মোহনপুর

বিএনপি’র ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেশরহাট পৌর কৃষকদলের আলোচনা সভা ও বীজ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে গতকাল রোববার বিকেলে আলোচনা সভা ও বীজ বিতরণ করা হয়। কেশরহাট পৌরসভা কৃষকদলের আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন কেশরহাট পৌর কৃষকদলের সহ-সভাপতি এনামুল হক। প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী জেলা কৃষকদলের আহবায়ক আল আমিন সরকার টিটু। প্রধান বক্তা ছিলেন রাজশাহী জেলা বিএনপি’র সদস্য গোলাম মোস্তফা মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন, জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব নাজমুল হক, জেলা কৃষক দলের যুগ্ম আহবায়ক মেজবাউল হক দুলু, আলম মাস্টার, কেশরহাট পৌর বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক খুশবুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক মকবুল হোসেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন কেশরহাট পৌর যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মসিউর রহমান, জেলা কৃষক দলের সদস্য ইনসান ও রেজাউল করিম, কৃষকদল নেতা আব্দুর রহমান ও বুলবুল আহম্মেদ ও জেলা ছাত্রদলের সদস্য তুষারসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী ও কৃষকগণ।
প্রধান অতিথি ও প্রধান বক্তা বলেন, কৃষকরা হচ্ছে দেশের মূল চালিকা শক্তি। রাত দিন মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রোদ বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কৃষক জনগণের খাদ্যের জোগান দিয়ে আসছে। কিন্তু এই কৃষককে নিয়ে এই সরকারের কোন মাথা নেই। তারা চাষাবাদ করে সঠিক দাম পায়না। একটি ফসলের পেলে আরেক ফসলে ক্ষতির সম্মুখিন হয়। কৃষি উপকরণের লাগামহীন মূল্য হওয়ায় আরো বিপদে আছেন কৃষকরা। প্রবাদ আছে বাংলাদেশের মানুষ মাছে ভাতে বাঙ্গালী। সেজন্যই মাছ এবং ভাতের মুল উপকরণ ধান চাষ করতে এবং কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা করতে বাংলার রাখাল রাজা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কৃষক দল গঠন করেছিলেন।
তারা আরো বলেন, কৃষি বিপ্লব ঘটানোর জন্য খাল খনন কর্মসূচী সহ কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করেছিলেন তিনি। এ ছাড়াও কৃষি ভিত্তিক অ ল করে কৃষি ভিত্তিক কলকারখানা স্থাপন করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সেইসাথে দেশব্যাপি লক্ষ লক্ষ বৃক্ষ রোপন করে দেশকে সবুজে ভরে দিয়েছিলেন। দেশকে বহির্বিশ্বে উন্নত দেশ হিসেবে পরিচিতি করে দিতে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু এই গণতন্ত্রের স্বাদ তিনি বেশীদিন ভোগ করে যেতে পারেন নি। কিছু বিপদগামী সেনা সদস্যরা দেশী বিদেশী চক্রান্তের কারনে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেন। তাঁকে হত্যার মধ্য দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা হুমকীর মধ্যে পড়ে গিয়েছিলো। কিন্তু তাঁর সুযোগ্য অর্ধাঙ্গিনী বেগশ খালেদা জিয়া এই দলের হাল ধরেন এবং দেশে গণতন্ত্র পূণরুদ্ধারে কঠোর আন্দোলন করেন।

তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার একক নেতৃত্বে এই আন্দোলনের ফলে স্বৈরাচার এরশাদ পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। দেশে আবারও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়। এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে দেশের আরেকটি দল সে সময়ে বেইমানী করে এরশাদ সরকারের সাথে আঁতাত করে নির্বাচনে অংশ করে জাতীয় বেইমানে হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সেইচক্রই আবার বিনা ভোটে নির্বাচিত হয়ে দেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা হুমকীর মধ্যে ফেলে দিয়েছে। একনায়ক তথা বাকশাল কায়েম করে জনগণের সকল অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে।
দেশের ৯০ভাগ জনগণ এখন এই সরকারের কবল থেকে রক্ষা পেতে চায়। আর জনগণকে রক্ষা করতে হলে এই সরকারের পতন ছাড়া কোন বিকল্প নাই। এই সরকারের পতনের আন্দোলনে কৃষকদলসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাধারণ জসগণকে সাথে নিয়ে রাজপথে নামার আহবান জানান তারা। বক্তব্য শেষে কেশরহাট পৌর বিএনপি’র আহবায়ক কামরুজ্জামান হেনা বেগম জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন।
বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/অপস

Close