তানোরশিরোনাম-২

তানোরে পরিকল্পিত ভাবে উপজেলা প্রশাসনের অফিস সহায়ককে ফাঁসানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর তানোরে পরিকল্পিত ভাবে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার সন্তান আরিফ হোসেনকে নারী দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আরিফ তানোর উপজেলা প্রশাসন (ইউএনও) অফিসের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত আছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের নারায়ণপুর গ্রামের সাবেক মেম্বর ওসমান আলীর মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারের মানুষদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক মেলামেশার নামে ব্যাক মেইল করে তা ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এছাড়াও ঐ নারীর পরিবার বিভিন্ন কৌশলে এলাকায় অপকর্ম করে আসছেন বলেও একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
ঐ নারীর বর্তমান স্বামী ওসমান গনি আরিফের স্কুল জীবনের বন্ধু। স্বামীর বন্ধুত্বের সুযোগ নিয়ে গনির স্ত্রী আরিফের নিকট থেকে ১৩হাজার টাকা ধার নেন। পরে এই টাকা দেয়ার জন্য আরিফকে বাড়িতে ডাকে তিনি। আরিফ ঐ নারীর স্বামী বন্ধু গনিকে সঙ্গে নিয়ে তার বাড়িতে যান। ঘরে প্রবেশ করার পর গনির স্ত্রী তার সামনে আরিফ তার স্লীলতাহানী করেছে বলে চিৎকার শুরু করে। টাকা না দিয়ে উল্টো আরিফ হোসেনের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে আরিফের সম্মান নষ্ট করতে চেষ্টা করছে ঐ নারী। স্ত্রীর এমন মিথ্যা অভিনয় দেখে স্বামী ওসমান গনি চরম ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে এবং তার বন্ধুর সাথে এমন আচরণ করার বিষয়ে জানতে চান। সেইসাথে স্ত্রীকে ভয়ভীতি দেখান। তখন তিনি পরিকল্পিত ভাবে আরিফকে ফাঁসানোর জন্য এমন করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
ঐ নারীর বিরুদ্ধে একাধিকবার এলাকার যুবকদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁসিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও লিখিত অভিযোগও রয়েছে বলে জানা গেছে। এতে করে ঐ নারীর এমন জঘন্য ঘটনার বিষয়টি জনসাধারণের মধ্যে ফাঁস হয়ে পড়লে এলাকাজুড়ে চা ল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সেইসাথে সমালোচনার ঝড় বইছে। এই ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দাবি জানিয়েছে সচেতন মহলসহ অত্র এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে স্বামী ওসমান গনির বলেন, আরিফের বিষয়টি পুরোটাই মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আরিফ আমার স্ত্রীর সাথে কোন অসৌজন্যমূলক আচরণ করেনি। বরং আমার স্ত্রী আরিফের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে। যেদিন এই ঘটনা ঘটে সে সময়ে আমি বাড়িতে আরিফের সাথে ছিলাম। সে আমার স্ত্রীর সাথে কোন দুর্ব্যবহার করেনি বরং আমার স্ত্রী আরিফের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছে।
তিনি আরো বলেন, একটি মহল আমার স্ত্রীকে অর্থের লোভ এবং আগামীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন দেয়ার সুপারিশ করার প্রলোভন দেখান। সেইসাথে আরিফ হোসেনকে নারী কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িয়ে সরকারি চাকরি থেকে সাসপেন্ড করার ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই ঘটনা ঘটানোর বলে। এই ধরনের প্রলোভন দেখে আমার স্ত্রী আমাকে কোনকিছু না বলেই এমন মিথ্যা চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটিয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে আরিফ হোসেন বলেন, ওসমান গনি আমার স্কুল জীবনের বন্ধু। সেই সুবাদে তার স্ত্রীর সাথে আমার মাস খানেক আগে পরিচয় হয়। পরিচয়সূত্রে কিছু দিন আগে আমার নিকট থেকে ফোন করে ১৩ হাজার টাকা ধার নেন তিনি। সে টাকা ফেরত দেয়ার জন্য আমাকে ফোন করে বাড়িতে ডাকে। আমি ঐ নারীর স্বামী ওসমান গনি সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে যাই। আর যাওয়া মাত্র কোনকিছু বোঝে ওঠার আগেই তার সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে শুরু করে ওসমান গনির স্ত্রী। এসময় আমি ওসমান গনির সাথে তার বাড়ি থেকে চলে আসি। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এ মামলা করা হয়েছে বলে জানান আরিফ।
বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/অপস

Close