বগুড়া

বাংলাদেশ কৃষক সমিতি বগুড়া জেলা কমিটির বর্ধিতসভা ও কৃষক এর সাথে মতবিনিময়

 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: বাংলাদেশ কৃষক সমিতি বগুড়া জেলা কমিটির উদ্যোগে জেলা সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা সন্তোষ কুমার পালের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাসান আলী শেখ এর পরিচালনায় আজ ১৩নভেম্বর, শুক্রবার সকাল ১১টায় কৃষকদের বর্ধিতসভা অনুিষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক শফি কমল, কৃষক সমিতি বগুড়া জেলা কমিটির সহ-সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা মকবুল হোসেন, সদস্য জাবেদ আলী, কৃঞ্চ মাহাতো।
বক্তারা বলেন, প্রাণঘাতি করোনার ভয়াল থাবায় গোটা দেশ ও সমগ্র দুনিয়া আজ বিপর্যস্ত। প্রতিদিন মৃতের সংখ্যা বাড়ছে,অর্থনীতি মারাত্মক সংকটগ্রস্ত। দেশের অর্থনীতির সকল খাতে ধ্বস নামলেও কৃষিই অর্থনীতিকে সচল রেখে জনগণের প্রয়োজন মেটাচ্ছে।এর পেছনে রয়েছে মেহনতী কৃষকদের ত্যাগ ও ঝুঁকি নিয়ে কৃষিতে অক্লান্ত শ্রম। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে আসন্ন ভয়াবহ মন্দায় রপ্তানী ও প্রবাসীদের রেমিট্যান্স খাতে ধ্বস নেমে আসবে।ফলে আগামী দিনে কৃষিই আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

তাই কৃষি ও কৃষিসংশ্লিষ্ট কৃষকদের স্বার্থে নিম্নোক্ত দাবীসমূহ বাস্তবায়ন অতি জরুরী। এগুলো হলো:
১। সরকারের পক্ষথেকে বোরো ধান কাটা, মাড়াই ও নিরাপদে ঘরে তোলায় যথাসম্ভব হার্বেস্টার দিয়ে সহযোগীতা প্রদান এবং বেসরকারি হার্বেস্টারের রেট নির্ধারণ করে দেওয়া।
২। বর্তমান সংকটকালে ক্ষুদ্র ও মাঝারী সবজিচাষি, পোল্ট্রি, ডেইরী ও গবাদিপশু খামারীদের জন্য ২% সরল সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা।
৩। প্রতিটি ইউনিয়নে ক্রয়কেন্দ্র চালু করে ২০ লক্ষ টন ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে এবং ১০ লক্ষ টন চাল চাতালের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে ক্রয়ে ব্যবস্থা গ্রহন। গুদাম সংকট নিরসনে অগ্রিম টাকা দিয়ে কৃষকের কাছ থেকে কেনা ধান কৃষকের গোলায় অথবা অস্থায়ীভাবে ভাড়া করা গুদামঘরে রাখা যেতে পারে।
৪। চিনিকলসমূহের কাছে আঁখচাষীদের পাওনা ২০০ কোটি টাকা অবিলম্বে পরিশোধ করা।
৫। বিভিন্ন এলাকায় অনাবাসী ক্ষেতমজুরদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্তো, ১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবীমা সুবিধাসহ নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করা।এসব ক্ষেতমজুর পরিবারকে একমাস চলার ত্রান-সাহায্য অগ্রিম প্রদান ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করা।
৬। সবজি জাতীয় কৃষিপণ্য সরকারী ব্যবস্থাপনায় বাজারজাত করা, ডিম-দুধ ত্রান-সাহায্যের সাথে যুক্ত করে বিতরণ করা।ত্রান-সাহায্য বিতরণে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, দলীয়করণ বন্ধ করা।
৭। গ্রামাঞ্চলে কর্মরত সকল ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মি, পরিবহন ও কৃষি শ্রমিকের সুরক্ষায় মাস্ক ও পিপিই-র ব্যবস্থা করা।
৮। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারী ক্রয়কেন্দ্র, খাদ্যগুদাম ও সবজিচাষ অধ্যুষিত অঞ্চলে হিমাগার নির্মাণ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা।
অতঃপর আমরা প্রত্যাশা করি উপরোক্ত দাবীসমূহ বাস্তবায়নে সরকার কার্যকর ভূমিকা পালন করে দেশের কৃষি ও কৃষক রক্ষায় এগিয়ে আসবেন।

বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close