নাগরিক মতামতশিরোনাম-২

অফিস শিষ্টাচার / অফিসিয়াল আদবকেতা (ম্যানার)

জিনাত তারা নীলা

 

অফিস বা ব্যাক্তিগত জীবন যেখানেই হোক না কেন আপনাকে কিছু শিষ্টাচার/ আদবকেতা(ম্যানার)
মেনে চলতে হবে। এটি আপনার অফিস বা ব্যাক্তিগত জীবন উভয় ক্ষেত্রেই বিশেষ ভাবে প্রয়োজন। বর্তমানে শিষ্টাচার/ আদবকেতা(ম্যানার) কে সফলতার চাবিকাঠি বলা হয়।
আপনি একজন কাজে দক্ষ অফিসার কিন্তু আপনার প্রোমোশন বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে কারন আপনি সঠিক অফিস শিষ্টাচার / আদবকেতা(ম্যানার) গুলো জানেন না বা সেটি কাজে প্রয়োগ করেন না।
আজ আমরা জেনে নিই অফিস শিষ্টাচার / আদবকেতা(ম্যানার) যেগুলো আমাদের শুধু কর্মক্ষেত্রের উন্নতির জন্যই প্রয়োজন নয় আমাদের ব্যাক্তিগত জীবনেও বিশেষ ভাবে প্রয়োজন।

সঠিক শিষ্টাচার / আদবকেতা(ম্যানার) গুলো কি কি?
আপনি আপনার অফিস কলিগ বা পরিবার বা চারপাশের লোকজনদের সাথে বিনয় এবং বন্ধুত্বপূর্ণ ভাবে কথা বলছেন বা ব্যবহার করছেন এটাই সঠিক শিষ্টাচার / আদবকেতা(ম্যানার) ।
সঠিক শিষ্টাচার একটি সামাজিক প্রোটোকল যেটি আমাদের অফিসিয়াল এবং ব্যাক্তিগত সম্পর্ক উন্নতিতে বিশেষ ভাবে সাহায্য করে এবং আমাদের চারপাশ মিষ্টি মধুর করে তুলে।

অফিসিয়াল বা ব্যাক্তিগত জীবনে যে শিষ্টাচার গুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে-
বন্ধু সুলভ আচরণ করুন।
সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন ।
ভাল শ্রোতা হোন ।
সঠিক সময়ে হাত তুলুন।
দয়াবান হোন।
কথা বলবার সময় “ দয়াকরে” শব্দ টি ব্যবহার করুন।
কাউকে ধন্যবাদ দিতে ভুলবেন না ।
ক্ষমা চাইতে ইতস্তত বোধ করবেন না।
পরিচিত কারও সাথে দেখা হলে অল্প হলেও কথা বলুন।
অন্যের সাথে হেসে কথা বলুন।
অন্যের প্রশংসা করতে কার্পণ্য বোধ করবেন না।
“excuse me” বা আমাকে ক্ষমা করুন বলতে ভুলবেন না ।

অন্যেরা কথা বলার সময় যে কাজগুলো কখনই করবেন না-
বিরক্ত হয়ে বক্তার দিকে তাকাবেন না।
এদিক ওদিক চাইবেন না।
অন্য কে বলবার সুযোগ দিন।
কারও কথার মাঝখানে কথা বলবেন না।
একজনের সামনে অন্যের সাথে ফিস ফিস করে কথা বলবেন না ।

কিছু টিপস মেনে চললে আপনার অফিস বা ব্যাক্তিগত জীবনে সুন্দর প্রভাব পরবে-
শুনুন এবং বুঝুন।
নেতিবাচক কথা এড়িয়ে চলুন।
Sorry বা দুঃখিত নামক ম্যাজিক শব্দটি ব্যবহার করুন।
আপনার বিবৃতি বা বর্ণনাটি অল্প কথায় শেষ করুন।
আঙ্গুল তুলে বা নাড়িয়ে কারও সাথে কখনও কথা বলবেন না।

কলিগ বা অন্যদের সাথে কথা বলবার সময় কিছু আদবকেতা মেনে চলুন-
সবাইকে তার যোগ্য সম্মানটি দিন।
অন্যকে কথা বলবার সুযোগ দিন।
কলিগ বা অন্যদের সাথে কথা বলবার সময় আপনার যদি কোন জরুরি কাজ থাকে তাহলে তাদেরকে বিষয় টি বিনয়ের সাথে বুঝিয়ে বলুন।
আপনি যার সাথে কথা বলছেন তার দিকে সরাসরি তাকিয়ে কথা বলুন।
কথা বলবার সময় পিছন ফিরে কথা বলবেন না।
একই সময়ে আপনি এবং আপনার কলিগ কথা শুরু করলে আগে তাকে কথা বলবার সুযোগ দিন।
সবসময় নিজের ব্যাক্তিগত সাফল্য নিয়ে গল্প করবেন না।
আপনার দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা নিয়ে অন্যকে বিব্রত করবেন না।

সমাজে অন্যদের সম্মান করুনঃ
অন্যদের সম্মান এবং সাহায্য করুন।
বয়স্ক কাউকে রাস্তা পারাপারে সাহায্য করুন।
বাস, টিকিট কাউন্টার বা কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে আপনার সিট টি বয়স্ক বা মহিলাদের ছেড়ে দিন।
বয়স্ক বা মহিলাদের সম্মান জানিয়ে দরজাটি খুলে ধরুন।দেখবেন সমাজে আপনি একজন বিশিষ্ট ভদ্রলোক/ভদ্রমহিলা হিসেবে পরিচিতি পাবেন।

অন্যদের ব্যাক্তিগত দূরত্ব ( personal space)কে সম্মান করুনঃ
অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ এড়িয়ে চলুন।আপনি যখন অফিসে বা অন্য কোথাও বসবেন, আপনার সামনে যিনি বসেছেন তার থেকে নিদৃষ্ট দূরত্ব বজায় রাখুন।
অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শে দুঃখিত (sorry) বলুন।

শারীরিক ভাষা (body language) কে পরিশীলিত রাখুন –
অফিস চেয়ারে মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন । এমন ভাবে বসবেন না যেন আপনি চেয়ারে শুয়ে আছেন।
অফিস চেয়ারে বসবার সময় হাত টি টেবিলের উপর শান্ত ভাবে রাখুন এবং কথা বলবার সময় হাতদুটি অল্প অল্প নাড়ান, এমন ভাবে নাড়াবেন না যেন আপনি কোন ড্যান্স পার্টি তে গেছেন।
সামাজিকতা মেনে হ্যান্ডসেক করুন অথবা সালাম দিন।
সরাসরি তাকিয়ে কথা বলুন।কথা বলবার বা শুনবার সময় চোখ পিটপিট করবেন না বা ইতিউতি চাইবেন না।
ধীর স্থির ভাবে চলাচল করুন।
সবার সাথে শান্তভাবে কথা বলুন।
অফিসে আপনার অধস্তন কর্মচারীদেরও খোঁজখবর রাখুন।
অফিসের সবাইকে তার যোগ্য সম্মান দিন।
ক্লায়েন্টদের মধ্যে বড়, ছোট, ,ধনী, ,গরিব ভেদাভেদ করবেন না। সবাইকে সমান ভাবে সেবা দিন।
“অফিসিয়াল গসিপ” এড়িয়ে চলুন।

মোবাইল ফোন / টেলিফোন আদবকেতা (ম্যানার) –
মোবাইল ফোন অথবা টেলিফোনে কথা বলবার সময় শান্ত স্বরে আস্তে আস্তে কথা বলুন। চিৎকার করে কথা বলবেন না। আপনার কথা শুধুমাত্র ফোন এর অপর প্রান্তের জনই যেন শুনতে পায়, অফিসের সবার শুনবার প্রয়োজন নাই।
যেকোনো ধরনের মিটিং এ বা ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের কক্ষে প্রবেশের সময় মোবাইল ফোনটি সাইলেন্ট মুড এ রাখুন।

পোশাক পরিচ্ছদ –
পোশাক পরিচ্ছদ এর ব্যাপারে শালীনতা বজায় রাখুন। স্থান, কাল, ,সামাজিকতা বিবেচনা করে পোশাক পরিধান করুন।
উগ্রতা এড়িয়ে চলুন।

নিজেই নিজের সমালোচনা করুন-
দিন শেষে নিজের কাজের জবাবদিহিতা নিজের কাছেই দিন।
সারাদিন এ আপনি কি কি করলেন, কোন কাজ টি শিষ্টাচার বহির্ভূত তা খুঁজে বের করুন এবং সমাধানের চেষ্টা করুন।মনে রাখবেন আপনি নিজেই নিজের সবচেয়ে বড় সমালোচক যখন হবেন তখন সমাজে আর কোন অসামঞ্জস্যতা থাকবে না। একটি পরিপূর্ণ, সুস্থ সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

Close