গোদাগাড়িশিরোনাম-২

কবরস্থান রক্ষার্থে গোদাগাড়ীতে আদিবাসীদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: গোদাগাড়ীর রিশিকুল ইউনিয়নের সামনে নিজেদের শত বছরেরও বেশী পুরোনো কবরস্থান রক্ষা করতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেছে আদিবাসী জনগণ। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানববন্ধনে গোদাগাড়ী থানা পারগানা বাইসির সভাপতি বাবুলাল মুর্মু, কোশিয়া কাদাপুকুর এলাকার আদিবাসী নেতা পরমেশ্বর, চুড়ামন হেম্ব্রম, নিমাই সরেন, সুনিল হেম্ব্রম, লক্ষীরাম টুডু, ধনাই মুর্মু, শিউলি সরেন, মিনতি মার্ডি, মনি মার্ডি, নাচোন টুডু, বাহামনি হেম্ব্রম, হুপনী সরেন ও তুষমনি কিস্কসহ শত শত নারী পুরুষ এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন থেকে তারা শতাধিক বছরের পুরোনো কবরস্থান দখলের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনী ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ করেন।
তারা বলেন, মৌজা-কোশিয়া, জে.এ নং-১২৭, দাগ-৬৭১, খতিয়ান নং-২২০,১৬১,৭৭, পরিমান ৩একর ১৫ শতক। অত্র কবরস্থানের জমি জমিদার ব্রজেন্দ্র মোহন মৈত্র, শরৎ গোবিন্দ সাহা ও গোপাল সরকারের। এই জমির মালিকগনের কোন প্রকার হদিস নাই। কিন্তু বিবাদী কোশিয়া গ্রামের আছের আলী ছেলে আরজেদ আলী(৫০), ওয়াজেদ আলীর ছেলে শাজাহান আলী (৪৫), ও রাজপাড়া থানাধীন হড়গ্রাম নতুনপাড়ার মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে মতিউর রহমান য়ড়যন্ত্র করে তাদের কবরস্থান দখল করার চেষ্টা করছে।
এর সূত্র ধরে চলতি মাসের ২ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিক হতে ভোর পর্যন্ত যে কোন সময় কবরস্থান দখল করার উদ্দেশ্যে মতিউর রহমানের নির্দেশে কবরস্থানের বাঁশের বেড়া ভেঙ্গে ফেলে। সেইসাথে পিলার, ৫০টি মেহগনি ও ২০টি আমগাছসহ অন্যান্য চারাগাছ এবং বাঁশ তুলে পাশের খাড়িতে ফেলে দেয় বলে জানান তারা। পরের দিন সকালে এই অবস্থা দেখে বিবাদীগণকে জানালে তারা তাদের প্রাণে মেরে ফেলা ও মামলা দিয়ে হয়রানী করার হুমকি দেন বলে জানান। এঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদিবাসী জনগণ কাঁকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে আদিবাসীদের পক্ষ থেকে চুড়ামন হেম্ব্রম বাদি হয়ে এ মাসের ৭ তারিখ একটি অভিযোগ দায়ে করেছেন বলে জানান মানবন্ধন থেকে।
এ বিষয়ে স্থানীয় রিশিকুল ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংশা করার জন্য উভয়কে পরিষদের ডেকে কাগজপত্র দেখেন। বিবাদী মতিউর প্রকৃত কাগজপত্র দেখাতে না পারায় সঠিকভাবে বিষয়টি সুরাহা না পর্যন্ত মতিউরকে কবরস্থানে যেতে নিষেধ করেন। কিন্তু মতিউর তার কথা অমান্য করে এই কাজ করেছেন বলে জানান তিনি। এখন আইন শৃংখলা বাহিনী এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান চেয়ারম্যান।
এদিকে কাঁকনহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আব্দুল লতিফ বলেন, তিনিই আজকেই সেখানে জয়েন্ট করেছেন। তবে অভিযোগটি দেখে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
এ বিষয়ে মতিউর রহমানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই জমি আদিবাসীদের নয়। তবে সেখানে আদিবাসীদের একটি কবরস্থান আছে। কবরস্থানের পাশের জমিটি মসজিদের। কিন্তু আদিবাসীরা কবরস্থানের নামে ঐ জমিও দখল করে গাছ রোপন করেছে। তিনি রাজশাহীতে থাকেন এখান থেকে বেড়া ভাঙ্গা বা গাছ কাটা সম্ভব নয়। আর কাউকে হুকুমও দেননি বলে জানান মতিউর রাহমান।
বরেন্দ্র বার্তা/ ফকবা/ নাসি

Close