চাঁপাই নবাবগঞ্জশিরোনাম

নাচোলে সংখ্যালঘুর বসত বাড়ি ভাঙ্গার অভিযোগে ইউএনও সহ ৭জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবদেক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে গরীব অসহায় ও সংখ্যালঘুর বসত বাড়ি ভাঙ্গার অভিযোগ এনে ক্ষতিপূরণ দাবি চেয়ে মামলা করেছেন ভুক্তভোগি। সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) এ বসতবাড়ি ভাঙ্গা সহ বাড়ির ক্ষতিপূরণ চেয়ে নাচোল উপজেলার গনইর গ্রামের মৃত:গোলাম মোহাম্মদ এর ছেলে মুকুল বাদী হয়ে এ মামলা দ্বায়ের করেন। যাহার মামলার নং-০১/২০২০।
নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন তিনি। মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, নাচোল উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মাহামুদুল হাসান, ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, গনইর এলাকার মৃত:ইউনুস আলীর ছেলে খালেক, জিল্লুর রহমান, জিল্লুর রহমানের ছেলে ইউসুফ ও আব্দুস সালাম।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে , উপজেলার গনইর গ্রামের হাল দাগ ১৬, পরিমান ০.০৪শতক জমির উপরে মৃত-গোলাম মোহাম্মদের ছেলে মুকুল দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। গনইর গ্রামের মুকুলের বাড়ির দক্ষিণ দিকে সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন মৃত- কষ্টধর এর ছেলে রঞ্জিত বর্মন। কিন্তু একই এলাকার খালেক নামে (অব:পুলিশ সদস্য) এক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, মুকুল ও রঞ্জিত খাসজমিতে রাস্তার উপর বাড়ি করে বসবাস করছেন। তাদের কারনে আমার যাতায়াতাতের ব্যাঘাত ঘটছে।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২০ জুলাই সোমবার বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানার নির্দেশে নাচোল ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মাহামুদুল হাসান ও তহশীলদার রফিকুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ২৫/৩০জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে মুকুল ও রঞ্জিত বর্মনের তফশীল বর্নিত জমির উপর নির্মিত ৮০ বছরের পুরাতন বাড়িতে হামলা চালিয়ে অর্ধেক বাড়ি ঘর ভেঙ্গে ফেলে। অন্যদিকে রঞ্জিত বর্মণের নতুন টিনের চালা ঘর ও দেওয়ালের প্রাচীর ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয় তহসিলদার রফিকুল ইসলাম।
এজাহরে আরো উল্লেখ করা হয়, কোন নোটিশ ছাড়া এত বছরের পুরাতন বাড়ি ভেঙ্গে ফেলা ক্ষমতার চরম অপব্যবহার ও সীমাহীন দুর্নীতি। বাড়ি ভাঙ্গার সময় ভুক্তভোগি মুকুল ও রঞ্জিত বর্মন বাঁধা দিতে গেলে সার্ভেয়ার মাহামুদুল হাসান ও তহশলিদার রফিকুল ইসলাম একলক্ষ টাকা দাবি করেন এবংএ মুহুর্তে টাকাটা দিলেই বাড়িভাঙ্গা বন্ধ করা হবে। এ সমেয় তারা বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানার নির্দেশ। তারা আরো বলেন, বর্তমান উপজেলা নির্বাহী যেদিকে তাকান সেদিক মরুভূমি হয়ে যায় বলে তারা হুমকী দেন। সেইসাথে টাকা না পেলে বাড়ির বাকি অংশ আবার ভেঙ্গে দেবেন বলে তারা হুমিয়ারী দিয়ে চলে যান।
ঘটনার কয়েকদিন পর সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) এ বসতবাড়ি ভাঙ্গা সহ বাড়ির ক্ষতিপূরণ ২ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা দাবি করে মুকুল বাদী হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে এ মামলা দায়ের করেন। তিনি বলেন, তারা গরীব মানুষ। বাড়ির জায়গাটুকুই তাদের শেষ সম্বল। নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার অবঃপুলিশ সদস্য খালেকের ইশারায় এসব তান্ডব চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, কোন রকম নোটিশ এবং কোটের উচ্ছেদ অভিযানের আদেশ ছাড়াই এমন হীন তান্ডব চালিয়েছেন ইউএনও।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যেখানে গৃহহীনদের ও ভূূূমিহীনদের পূর্নবাসনের জন্য কাজ করছেন, সেখানে কোন ধরনের সরকারি নিয়ম না মেনেই অসহায় লোকজনের বাড়ি ভাঙ্গাটা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন করেন মুকুল। সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই এমন কা- ইউএনও করেছেন বলে জানান তিনি। আদালতে নায্য বিচার পাবেন বলে তিনি এই মামলা করেছেন। দোষিদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির প্রদানের জন্য অনুরোধ করেন মুকুল।
বসত বাড়ি ভাঙ্গা বিষয়ে নাচোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবিহা সুলতানা বলেন, অবৈধভাবে বাড়ি ভাঙ্গা হয়নি। তারা খাস জমির উপর বসবাস করছেন। এছাড়াও মানুষের চলাচলের রাস্তা দখল করে বাড়ি করেছেন। জনস্বার্থে তিনি বাড়ির কিছু অংশ ভেঙ্গে দেয়ার নির্দেশ দেন। তাঁর নির্দেশ মোতাবেক কাজ হয়েছে। এ নিয়ে বিবাদীরা কিভাবে ক্ষতিপুরণ দাবী করেন? এই মামলায় বিবাদীগণ নিজের বিপদ নিজেরাই ডেকে এনেছেন বলে জানান ইউএনও।
বরেন্দ্র বার্তা/ ফকবা/ নাসি

Close