নাগরিক মতামতমহানগরশিরোনাম

নিউ মার্কেটের দুইধার যেন মোটরসাইকেলের গ্যারেজ !

মাহিন - আল বিরুণী

পৃথিবী বদলে গেছে যা দেখি নতুন লাগে! আর এই বদলের ছোঁয়া লেগেছে চিরচেনা রাজশাহী শহরের বুকেও। ছোট্ট শান্ত শহর রাজশাহীর রাজপথে আজ গাড়ির হর্ন, পা ফেলার জায়গা দখল করেছে অটোরিকশা। এই শহরে আগে কোনদিন ট্রাফিক জ্যাম বলে কোনো শব্দ ছিলোনা। তবে এখন শহরের প্রধান প্রধান স্থানগুলোতে জ্যাম আর গাড়ির থেমে থাকা নিত্য পরিচিত একট দৃশ্য।

শহরের এই রূপের বদলকে পাল্লা দিয়ে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করতে সরকার নিয়েছে নানা উদ্যোগ। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা বড় করা, রাস্তার বিভিন্ন টার্নিং বন্ধ করে অন্য রাস্তা দিয়ে টার্নিং নিতে বাধ্য করা, শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড় গুলোতে শক্তিশালী এল.ই.ডি লাইট স্থাপনসহ নানা উন্নয়ন কাজ চলছে। তবে বাস্তবে মানুষের উন্নয়ন হচ্ছে কতটা? বেশ কয়েক বছর আগে রাজশাহী বিন্দুরমোড় থেকে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত এক লেনের রাস্তাটার উন্নয়ন করে তাকে বর্ধিত করা হয়েছে দুই লেনের রাস্তায়। কিন্তু বাস্তবে সরকারের এই কোটি টাকার প্রজেক্ট জনগনের চলাচলে সহায় হওয়ার কথা থাকলেও হয়েছে প্রায় উল্টোটা! নিউ মার্কেটের সামনে রাস্তার দুই ধারে সারি সারি মটোরসাইকেল পার্কিং করা হয় সকাল থেকে রাত অব্দি। জনগনের দুর্ভোগ দূর করতে বোয়ালিয়া থানা থেকে একাধিকবার মাইকিং করা হয়েছে, এতে কাজ হয়নি। এরপর গত কিছুদিন আগে থানা থেকে পার্কিং না করার জন্য লাল রঙের সাইনবোর্ড দেওয়া হয়, মধ্যে সেই সাইবোর্ড গুলো দেখা যায়নি। তবে গতকাল থেকে আবার সেই সাইনবোর্ড চোখে পড়ছে। কিন্তু ফলাফল, থানার দেওয়া সাইনবোর্ডকে উপেক্ষা করে সাইনবোর্ডের সামনেই চলছে পার্কিং। নিউ মার্কেটের সামনের ফুটপাত দখল করে চলছে রমরমা অস্থায়ী দোকানের ব্যবসা। একাধিকবার প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের উচ্ছেদ করলেও ফলাফল কয়েক সপ্তাহের বেশি বিদ্যমান থাকে না। একজন পথচারী বলেন,” নিউ মার্কেটের গেটের সামনে দুই-তিন লাইনে আটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকে। রাস্তা পার হওয়া বা নিউ মার্কেটে ঢুকা-বের হওয়াই দায়।” রাস্তার উপর দিকে আছে উত্তরবঙ্গের সর্বপ্রথম মোবাইল মার্কেট, আফতাব প্লাজা। রাস্তার এই ধারের চিত্র দেখলে মোটরসাইকেলের শোরুম মনে হতে পারে। মোবাইল মার্কেটের উত্তর দিকে একটি গলি আছে যা একটি আবাসিক এলাকার প্রবেশপথ। এই প্রবেশ পথের এক ধার দিয়ে মোটর সাইকেলের আরেকটি সারি দেখা যায়। এইখানে মোটরসাইকেল রাখার ফলে ঐ গলি দিয়ে সহজে কোনো যানবাহন ঢুকতে বা বের হতে পারে না। আবার মানুষের সাধারণ হাঁটাচলাও ব্যাহত হয়। এইসব মোটরসাইকেল রাস্তা বন্ধ করে রাখে আর ইটে বাঁধানো এই গলির রাস্তাটার অবস্থা খারাপ হওয়াই কাউকে সাইড দিতে যেয়ে মাঝে মাঝেই কিছু ছোট দুর্ঘটনা ঘটে। যা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, “সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা বড় করেছে, লাভ কি? এই রাস্তা তো গ্যারেজের কাজে লাগে। হাটা যায়না।” এমন শত শত অসন্তোষজনক বক্তব্য আছে জনগনের মনে। জনগনের স্বার্থে স্থানীয় ছাত্রনেতার পক্ষ থেকে গলিটির মুখে, “এই গলিতে পার্কিং নিষেধ। সামনে স্টাইলো গ্যারেজ আছে।” এমন ব্যানার লাগানো হয়েছে তবুও কমেনি পার্কিং।

রাস্তার উপরে দোকান আর এই লাগামহীন পার্কিং এর সমস্যা অতিষ্ঠ প্রায় নগরবাসী। সকলের দাবী প্রশাসনের চূড়ান্ত এবং দ্রুত হস্তক্ষেপ। না হলে রাস্তা যতই বড় করা হোক চলাচলের সুবিধা পাচ্ছেন না পথচারীরা।

লেখক: নাগরিক সাংবাদিক, বরেন্দ্র বার্তা।

Close