটিরে বাস স্মরনের আল্পনা থেকে জানাই মনপ্রান নিংড়ানো অন্তরের অন্তঃস্থলের ভালোবাসা।
তুমি আমাকে নিষ্ঠুর হতে নিষেধ করেছিলে।কিন্তু প্রশ্ন, নিষ্ঠুর আমি না প্রকৃতি?
দীর্ঘ কয়টি বসন্তের পর অনেক চড়াই উৎরায় পার হয়ে আকাৎক্ষিত বস্তুটি পেলাম ঠিক,কিন্তু নিষ্ঠুর প্রকৃতির কৃপণ হাতের ধারায় তা আমার কাছ থেকে অনেক দূরে সরিয়ে দিলো।
দুরত্বের ব্যবধানে ভুলে থাকার চেষ্টা করি।তবুও তোমার সেই মুখ, হাসি এবং প্রতিচ্ছবি আমাকে বার বার হাতছানি দিয়ে ডাকে।
তোমার ডাক শুনে মনে পড়ে সেই স্মৃতি জড়ানো অতীতের দিনরাতগুলির কথা আর তখন সমস্ত দেহ মনে যন্ত্রনার অন্ধকারে নিজেকে নিঃসঙ্গ মনে হয়।কিন্তু কেনো এমন হয় বলতে পারো?
আগে তো এমন হতো না।অথচ তোমাকে একান্ত আপন করে পাবার পর থেকে ভালোবাসার ব্যাথা ও বেদনা সব সময় আমাকে আঁকড়ে ধরেছে।শত চেষ্টা করেও দূরে সরাতে পারছি না। বার বার রবীন্দ্র সংগীত “সখি ভাবনা কাহারে বলে,সখি যাতনা কাহারে বলে।”মনে পড়ছে।
মনে হচ্ছে তুমি সত্যি এক জাদুকর।তোমার জাদুর দাবানলে পড়ে আমি কোনো কাজে মন বসাতে পারছিনা।এক কথায় ক্ষুদা, ঘুম, শান্তি সবই যেনো হারিয়ে গেছে।আমি পারছি না আমার আমিতে ফিরে যেতে।
জানি না ভালোবাসার এই দাবানলে আমাকে কত দিন পুরতে হবে!

Close