তানোরশিরোনাম-২

মিথ্যা ষড়যন্ত্রের শিকার মুন্ডুমালা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক – চার্চে ধর্ষিত কিশোরীর ভাই স্বপন

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত সেপ্টেম্বর মাসের ২৬ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত ৩ দিন আটকে রেখে এক আদিবাসী কিশোরীকে ধর্ষণ করেন মুন্ডুমালা গির্জায় ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী। এই ঘটনায় মুন্ডুমালা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামেল মার্ডিকে জড়িয়ে নানা ধরনের সংবাদ প্রচার এবং মানববন্ধন থেকে নানা ধরনের অপ-প্রচার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। কামেল মার্ডির প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় ধর্ষনকারী ফাদার প্রদীপ গ্রেগরী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং হাস্যকর সালিশ করে বিষয়টা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে দাবী কর হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামিল মার্ডী বলেন, তাঁকে নিয়ে যেসব কথা উঠে আসছে তা সঠিক নয়। এই ঘটনা সম্পর্কে প্রথমে তিনি জানতেন না। যেদিন এই ঘটনা প্রকাশ পায় সেদিন সোমবার ছিলো। ঐদিন দুপুরে গীর্জার পক্ষ থেকে একটি সালিসি বৈঠক বসানো হয়। সালিসি বৈঠক ধর্ষণের শিকার ঐ তরুনীর লেখাপাড়া ও ভরণ পোষনসহ বিয়ের আগ পর্যন্ত সকল খরচ বহন করার হবে বলে গীর্জার পক্ষে থেকে বলা হয়।
সে সময়ে রাজশাহী ধর্ম প্রদেশের তিনজন প্রতিনিধি পাঠান ফাদার। এদের মধ্যে ফাদার উইলিয়াম মুর্মু, ফাদার ইমানুয়েল রোজারিও ও, ফাদার পল গোমেজ, অত্র গীর্জার পুরোহিত ফাদার প্যাট্রিক এবং স্থানীয় গ্রাম্য প্রধান মাইকেল হেমরণ ও মহেষ মুর্মু সালিশ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এর পর তাঁকে উভয় পক্ষ মোবাইলে খবর দেন এবং সালিশে আসার জন্য বলেন, সালিশ প্রায় শেষের দিকে তিনি সেখানে উপস্থিত হন এবং উপরোক্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে জানতে পারেন বলে জানান কামেল মার্ডী। তিনি পৌঁছার পর গ্রাম প্রধানদের পক্ষ থেকে সমাজের জন্য একটি অর্থ দাবী করা হলে সেখানকার ফাদার ২০০০টাকা প্রদান করেন। প্রকৃত পক্ষে ২০০০ টাকা দিয়ে ঐ কিশোরীর কোন মীমাংশা করেন নি ফাদার ও গ্রাম্য মোড়লগণ।
তিনি আরো বলেন, তাঁকে নিয়ে নানা প্রকার বিভ্রান্তমূলক গুজব ও খবর প্রকাশ করা হচ্ছে। বিভিন্ন পত্রিকায় মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তিনি আসামীর পক্ষ নিয়ে মীমাংশা করেছেন বলে খবর প্রকাশ কার হয়েছে। টাকা নিয়ে মীমাংশা করাতো দূরের কথা তিনি বরাবর দোষী ফাদারের বিপক্ষে আছেন। তিনি এই ফাদারের শাস্তি দাবী করেন। কামেল বলেন, ফাদার গ্রেগরিকে আইনের আওতায় আনার জন্য ধর্ষীতার বড় ভাইকে সাথে নিয়ে থানায় গিয়ে ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করান। সেইসাথে ধর্ষীতার নিরাপত্তার কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, এই সালিশের কোন প্রকার লিখিত করা হয়নি। এছাড়াও এই সালিশের আয়োজক তিনি ছিলেন না।
কামেল মার্ড়ীর বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে সে সম্পর্কে ধর্ষিতার বড় ভাই, এই মামলার বাদী স্বপন হাঁসদা বলেন, মুন্ডুমালা সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামেল মার্ডীকে স্যারকে নিয়ে পত্র পত্রিকায় যেসব খবর প্রকাশ এবং বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য প্রদান করা হচ্ছে তা সঠিক নয়। কারন প্রধান শিক্ষক তাদের সালিশে ডাকেননি। বিশপে প্রতিনিধিরা চার্চে আসার পরে ফাদার তাদের সেখানে ডাকেন। কামেল মার্ডী প্রায় সালিশের শেষের দিকে আসেন। এখানে তিনি কোন প্রকার সিদ্ধান্ত দেননি এবং ধর্ষনকারীর পক্ষও নেননি। উপরোন্ত প্রধান শিক্ষক আমাকে সঙ্গে করে থানায় নিয়ে গিয়ে মামলা করতে সহযোগিতা করেছেন। এছাড়াও তিনি ধর্ষক ফাদারের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান সেখানে।
তিনি আরো বলেন, চার্চ কর্তৃপক্ষ আমার বোনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা প্রকার সহযোগিতার কথা বলেন। তবে এই সহযোগিতা অপ্রতুল বলে জানান স্বপন। এখন তিনি বোনের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশী চিন্তিত। তিনি এই ফাদার গ্রেগরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন। সেইসাথে প্রতিবাদকারীদের এবং সংবাদকর্মীদের নির্দোষ ব্যক্তি কামেল মার্ডীকে নিয়ে এ বিষয়ে বিভ্রান্তমূলক খবর প্রকাশ এবং বক্তব্য দেয়া থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন স্বপন।
বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/অপস

Close