সাহিত্য ও সংস্কৃতি

পঞ্চম এনিভার্সারি

মাহিন - আল বিরুণী

প্রেম সে তো ছেলে মানুষি,
বাচ্চাদের কাজ, সবই মায়া।
বয়স বড়ালে বুঝবে ওসব কিছু না…
তোমাদের বয়সে এসব মনে হয়…
আরেকটু বড় সব বুঝবে…
এসব প্রেম-ট্রেম, সব ন্যাকামি।

কথাগুলো প্রায়শই শোনা যায়।
আমিও শুনে শুনেই এতদূর এসেছি।

মজার বিষয় আমার এই প্রেমটায়,
এই মেয়েটার সাথে প্রেম করে,
আমি যেন বাবা হয়েছি!
প্রেমিক হতে হতে আমি বাবা হয়েছি।
বাবা যেমন সারাদিন উপদেশ আর আদেশ-নিষেধ দেয়,
আমিও তার সাথে অমনই করি।

“সময় মত খেয়ও
তোমার ঔষধ নিয়েছ
তোমাকে না অমুকের সাথে কথা বলতে মানা করেছি
তোর ঐ বান্ধবীর কিন্তু গতি ভালো না
রাত জাগবে না।”

এমন প্যাচাল আমি তার কাছে পাড়ি।
বাবার উপদেশ শুনতে শুনতে,
আমরা যেমন অধৈর্য্য হয়েও ধৈর্য্য রাখি।
কথা গুলো ও সেভাবেই শোনে,
চোখে মুখে অধৈর্য্যের ছাপ দেখি।
তো ধৈর্য্য-অধৈর্য্য আর বিরক্তি যায় লাগুক
বাবার কথা গুলো ফেলার নয়।
আমি তাকেও যা যা বলি সব
ভালোই বলি, তার জন্য আমার কাছে যা ভালো মনে হয়।

আমার কারণ-বারণে কোনো কোনোদিন তাকে খুব উদাস দেখি।
তখন মনে হয় আমি হয়তো তার যোগ্য না।
আর প্রেম করতে এসে,
ওসব ভাষণ শোনা, সত্য খুব যন্ত্রণা।
আমার আগের প্রেমগুলো মোটেও এমন ছিলোনা।
হাতে হাত নেড়ে হেটে চলা,
বাবু…সোনা
একটা আইসক্রিম দুজনে খাওয়া,
বৃষ্টি ভেজা, ফাঁকা চিপা গলি দিয়ে হেটে যাওয়া।
এমন ছিলো সে সব।
কোন দিক দিয়ে বাড়ি গেলো,
আর কার কার সাথে আড্ডা দিলো এসব দেখতাম না।

এই প্রথম আমি প্রেমিকার সাথে বৃষ্টি ভিজতে আপত্তি করেছি!
বলেছি, তোমার জ্বর আসবে, এমনি তো ক’দিন কাঁশলে।
কতটা আনরোমান্টিক তাই না?
ভিজে ভিজে হেটে যাওয়া একটা জুটি দেখিয়ে ও বলেছিল,
দেখো দেখো; প্রেম করা শেখো।
ভিজতে আমার আপত্তি নেই
তাই বলে ও জ্বরে পড়ুক তা যে আমি চাইনা।

ঐ গলি দিয়ে যাবা না,
যার তার রিকুয়েষ্ট নিবা না,
ঘরে ফিরতে যেন সন্ধ্যা না হয়,
ঘরে ফিরেই জানাবা।

এসব তাকে রোজই বলি।
ও বলে, আমার কি হবে?
আমার সাথে তো তুমি সব সময় আছ,
পাশে না থাকলে আমার অন্তরে। তুমি আমাকে বাঁচাবে।
আমি খটমটিয়ে বলি,
সিনেমার ডায়লগ ভুলে যাও।
একটা অঘটন হলে আমি কেন আমার ভূতও যেতে পারবে না।

ওর চোখে যখন অভিমান দেখি,
অনেকবার ভাবি আমি ওর মন মত না।
ওকে বুঝাতে পারিনা, বাচ্চা মেয়েটাকে কষ্ট দিচ্ছি।
কয়েকবার তো রাগে বলেই ফেলেছি,
আমার তোমার সাথে প্রেম হবে না
তুমি তোমার মত কাউকে খুঁজে নাও।
আমি তোমার বড় ভাই হতে পারি প্রেমি না।
ছলছল চোখে ও বারবার বলে,
আসলে আমার বাচ্চামি আর অত্যাচার তুমি আর সহ্য করতে পারছ না, তাই না?
সে জন্য আমাকে ছাড়তে চাও।
আমাকে আর একটু সময় দাও না।

ও কে যে কি বুঝাই।
কথা যতবার বলেছি তার প্রতিটা রাত আমি অঝড়ে কেঁদেছি।
অনেকবার ওর ফোন না ধরে,
ওকে দূরে করে রেখে আমাকে ছাড়াও থাকার অভিজ্ঞতা করিয়েছি।
ও বলে আমি ওকে ছেড়ে যাবো তাই এসব করি।
একদিন তো মারা যাবো,
সেদিন ওর যেন কষ্ট কম দূরে থেকে সে অভিজ্ঞতা করিয়েছি।

এই মেয়েটার সাথে প্রেম করে,
আমি যেন বাবা হয়েছি।

এই যে ফজরের আযানের পরপর কল্যাণপুরে আসলাম,
টাঙ্গাইলের রাস্তায় যা ঝাঁকি খেলাম।
সারাদিন দৌড়ে বেডিয়ে, সারারাত জার্নি করে
রাজশাহী থেকে ঢাকা আসলাম।
জানি না কতটা ভালোবাসলাম।
প্রেমিক হতে এসে যেন বাবা হয়েছি,
এমন করেই পাঁচটা বছর পেরিয়েছি।
আজ পঞ্চম এনিভার্সারি।

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
Close