দূর্গাপুরশিরোনামস্বাস্থ্য বার্তা

কর্মীদের ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান

ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি: রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকর্মীদের ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান আসাদ। তাকে মারধোর ও লাঞ্ছিত করার নাটক সাজাতে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে লাখ লাখ টাকার অনিয়ম ও দূর্নীতির খবর। শুধু অনিয়ম ও দূর্নীতি নয় এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নাচোলে থাকার সময় কয়েকবার নেশার আখড়া হতে পুলিশের হাতে ধরা পরে এবং ফলশ্রুতিতে পানিশমেন্ট পোস্টিং হয় সাতক্ষীরা। সেখানেও একই সমস্যা তৈরী করে। এবং ওখানেও টিকতে পারেনি তিনি। এরপর নওগাঁ ধামুরহাটেও তার চরিত্র একটুও বদলায়নি। সর্বশেষ দুর্গাপুরে ভয়াবহ দূর্নীতির বিস্তার ঘটানোসহ অফিসে বসে প্রতিনিয়িত মাদক সেবনের অভিযোগও রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। যা তার ডোপ টেস্ট করলেই রিপোর্টে মাদক গ্রহণের প্রমাণ মিলবে।
জানা যায়, জেলার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমএসর সরবরাহ করেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী ও উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান বানেছা বেগমের ছেলে বাদল রহমান। বানেছার সঙ্গে আঁতাত করে এখানে একেবারে সামান্য পরিমাণ এমএসআর কিনে অধিকাংশ টাকায় লোপাট করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান আসাদ। এছাড়াও তিনি করোনা কালিন প্রায় ৯০ লাখ টাকার মালামাল ক্রয় করার সময় সরবরাহ কারী প্রতিষ্ঠান এর কাছ থেকে ফাঁকা চেক নিয়ে কয়েক লাখ টাকার মালামাল সরবরাহ নিয়ে বাকী টাকার ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে উত্তোলনের পর তাকে ফাঁকা চেক ফেরত দেন। করোনা পরিস্থিতিতে সরকারিভাবে বরাদ্দ কৃত টাকায় তেমন কোন জিনিস না কিনে আত্তসাৎ করেছেন। শুধু তাই নয় ডাক্তারদের জন্য করোনায় আবাসন ও খাওয়া বাবদ একটাকাও খরচ না করে ভূয়া বিল ভাউচার করে পুরোটাই আত্মসাৎ করে এবং উপজেলায় হাসপাতালে পরিষ্কার পরিছন্নতা বাবদ যে বরাদ্দ এসেছিল তার পুরোটাই আত্মসাৎ করে এবং উন্নয়নমূলক যে বরাদ্দ সেটাও আত্মসাৎ করে। জেনারেটর পরিচালনা বাবদ প্রতিমাসে ভুয়া বিল ভাউচার করে সেটাও মেরে দেয় অথচ জেনারেটর একদিনও চলেনি। হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার এর কাছ থেকে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বড় ধরনের অ্যামাউন্ট সে গ্রহণ করে। আর এই সব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তার সহকর্মীদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত ভাবে মারধোর ও লাঞ্ছিত করার নাটক সাজানো হয়। এনিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর কর্মকর্তা-কর্মচারীদে­র মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগী দুই চিকিৎসক বলেন, সিভিল সার্জনের পাঠানো তদন্ত টিমকে অসহযোগিতার জন্য যেন তারা স্টোর দেখতে না পায় তদন্তের দিন টিএইচএ নিজে বেলা দুটো পর্যন্ত পালিয়ে বেড়াচ্ছিল এবং স্টোরকিপারকে নিজ কব্জায় ধরে রেখেছিল। পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে বেলা দুইটার পর আসতে বাধ্য হন এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হলেও ভিজিট হয় এবং ব্যাপক অনিয়ম ধরা পড়ে। টিএইচএ এক সপ্তাহ সময় নেন সবকিছু ঠিক করার জন্য। কিন্তু কোন ধরনের রিকভারিতো দুরের কথা বরং ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেয়ার চেষ্টা চলছে। সর্বশেষ কেনাকাটা কমিটিতে আমরা ছিলাম। কিন্তু তার অনিয়মের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে এমন নাটক সাজায় সে। এমন ধরনের বহু অনিয়ম করেন তিনি। সিভিল সার্জন স্যার এবং ডিভিশনাল ডাইরেক্টর স্যার পুরো বিষয়গুলো অবহিত এবং বিব্রত। এমন ঘটনাটায় তদন্ত কমিটি আসার কারণেই পুরোপুরি আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়েই সে নাটক সাজিয়েছে।
উপরোক্ত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান আসাদের মোবাইলে ফোন দিলে তিনি অফিস সময়ে দেখা করার জন্য বলেন।
উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এমএসআর কোনাকাটা সঠিকভাবে কেনা হয়েছে কিনা সেটি তদারকি করে দেখা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন জেলা সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক। তিনি বলেন, এমএসআর কেনাকাটায় একেকটি উপজেলায় একেকভাবে বরাদ্দ এসেছে। সেটি ঠিকমতো খরচ করা হয়েছে কিনা আমরা তদারকি করছি। কিন্তু কোনো ধরনের অনিয়মের খবর আপাতত আমার কাছে নাই। এ ছাড়াও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে আমার কাছে এখন পর্যন্ত কোন লিখিত অভিযোগ আসেনি, আসলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করবো।
বরেন্দ্র বার্তা/সরা/অপস

Close