শিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম

ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে রাবিতে নগ্নপায়ে নিরবতা ও অবস্থান কর্মসূচি

রাবি প্রতিনিধি: কোটা সংস্কারের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার প্রতিবাদে প্রক্টরের বাঁধা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নগ্নপায়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।

আজ মঙ্গলবার (৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান করতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে প্রক্টরিয়াল বডি উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদেরকে চলে যেতে নির্দেশ দেন।

এসময় গতকাল সোমবার শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে অভিযোগ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেন তারা। তবে প্রক্টর লুৎফর রহমান শিক্ষার্থীদের অভিযোগগুলো লিখিত চেয়ে অবস্থান স্থল থেকে চলে যেতে ধমক দেন। তবে শিক্ষার্থীরা অবস্থান অব্যাহত রাখতে চাইলে প্রক্টর শিক্ষার্থীদের আবারও ধমক দিয়ে বলেন, ‘এই ছেলে যাবি না কেন? তোদের দাবি কি?’

এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান ফেসবুক স্ট্যাটাসে নগ্নপায়ে আসার ঘোষণা দেন। ফরিদ উদ্দিন খান তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেন ‘দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটা সংস্কারের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলা ও লাঞ্চনার প্রতিবাদে নগ্নপায়ে অফিসে যাবো। সকাল ১১ টা থেকে ১২ টা পর্যন্ত জোহা স্যারের মাজারে দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করবো। খালিহাতে, নগ্নপায়ে এবং নিরবে যে কেউ অংশ নিতে পারবে। কোন স্লোগান না, বক্তৃতা না, না কোন রাজনীতি। এই নগ্নপায়ে নিরব প্রতিবাদ বোঝাবে আমরা আর সভ্য সমাজের নাগরিক নই, যেখানে বাক স্বাধীনতা আছে, যেখানে ন্যায় সঙ্গত প্রতিবাদের সুযোগ আছে।’

এ ঘটনায় আজ মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জোহা চত্বরে আসতে থাকে। শিক্ষকরাও আসতে থাকেন। উপস্থিত হন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড.রায়হানা শামস্ ইসলাম, শিক্ষা গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভাগের অধ্যাপক ড.আকতার বানু, আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড.ইফতিখারুল আলম মাসউদ, ফার্মেসী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড.মো.বায়তুল মোকাদ্দেসুর রহমান, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো.ছাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

তবে ঘোষণা দেওয়া শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন খান অবস্থান স্থলে আসতে পারেন নি। তাকে আসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ও অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি কে বিএম মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে। মাহবুবুর রহমান তাকে আটকানোর বিষয়টি স্বীকার করেন।

অন্যদিকে বেলা ১১ টা থেকে সেখানে নগ্নপায়ে অবস্থান কর্মসূচী শুরু হলে প্রক্টর এসে বাধা প্রদান করেন। অবস্থান কর্মসূচী ১২ টা পর্যন্ত চলে।

এদিকে অবস্থান কর্মসূচী চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্যারিস রোডে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনুর নেতৃত্বে ঘোর অবস্থান নেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এসময় প্রক্টর আবারও উপস্থিত হন। বাধা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা বলেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার বিষয়টি আমাদের কাছে খারাপ লেগেছে। তাই আমরা এখানে তাদের সাথে সংহতি প্রকাশ করার জন্য দাড়িয়েছি। ১০ মিনিট অবস্থান করে চলে যাওয়ার কথা বলে তারা। কিন্তু এই বিষয়টিকে ইস্যু করে বিএনপি-জামাতপন্থী শিক্ষকরা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছিল। এখন তারা চলে গেছে পরিস্থিতি শান্ত আছে।

বরেন্দ্র বার্তা/আসশ/কাহাঅ

Close