সাহিত্য ও সংস্কৃতি

তাসের ঘর

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি

 

তাহলে কি তুমি আমার সাথে থাকতেই চাইছো না রোহান?না আমি তোমার সাথে আর থাকতে চাইছি না। যেখানে আমাদের দুজনের কোনো সম্পর্ক নেই, তুমি সম্পূর্ন তোমার মত থাকতে চাও তাহলে কী প্রয়োজন এই ঘরের?
হিমাদ্রী তুমি সব সময় তোমার মত চলেছো।ক্যারিয়ার ক্যারিয়ার করে মাথা খারাপ করে দিয়েছো, কোনো দাম আছে কি তোমার কাছে এই সংসারের?
না নেই আর কিছু বলতে চাও রোহান?না আর কিছু বলার নেই তোমাকে হিমাদ্রী। তুমি যেখানেই থাকো ভালো থেকো এটাই চাই।তুমি বললেও ভালো থাকবো আর না বললেও আমি ভালো থাকবো বলেই ডিভোর্স পেপারে সাইন করে চেয়ার থেকে ওঠে দাড়ালো হিমাদ্রী। আজ তার মুক্তি। কোনো মিথ্যে সম্পর্কে আর তাকে বাধা পড়ে থাকতে হবে না।রোহান মুখ কালো করে বসে থাকলো লয়ারের চেম্বারে।হনহন করে বের হয়ে গেলো হিমাদ্রী।যেখানে কোনো বিশ্বাস নেই,ভালোবাসা নেই সেখানে সম্পর্কে জরিয়ে থাকা নিছক বোকামি ছাড়া কিছু নয়।তাসের ঘরতো ক্ষনস্থায়ী।কোনো না কোনো সময় ভেঙ্গে পড়বেই। তাহলে সে ঘরে মায়া বাড়িয়ে লাভ কী?
হিমাদ্রী চাইনি কোনো দিন তাসের ঘরে মায়া বাড়াতে। তাই হঠাৎ করেই রোহানের সিদ্ধাতে কোনো কথা না বলেই চুপচাপ সাইন করে ভেঙ্গে দিলো তাদের বৈবাহিক জীবন। দুইজন দুই মেরুর মানুষ কী করে এক মেরুতে পরিণত হয়। তাই সব ভেঙ্গে দিয়ে মুক্ত হলো দুজনে।দুটো মানুষের বিয়ে হলে তারা একটা সম্পর্কের মাঝে পড়লেও তাদের মনের মিল না হলে কখনো সেই সম্পর্ক টিকে না।সব সময়ের মত যে সমাজ কী বলবে, সমাজের মানুষ কী বলবে এ লোক লজ্জার ভয়ে সারাজীবন কষ্ট করেই কাটিয়ে দিবে এমনটা হিমাদ্রী কখনো ভাবেনি।হিমাদ্রীর কাছে সমাজের আগে,সমাজের মানুষের আগে নিজের জীবন।লোকে কী বলবে ভেবে হিমাদ্রী কখনো কোনো কাজ করা থামিয়ে রাখেনি।সব সময় নিজের মনের কথা শুনে এসেছে।তার মনে হয় সমাজের মানুষ তো তার জীবনের দায়ভার নেবে না তাহলে তাদের কথা ভেবে নিজের সুন্দর জীবনটা নষ্ট করবে কেনো?
বিয়ে করে একটা সম্পর্কে জরিয়ে যাবার পর সে সম্পর্কে যখন বিচ্ছেদ ঘটে তখন সমাজে মেয়েদেরকেই দায়ি করা হয়। কিন্তু কেনো পুরুষকে দায় নিতে হয় না। শুধু মেয়ে কেনো? কোনো পুরুষের কি দোষ থাকে না?বিয়ের পর কেনো শুধু মেয়েদেরকেই শশুরবাড়ির সাথে,স্বামীর সাথে মানিয়ে নিয়ে নিজের সখ, স্বপ্ন সব কিছু বিসর্জন দিয়ে সংসার করতে হবে?এর কিছুটাওতো পুরুষের নেওয়া দরকার।যেখানে পুরুষের কোনো দায়ভার নাই সেখানে মেয়ে হয়ে জন্মগ্রহন করেছে বলে সব কিছু মানিয়ে নেবার দ্বায়িত্ব কেনো শুধু মেয়েদের ।সব কিছু মিলিয়ে হিমাদ্রী সব সময় ভিন্ন ভাবে চিন্তা করে এসেছে বলেই আজ তার সংসার তাসের ঘর মনে হয়েছে আর তাই সেই তাসের ঘর মনে হয়েছে আর তাই আজ ভেঙ্গে দিয়ে মুক্ত হয়েছে নিজের স্বপ্ন পুরন করার জন্য।ছোট বেলা থেকে কত স্বপ্ন দেখেছে।সে স্বপ্ন পুরন না করেই কেনো পৃথিবী থেকে বিদায় নিবে!মানুষের জন্ম হয় একবার। তাহলে এক জীবনে কেনো সে তার মত করে জীবন উপভোগ করবে না!সমাজের কাছে হিমাদ্রী এখন একজন ডিভোর্সি মহিলা।লোকে নানা রকম কথা বলবে তবে হিমাদ্রীর কাছে সে সব কিছুই নয়।
রোহান দুদিন পর ঠিকি বিয়ে করে আবার নতুন সংসার শুরু করবে। কারন পৃথিবীতে কারো জন্য কোনো স্থান শূন্য থাকে না। হোক সেটা রোহান বা হিমাদ্রীর ক্ষেত্রে। হিমাদ্রী চাই নিজের সাজানো এক সুন্দর জীবন।যেখানে তাকে কারো উপর নির্ভরশীল হতে হবে না। সংসারের এই মায়াজালে আটকে থাকলে হিমাদ্রীর কোনো ইচ্ছায় পুরন হত না। বই এর অনেকগুলো অধ্যায় থাকে। এর মধ্যে যেমন কিছু অধ্যায় থাকে যা আমাদের পছন্দ হয় না বলে বাদ দিয়ে পড়ি, বিয়েটা ছিলো হিমাদ্রীর কাছে তেমন একটা অধ্যায়। ভালো লাগেনি বা মানিয়ে নিতে পারেনি বলে এই অধ্যায় সে আজ বাদ দিয়ে নতুন অধ্যায়ে পা দিলো।সব কিছুই তো আর সমাজের নিয়মে হবে না কিছু কিছু নিজের নিয়মেও করতে হয়।তাই তাস ঘর রেখে কি লাভ যেটা ভাঙবেই কোনো না কোনো দিন তার থেকে আগে নিজ থেকেই ভেঙ্গে দেওয়া ঢের ভালো।

Close