নাগরিক মতামতশিরোনাম-২স্বাস্থ্য বার্তা

গুরুত্ব দিন মানসিক স্বাস্থ্যকে

মাহমুদুল হাসান শিশির

স্বাস্থ্য বলতে আমরা সচরাচর শারীরিক স্বাস্থ্যকেই বুঝি, তবে সুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি গুরুত্ব দিতে হবে মানসিক স্বাস্থ্যকেও। শারীরিক ভাবে অসুস্থ বোধ করলে আমরা চিকিৎসকের শরনাপন্ন হয়ে থাকি, কিন্তু মানসিক অসুস্থতাকে প্রায়শই এড়িয়ে চলি। আমাদের সমাজে এখনও একটি বিষয় লক্ষ করা যায়, কেউ মানসিক ভাবে অসুস্থ থাকলে সাধারণত পাত্তা দেয়া হয়না, আর অসুস্থতার পরিমান বেশি হলে অনেকেই তাকে পাগল বা এরকম কিছু একটা ভেবে বসে। সাধারণ মন খারাপ অনেক সময় বিষন্নতায় রূপ নেয়, আর বিষন্নতা থেকেই জন্ম নেয় আত্মহত্যার প্রবনতা। সমাজের বহু মানুষকে আত্মহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলতে শোনা যায়, তবে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে তারা বরাবরই উদাসীন।

মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে উদাসীনতার অন্যতম একটি কারন সামাজিক সচেতনতার অভাব৷ কেউ মানসিক ভাবে অসুস্থ থাকলে আমাদের উচিত তার পাশে থাকা, তার সমস্যা গুলো শোনা এবং তা সমাধানের চেষ্টা করা৷ কিন্তু বাস্তবতায় আমরা ঠিক তার বিপরীত দৃশ্য দেখি৷ বর্তমানে বেশিরভাব মানুষের শোনার প্রবনতা খুব কম, সবাই বলতে চায়৷ মানসিক ভাবে ভেঙে পড়া বেশিরভাগ মানুষ তাদের সমস্যা গুলো বলে হলাকা হতে চায়, সেক্ষেত্রে সমাধানটা মূখ্য নয়৷ এছাড়াও বর্তমানে প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাতে গিয়ে অনেকেই সামাজিকতা ভুলে ভার্চ্যুয়াল জগতে গা ভাসায়৷ এরকম বহু মানুষ আছে যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যথেষ্ঠ সক্রিয়, তবে সামাজিকতা থেকে বহু দূরে৷ দিন শেষে এই মানুষ গুলোই একাকিত্বে ভোগে, একাকিত্ব থেকে আসে বিষন্নতা৷

মানসিক অসুস্থতা এমন একটি বিষয় যা এড়িয়ে চলা অসম্ভব৷ শরীরিক অসুস্থতার মতোই, মানসিক অসুস্থতাও একটি সাধারণ ব্যাপার৷ শরীরের যেমন চিকিৎসা হয়, তেমনি মানসিক চিকিৎসাও রয়েছে৷ তবে সব ক্ষেত্রেই যে ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে হবে তেমন টা না৷ প্রথমিক পর্যায়ে নিজে থেকেই আমরা মন ভালো করে ফেলতে পারি, কিন্তু সেটি যখন বিষন্নতার পর্যায়ে যায় তখন অবশ্যই আমাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে৷ শরীর সুস্থ রাখতে যেমন আমাদের দৈনিক কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়, মনের ক্ষেত্রেও গড়ে তুলতে হবে কিছু সুঅভ্যাস ৷

প্রথমত নিজেকে সময় দিতে হবে৷ প্রতিনিয়তই কাজের চাপে নিজের জন্য মোটেও সময় বের করা হয়ে ওঠেনা৷ দিনের কিছুটা সময় হলেও নিজের জন্য ব্যয় করা উচিত৷ দ্বিতীয়ত ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করলে মানসিক স্বস্তি লাভ করা সম্ভব৷ এছাড়াও বই পড়া, সংস্কৃতি চর্চা, ভ্রমণ কিংবা সৃজনশীল কাজ আমাদের মনকে প্রফুল্ল রাখে৷ ব্যাক্তি ভেদে মন ভালো রাখার অভ্যাস গুলো পরিবর্তিত হবে৷ তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, নিজের মন ভালো রাখার অভ্যাস টা যেন অন্যের ক্ষতির কারণ হয়ে না দাঁড়ায়৷

লেখক: সমাজকর্মী

Close