গোদাগাড়িতানোরশিরোনাম-২

কাঁকনহাট পৌরসভার বহিস্কৃত কাউন্সিলর চরমপন্থি কাফী মেয়র হওয়ার স্বপ্নে বিভোর

নিজস্ব প্রতিবেদক: একজন কাউন্সিলরের সমালোচিত কর্মকান্ড ও অসহযোগিতার কারণে ব্যাহত হচ্ছে রাজশাহীর কাঁকনহাট পৌরসভার উন্নয়ন কাজ। সর্বশেষ পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর একজন কাউন্সিলরের কর্মকান্ড উন্নয়ন কাজকে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্থ করছে। অভিযুক্ত পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আব্দুল্লাহিল কাফি চরমপন্থি হিসেবে আত্মসমর্পণ করেছেন। ২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল পাবনার শহীদ আমিন উদ্দিন স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁনের নিকট সর্বহারা কাফী আত্মসমর্পণ করেন। সেদিন দেশের ১৪ জেলা থেকে মোট ৫৯৫ জন সর্বহারা ক্যাডার আত্মসমর্পণ করেন। তার এই খবর এলাকায় জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়ে। তাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন পৌরসভার সাধারণ নাগরিকরা। কাউন্সিলর কাফী ২০১৭ সালে পৌরসভার ভিজিএফ এর গম বিতরণের সময় হামলা চালানোর দায়ে গ্রেপ্তারও হন। ঐ ঘটনায় দ্রুতবিচার আইনে মামলাও হয়।
জানা যায় কাফী ২০০৮ সাল থেকে আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের কোন কমিটিতেই নাই। তিনি একজন বহিস্কৃত ব্যক্তি। তার সাথে আওয়ামী লীগের ও অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের কোন প্রকার সম্পর্ক নাই। এমনকি তিনি কোন পদেও নাই। সেইসাথে তিনি কোন প্রকার কর্মীও নন। তা সত্বেও তিনি জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয়, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খাইরুজ্জামান লিটন ও তানোর-গোদাগাড়ী আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ওমর ফারুক চৌধুরীর ছবি ব্যবহার করে ফেস্টুন বানিয়ে কাঁকনহাট পৌরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা ও আগামী নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসেবে দোয়া ও সমর্থন চেয়েছেন। শুধু তাইনয় স্থায়ীভাবে বরখাস্ত হওয়া সত্বেও পৌরবাসীকে ধোকা দেয়ার জন্য নিজেকে ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দাবী করে ফেস্টুনে লিখেছেন।
পৌরবাসী কাফীর এই ধরনের আচরণকে থোকা বলে দাবী করেন। তারা বলেন, তিনি তো একজন চরমপন্থী ব্যক্তি। মানুষের অন্যায় করে খাওয়া যার কাজ। সে আবার মেয়র হয় কি করে। জনগণ এতো মাথামোটা হয়নি যে, একজন সন্ত্রাসীকে সমর্থন দেবে। এ বিষয়ে কাঁকনহাট পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ন কবীরের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সাথে কাফীর কোন সম্পর্ক নাই। তিনি দলের কর্মীও নন। ২০০৮ সালে শৃংখলা ভঙ্গের কারনে তাকে দলের সকল প্রকার কর্মকান্ড থেকে বহিস্কার করা হয়। তিনি আরো বলেন, কাফী যা করছে তা ব্যক্তিগতভাবে করছে। এটা দলের কোন সিদ্ধান্ত নয়। কারন কাফী দলের কেউ না। তিনি স্থায়ীভাবে বহিস্কৃত। তিনি যে ভাবে সকলের ছবি ব্যবহার করেছেন এ বিষয়ে পৌর আওয়ামী লীগ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। কারন তিনি একজন সন্ত্রাসী ও চিন্থিত চরমপন্থী। এ ধরনের লোকের আওয়ামী লীগ, অঙ্গ সহযোগি সংগঠনের কোথাও ঠাঁই নাই বলে জানান হুমায়ন।
কাঁকনহাট পৌর যুবলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন শওকত বলেন, কাফী আওয়মী লীগ তথা অঙ্গ সংগঠনের কেউ নয়। এমনকি তিনি কাউন্সিলর থেকেও স্থায়ীভাবে বহিস্কৃত। তিনি এইভাবে সবার ছবি দিয়ে ফেস্টুন কিংবা পোস্টার করতে পারেন না। বর্তমান কাঁকনহাট পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম বলেন, কাফীর সাথে আওয়ামী পরিবারের কোন সম্পর্ক নাই। বহুদিন পূর্বে তিনি পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের কারনে তাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়। এর থেকে কাফীর আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের সাথে কোন সম্পর্ক নাই। ফেস্টুন তৈরী করা সম্পর্কে তরিকুল বলেন, এই ধরনের সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী ব্যক্তি কিভাবে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, দলীয় প্রধান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছেলে জয়, রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম কায়রুজ্জামান লিটন ও তানোর-গোদাগাড়ী আসনের সংসদ সদস্যর ছবি ব্যবহার করে তার বোধগম্য নয়।
কাফী এধরনের কোন কাজ করতে পারেন না। এতে আওয়ামী লীগের ক্ষতি করছেন তিনি। কারণ কোন সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীর দলের কোথাও ঠাঁই নাই। এটা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রীর শেখ হাসিনার নির্দেশ বলে জানান তিনি। তিনি দলীয় কোন নেতার ছবি ব্যবহার করতে পারেন না। দ্রুত সময়ের মধ্যে তারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তরিকুল।
এদিকে গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ বলেন, কাফী উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের কোন পদে নাই। তিনি উপজেলা পর্যায়ের কোন নেতা নন। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, সজিব ওয়াজেদ জয়, রাসিক মেয়র ও স্থানীয় সংসদ সদস্যর ছবি ব্যবহর করে ফেস্টুন তৈরী করে কাঁকনহাট পৌরসভার দিয়েছেন তা তিনি জানেন না। কাফী উপজেলার নেতা হলে ব্যবস্থা নিতেন। তবে পৌরসভার সভাপতি ও সাধারেণ সম্পাদক এ বিষয়ে তাঁকে অবগত করলে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান তিনি। ছবির বিষয়ে তিনি বলেন, অজ্ঞতা বশতঃ ও অনেকেই চাতুরাকার আশ্রয় নিয়ে এখন সাধারন একজন কর্মীও জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদের ছবি ব্যবহার করে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন তৈরী করছেন। কিন্তু এটা ঠিক নয়। বিশেষ করে স্থানীয় নেতাদের ছবি ব্যবহারের পূর্বে অনুমতি নেয়া প্রয়োজন বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, নমুনেশন যে কেউ চাইতে পারে। তার মানে এই নয় দল তাকে নমুনেশন দেবে।
এ বিষয়ে কাঁকহাট পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন। তবে স্থায়ীভাবে বহিস্কৃত বক্তি কোনভাবেই ওয়ার্ড কাউন্সিলর লিখতে পারেন না। এ বিষয়েও ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে পৌরসভা থেকে জানানো হবে বলে জানান তিনি। মেয়র আরো বলেন, আমার কাছেও তার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগই আসে। তার কর্মকান্ড পৌরসভার সুনাম ক্ষুন্ন করছে একথা সত্য। এনিয়ে আমাদেরকেও বিব্রত হতে হয়। এই পৌরসভার যে সুনাম রয়েছে সারাদেশে তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। এটা এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডের উপরেও প্রভাব পড়ছে।
উল্লেখ্য কাঁকনহাট পৌরসভা প্রতিষ্ঠা হয় ২০০২ সালের ১৪ নভেম্বর। ভালোই চলছিলো কার্যক্রম। ২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি এটিকে গ শ্রেনী থেকে খ শ্রেনীতে উন্নীত করা হয়। পরবর্তিতে পৌরসভাটি ‘ক’ শ্রেনীতে উন্নিত হয়। কিন্তু সব শেষ ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর এই পৌরসভার উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন ৩ নস্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ হিল কাফী। তার বিভিন্ন কর্মকান্ড পৌরসভার সুনাম ক্ষুন্ন করছে সেই সাথে বাধাগ্রস্ত করছে উন্নয়ন কর্মকান্ড। সাম্প্রতিক সময়ে কাফির কর্মকান্ড নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা চলছে। একজন কাউন্সিলর হিসেবে তার যে আচরণ বা কর্মকান্ড করার কথা তা না করে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, চাঁদাবাজি, ভূমিদখলসহ বিভিন্ন অপকর্ম করে তিনি পৌরসভার সুনামও ক্ষুন্ন করছেন।
তার বিরুদ্ধে অগনিত অভিযোগ পৌরবাসির মুখে মুখে। পৌরসভা কর্তৃপক্ষকেও সাধারণ মানুষ এসব অভিযোগ করছেন। স্থানীয়রা জানান, বরেন্দ্র অ লের বৃহত হাট কাঁকনহাটে তিনি প্রকাশ্য চাাঁদাবাজি করেন। কাফী লাল সবুজ নামে একটি এনজিও করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে আত্মসাত করেন। গরীব অসহায় মানুষের অর্থ আত্মসাত করে। এলাকার দুস্থ আদিবাসি, গরীব মানুষকে ভালো লাভের আশ্বাস দিয়ে টাকা সংগ্রহ করে। পরে তাদের স য়ের টাকা আত্মসাত করেন কাফী । এতে পথে বসে এলাকার অগনিত অসহায় গরীব মানুষ। এনিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগের শেষ নেই। কিন্তু ভয়ে এনিয়ে খুব একটা চাপ দিতেও পারেনা ভুক্তোভোগিরা।
গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট রেলওয়ে স্টেশনের পাশেই লাল-সবুজের একমাত্র কার্যালয়। সম্প্রতি কাঁকনহাটে গিয়ে দেখা যায়, রেলস্টশনের পশ্চিম পাশে রেলের জমিতেই টিনশেড একটি বাড়ি তৈরি করেছেন কাফি। এই বাড়িটিই কথিত এনজিও লাল-সবুজের কার্যালয়। কাফীর লাল-সবুজ এনজিও নিয়ে ২০১৭ সালে এক তদন্ত প্রতিবেদনে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ নেওয়াজ লিখেছেন, একটি অভিযোগের সরেজমিন তদন্ত করতে গিয়ে দেখা যায়, ২০১৫ সালে উপজেলা সমাজসেবা অফিস এবং রাজশাহী সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে লাল-সবুজের নিবন্ধন করা হয়েছে। দুটি সরকারি দপ্তর থেকে একই নামে নিবন্ধন করাটা আইনের পরিপন্থি। কিন্তু তারপরেও এই সংস্থাটি ঋণ প্রদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটিও আইনের পরিপন্থি। সংস্থাটির কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণের প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরেজমিনে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আলাপ করে এ বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসারের ওই আশঙ্কায় সত্য হয়েছে। গ্রাহকদের আমানত গ্রহণ করে এখন তালাবদ্ধ লাল-সবুজ।
কাঁকনহাটের তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, কাফী কাউন্সিলর হওয়ার পর থেকে এলাকার কোনো উন্নয়ন হয়নি। পৌরসভা থেকে একবার ভিজিএফের চাল লুট করতে গিয়ে জনগণের রোষানলে পড়েন। বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তাকে ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে উচ্চ আদালত থেকে সেই আদেশ স্থগিত করে আনেন কাফী। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় হতে কাফিকে স্থায়ীভাবে কাউন্সিলর পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। তিনি এখন কাঁকনহাট পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জোর করে জমি দখল, পুকুর দখল করে মাছ মেরে নেওয়াসহ আরও নানা অভিযোগ রয়েছে কাফীর বিরুদ্ধে। বছর দুয়েক আগে জমি দখলকে কেন্দ্র করে কাফী রফিকুল ইসলাম নামের এক বৃদ্ধের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিলেন। জমি দখলের একটি মামলায় কিছু দিন আগে তার দুই বছরের কারাদন্ড হয়। এরপর তিনি কারাগারে যান। তবে জামিন নিয়ে এলাকায় ফিরেই আবার ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। তার কারণে তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারাসহ আশপাশের লোকজন সব সময় আতঙ্কিত থাকেন।
সাম্প্রতিক সময়ে প্রতারণা করে গোদাগাড়ী এলাকার একজন বিধবা নারীকে বিয়ে করেন কাফি। এনিয়েও চলছে কানাকানি। মরহুম শিক্ষক আক্তারুজ্জামানের স্ত্রীকে ভুলিয়ে প্রতারিত করে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পর তিনি কৌশলে ঐ নারীর ছেলের নামের একটি জায়গা কৌশলে বিক্রি করে দেন কাফি। নগরীর বহরমপুর এলাকার ঐ জায়গা বিক্রির পর এনিয়ে ঐ নারী ও তার সন্তানদের মধ্যে মনোমালিন্য তৈরী হয়। শেষ পর্যন্ত কাফির প্রতারণা ধরতে পেরে ঐ নারী কাফিকে ত্যাগ করে অন্যত্র বসবাস করছেন। এখনো ঐ জমি উদ্ধারের চেষ্টা করছেন ঐ নারী। তবে, কাফির ধুর্ত কমকান্ড সম্পর্কে কিছু প্রকাশ করতে তিনিও ভয় পান। কাউন্সিলর কাফি পৌর কাউন্সিলর নির্বাচিত হলেও স্থানীয় উন্নয়নে তার বিন্দুমাত্র প্রচেষ্টা নেই।
এনিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ তার উপর চরম ক্ষুব্ধ। কাফী নিজে এলাকার উন্নয়ন নিয়ে মাথা ঘামাননা আবার পৌর এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে নানান অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তথ্য মিলেছে। পৌরসভা সম্পর্কে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে উন্নয়নকে ধমকে দেয়ার চেষ্টা করছেন কাফী। তিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পরপরই পরিষদ ও পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ করেন দুর্নীতি দমন কমিশনে। পরবর্তিতে তদন্তে তার অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হয়েছে। এলাকার রাস্তাঘাট নির্মাণ নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দেন কাফী।
এনিয়ে পরবর্তিতে তদন্ত হয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের প্রতিনিধি গিয়ে এলাকায় এসব উন্নয়ন কর্মকান্ড তদন্ত করেন। কিন্তু এসব কাজে কোন ধরনের অনিয়মের কোন তথ্য পাননি প্রতিনিধি দল। অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হয়। এর প্রেক্ষিতে কাজের মান নিয়ে সন্তোষ জানিয়ে সনদপত্রও প্রদান করা হয়। তার বিরুদ্ধে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। কাফীর মিথ্যা অভিযোগের কারণে বিএমডিএফ কর্তৃক প্রত্যেক বাড়িতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের একটি বড় প্রকল্প মাঝ পথে বন্ধ হয়ে রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে রোববার দুপুরে আব্দুল্লাহীল কাফীকে ফোন করা হয়। বরখাস্ত হওয়ার পরও ফেস্টুনে কাউন্সিলর লেখা কেন, জানতে চাইলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তাই এ ব্যাপারে তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বরেন্দ্র বার্তা/ ফকবা/ নাসি

Close