মহানগরসাহিত্য ও সংস্কৃতি

‘ভোগ বাংলা’র দেশীয় ঐতিহ্য প্রীতি নতুন প্রজন্ম জানছে নিজস্ব সংস্কৃতি

মো.শহিদুল ইসলাম: ব্যবসাটা শুধু লাভের জন্যই নয়। ব্যবসার সাথে থাকতে হবে মানবিকতা আর বিশ্বস্ততার দৃঢ় সম্পর্ক।ব্যবসার মধ্যে দিয়েই নিজের দেশের ঐতিহ্য আর সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখা সম্ভব।” কথাগুলো বলছিলেন বরেন্দ্র অঞ্চলের দেশীয় পণ্যের অনলাইন মার্কেট প্লাটফর্মের চেয়ারম্যান ও নারী উদ্যোক্তা ফারহানা মোস্তারিন।শুরুটা খুব বেশী দিন হয়নি।অক্টোবর মাসের শেষের দিকে অনলাইনে দেশীয় পণ্যের সমাহার নিয়ে ফারহানা মোস্তারী কাজ শুরু করেন।এর আগে দীর্ঘ ৬ মাস তিনি অফ লাইনে কাজ করনে দেশী পণ্য নিয়ে।অনলাইনে অল্প কদিনের মধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অর্ডার আসতে থাকে। খুব কম সময়ের মধ্যেই তিনি শতাধিক অনলাইন কাস্টমারের কাছে দেশীয় পণ্য ডেলিভারী করেছেন।তাঁর পণ্যের একটা নিজস্ব গুণাগুণের কারনেই বার বার চাহিদা আসা শুরু হয়েছে।চরের ঐতিহ্যবাহী নিরাপদ সব কৃষি পণ্য যেমন কালো জিরা, চিনা বাদাম, কাউনের চাল, তিল, তিশি, বরেন্দ্র অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী আম সহ বিভিন্ন ফলজ চারা, দেশী ধানের চাল যেমন রাধুনি পাগল, বাদশা ভোগ, জিংগা শাইল, জামাই সোহাগীসহ বিভিন্ন ধরনের দেশী বিষমুক্ত সুগন্ধীসহ চিকন চালের অর্ডার বেশী আসছে।দেশী এসকল পণ্যের চাহিদা আসায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এসকল পণ্য উৎপাদনের আগ্রহ বেড়েছে।এ প্রসঙ্গে নারী উদ্যোক্তা ফারহানা মোস্তারিন বলেন- নিজের দেশের দেশীয় বিভিন্ন শস্য ফসলের জাত দিনে দিনে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।এগুলো চাহিদা এবং ভোক্তাদের কাছে পরিচিত করণের অভাবে বিলুপ্তির পথে। স্থানীয় কৃষকরা এখনো এসকল শস্যফসলের জাত টিকিয়ে রেখেন। কিন্তু বাজারে এর পরিচিতি এবং গুণাগুণ প্রচারের অভাবে দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। যার ফলে কৃষকরাও উৎপাদন করতে চায়না।জাতগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন এসব দেশী জাতীয় শস্য ফসলের জাতে রাসায়নিক কীটনাশক ব্যবহার লাগে বলিই চলে, স্থানীয়ভাবে পরিবেশসহনশীল এবং রোগ পোকার আক্রমণ হয়না। যার ফলে উৎপাদিত পণ্যে খাদ্য গুণাগুণ অনেক বেশী এবং এটি মানুষের কোন ক্ষতি করেনা। দিনেন দিনে এসব দেশী পণ্যর কদর বেড়ে যাচ্ছে। মূলত দেশীয় জাতগুলো সুরক্ষা এবং কৃষকদের লাভজন অবস্থায় নিয়ে আসাই ভোগ বাংলার মূল কাজ। ভোগ বাংলা কৃষকদের পণ্যগুলো সরাসরি ভোক্তার হাতে তুলে দিতে চায়।
ভোগ বাংলা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী দেশীয় পণ্যগুলো ভোক্তার কাছে তুলে ধরছে। সমতল ভূমি থেকে শুরু করে চরাঞ্চল, হাওড় ও পাহাড়ী অঞ্চলের পণ্যগুলোও দিনে দিনে শোভা পাচ্ছে ‘ভোগ বাংলা’র অনলাইন সপে।উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন- বিগত ১৫ দিন আগে বান্দরবন দিলুছড়া ত্রিপুড়া ভিলেজ থেকে পাহাড় থেকে জুম চাষী বিরজয় পাহাড়ী রঙ্গীণ ভুট্রা পাঠিয়েছিলো ভোগ বাংলার জন্য। মাত্র ৭ দিনেই তা শেষ হয়। এতোই চাহিদা যে আরো অনেকগুলো প্রি অর্ডার আছে। অন্যদিকে চরের কাউনের চালের চাহিদাও বেড়ে গেছে। কাউনের চালের পায়েস, পোলাও এবং খিরসহ বিভিন্ন রেসিপি ইদানিং বিলাসী খাদ্যের তালিকায় উঠেছে।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close