নাগরিক মতামতশিরোনাম-২

আশুরার রোজার গুরুত্ব,ফজিলত এবং এই দিনের ঘটে যাওয়া ঐতিহাসিক কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা

এস.এম .আব্দুল্লাহ্

 

মহান আল্লাহ তায়ালা রমযান মাসের রোযা ফরজ করেছেন পাশাপাশি রমজানের বাইরে ও অনেক ফজিলতপূর্ণ রোজা আছে।তার মধ্যে অন্যতম আশুরার রোজা।ইসলামের প্রাথমিক সময়ে আশুরার রোজা ফরজ ছিলো। দ্বিতীয় হিজরিতে যখন রমজান মাসের রোজা ফরজ হয় সেই সময় থেকে আশুরার রোজা ঐচ্ছিক হিসেবে বিবেচিত হয়।

রাসূলুল্লাহ (সা.) এই রোজা নিজে পালন করেছেন। উম্মতকে রাখার প্রতি উৎসাহিত করেছেন। আর এই রোজা অনেক ফজিলতপূর্ণ।
আবু কাতাদা (রা.) সূত্রে বর্ণিত, রাসূল (সা.)-কে আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘এই রোজা বিগত বছরের গুনাহ মুছে দেয়।’ (মুসলিম, হাদিস: ১১৬২)
এর মহান ফজিলত সম্পর্কে আরো বর্ণনা পাওয়া যায়।যেমন: ‘আশুরা দিবসের সাওম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছিলেন, এর ফলে আগের বছরের গোনাহ মাফ করে দেয়া হয়।’ (মুসলিম: ১/৩৫৮)
এই রোযা অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ রোযা অনেক গুরুত্বের সাথে রাখতেন।তা আমরা হাদিস থেকে জানতে পারি।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘আমি রাসূল (সা.)-কে রমজান ও আশুরায় যেরূপ গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রাখতে দেখেছি, অন্য সময় তা দেখিনি। (বুখারি: ১/২১৮)
ঐতিহাসিক ভাবে এই দিনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ।এই আশুরার দিনে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে।যেমন এই দিনে মানবজাতির আদি পিতা হজরত আদমকে (আ.) কে আল্লাহ প্রতিনিধি হিসেবে সৃষ্টি করেছেন।তাকে জান্নাতে অবস্থান,পৃথিবীতে প্রেরণ ও তওবা কবুল সবই আশুরার এই দিনে সংঘটিত হয়।
হজরত নূহ (আ.) সাড়ে ৯শ’ বছর তাওহিদের দাওয়াত দিয়েছেন তারপরও যখন পথহারা জাতি আল্লাহর বিধান মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়; তখন তাদের প্রতি নেমে আসে আল্লাহর গজব মহাপ্লাবন। এই মহাপ্লাবনের ধ্বংসলীলা থেকে রক্ষা পায় তারা যারা আল্লাহ ও নবীর প্রতি বিশ্বাসী হয়ে হজরত নূহের (আ.) নৌকায় আরোহণ করে।ওই নৌকা ৪০ দিন পর জুদি পাহাড়ের পাদদেশে মাটি স্পর্শ করে ঐতিহাসিক আশুরার দিন।
এ দিনেই হজরত ইবরাহিমের (আ.) জন্মগ্রহন করেন এবং এই দিনেই তিনি ‘খলিলুল্লাহ’ উপাধিতে ভূষিত হন ও নমরুদের অগ্নি থেকে রক্ষা পান।
হজরত ইদরিসকে (আ.) বিশেষ মর্যাদায় চতুর্থ আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয় আশুরার দিনে। সুদীর্ঘ ৪০ বছর পর হজরত ইউসুফের (আ.) সঙ্গে তার পিতা হজরত ইয়াকুবের (আ.) সাক্ষাৎ যেদিন হয়- সে দিনটি ছিল আশুরার দিন।
এ দিনে আল্লাহ হজরত মূসা (আ.) ও তার অনুসারী বনি ইসরাইলিদের ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্ত করে পানির মধ্যে রাস্তা তৈরি করে দিয়ে পার করে দেন এবং ফেরাউনকে তার দলবলসহ সাগরে ডুবিয়ে মারেন।

পৃথিবীর অস্তিত্বের সঙ্গেও আশুরার দিনের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। আশুরার দিনেই আল্লাহতায়ালা সৃষ্টি করেছেন আকাশমালা, মর্তজগৎ, পর্বতরাজি, লওহ-কলম ও ফেরেশতাদের। এবং এই দিনেই কেয়ামত সংগঠিত হবে।আশুরার দিনে আল্লাহ নিজ আরশে আজিমে অধিষ্ঠিত হন। এভাবে পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এ দিনের সম্পর্ক।
এ ছাড়া ও আরো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে আশুরার এই দিনে।তাই ঐতিহাসিক ভাবে এই দিনটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক।
এই দিনে ইতিহাসে একটি নির্মম ঘটনা ঘটেছে।আশুরার দিনে হজরত রাসূলুল্লাহর (সা.) দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে সত্যের জন্য সংগ্রাম করে কারবালার প্রান্তরে সপরিবারে শাহাদত বরণ করেন।তিনি তার এই শাহাদাতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ত্যাগের অতুলনীয় আদর্শ রেখে গেছেন।

লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ

Close