ছবি ঘরপুঠিয়াশিরোনাম-২

স্বার্থান্বেষীদের প্রলোভনে চারঘাটের ওসির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: মামলা না নিয়ে হাজতে ঢোকানোর হুমকি দেয়ার অভিযোগ এনে চারঘাট থানার ওসি সমিত কুমারের বিরুদ্ধে রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন পারুল বেগম নামের এক নারী। অথচ পারুল বেগম চারঘাট থানার ওসি সমিত কুমার কুন্ডুর সাথে কখনও সাক্ষাৎ করেন নি। কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যাক্তির টাকার প্রলোভনে পারুল বেগম এরুপ নির্মম মিথ্যাচার করছেন বলে দাবী করেছেন স্থানীয়রা।

গত ১৫ বছর আগে চারঘাট উপজেলার তাতারপুর এলাকার পারুল বেগম তার মেয়ে আরিফার সঙ্গে একই এলাকার আকবর আলীর ছেলে শাহাবুল ওরফে সবরের বিয়ে দেন। দীর্ঘদিনের সংসারে আরিফা ও সাহাবুল দম্পতির ছেলে মেয়ে রয়েছে তিনটা।

এদিকে আরিফার মা পারুল বেগম গত দুই তিন বছরের ব্যবধানে প্রথম স্বামী আলাউদ্দীনকে ছেড়ে একাধিক বিয়ে করেছেন। সর্বশেষে স্বামী,সন্তান,নাতি, নাতনি রেখে মোস্তফা নামের নামের এক ব্যাক্তির সাথে পালিয়ে বিয়ে করেছেন। নিজ মায়ের এরুপ কার্যক্রমে কিছুদিন পূর্বে পারুল বেগমের ছেলে (আরিফার ভাই) আত্নহত্যা করেছে।

আরিফা সংসার জীবনে স্বামীর মাদক ব্যবসার কারণে পলাতক জীবন ও মা পারুল বেগমের বিভিন্ন কাজে অতিষ্ঠ ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ শে আগষ্ট (শুক্রবার) সকালে নিজ ভাইয়ের মত আরিফাও গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নহত্যা করেন।

আরিফার ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে ও মাদ্রাসায় পড়ুয়া ছেলে জানান, তারা প্রতিদিনের মত গত ২৭ শে আগষ্ট (বৃহস্পতিবার) রাত ০৮ টার দিকে পরিবারের সবাই মিলে একসাথে রাতের খাবার খায়। খাওয়া শেষে সবাই নিজ নিজ ঘরে ঘুমাতে যায়। সেদিন রাতে তাদের বাবা সাহাবুল বাড়িতে ছিল না। সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠে রান্না করার জন্য মা আরিফার ঘরের দরজায় গিয়ে তারা ডাকতে থাকে।

আরিফার মেয়ে আরো জানায়, ডাকাডাকির এক পর্যায়ে তার ছোট ভাই জানালা দিয়ে দেখে তার মা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে। পাড়া প্রতিবেশীদের খবর দিলে সিমেন্টের পিলার দিয়ে দরজা ভেঙে তাদের মা আরিফাকে নামানো হয়। বেঁচে আছে ভেবে স্থানীয়রা পানি ঢ়ালতে শুরু করে। কিন্তু ততক্ষণে তার মা মারা গেছে। তারপরে ফোনের মাধ্যমে চারঘাট থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে আরিফার বাবা আলাউদ্দীন আলী বাদী হয়ে চারঘাট মডেল থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ময়নাতদন্ত শেষে তার পরদিন বিকেলে আরিফার বাবাসহ তার পরিবারের সদস্যের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশ জানায়, আরিফা আত্নহত্যার দিন স্থানীয়রা লাশ নামানোর পরে সকাল ৮টার দিকে আরিফার মা পারুল বেগম চারঘাট থানায় যায়। থানায় গিয়ে দায়িত্বরত ডিউটি অফিসারের কাছে কাঁদতে কাঁদতে তার মেয়ে মারা যাবার কথা বলে। পারুল বেগমের বিপর্যস্ত অবস্থা দেখে পুলিশ সদস্যরা তাকে থানা গেট থেকে পাউরুটি কলা কিনে সকালের নাশতা করায়। পুলিশ বিষয়টা তদন্তে ঘটনাস্থলে গেছে জানিয়ে পারুল বেগমকে বাড়িতে যেতে বলেন। তখন নিজ অফিসে ওসি সমিত কুমার কুন্ডু উপস্থিত ছিলেন না। পারুল বেগমের সাথে ওসির কোনো সাক্ষাৎ হয়নি।

অথচ, মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে থানায় মামলা করতে গেলে তাকেই হাজতে ঢোকানোর হুমকি দিয়েছেন চারঘাট থানার ওসি সমিত কুমার কুণ্ডু মর্মে ঘটনার ০৫ দিন পর ০২ সেপ্টেম্বর রাজশাহী পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন পারুল বেগম। আত্নহত্যার দিন স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে তার মেয়ের আত্নহত্যা করেছে বলে তিনি জানান। তবে তার মেয়ে সম্পর্কে তাকে বার বার জানতে চাইলেও মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে এমন কিছু সে বলেনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চারঘাটের শলুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াউল হক মাসুম বলেন, আমি নিজে আত্নাহত্যার কথা শুনে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। আরিফা আত্নহত্যা করেছে, স্থানীয় দরজা ভেঙে লাশ নামিয়েছে। পারুল বেগমের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। পারুল বেগম কিছু টাকার লোভে ঘটনা অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সে একজন খারাপ মহিলা।

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে চারঘাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ সমিত কুমার কুন্ডু বলেন, পারুল বেগম নামের ঐ ভদ্র মহিলার সাথে আমার কখনও দেখা কিংবা কথা কোনটাই হয়নি। তিনি আমাকে দেখলে চিনবেও না। কাজেই তার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
বরেন্দ্র বার্তা/সই/অপস

Close