মহানগরশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম-২

তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার বাপ্পীর মুক্তি দাবি সাংবাদিকদের

 

কামরুল হাসান অভি, রাবি : পাঁচ বছর আগে তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার করে দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি মানিক রাইহান বাপ্পীকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকসহ দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা।

রোববার দুপুরে তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। রোববার বেলা দুইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার চত্ত্বরে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, রাজশাহীর স্থানীয় সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলীসহ ৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।

রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন বিপ্লবের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা সাংবাদিকদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মুক্ত বাক স্বাধীনতার প্রতি নগ্ন আঘাত। একজন শিক্ষক হয়ে শিক্ষার্থীকে মামলা দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে যে হয়রানি করেছে এটির তার নৈতিক পদস্খলন হয়েছে। এখন কাজ করে সাংবাদিকদের কলম রোধ করা যাবে না।

বাপ্পীকে গ্রেপ্তার ও মামলার বিষয়টি সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা উল্লেখ্য করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সভাপতি আরাফাত রহমান বলেন, এধরণের মামলা গোটা সাংবাদিক মহলের জন্য হুমকি স্বরূপ। মূলত অভিযুক্তদের কর্মকাণ্ড আড়াল করার চেষ্টা থেকে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের হয়রানি করাই এ মামলার উদ্দেশ্য বলে মনে করিএভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো পরিসরে সাংবাদিকেরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যদি হয়রানির শিকার হতে হয় তবে, অন্যান্য ক্যাম্পাসগুলোতেও সাংবাদিকতার পথ আরো সংকুচিত হয়ে যাবে। কাজের পরিবেশ রুদ্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হবে। তাই দ্রুত এই মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি একই সাথে গ্রেপ্তার মানিক রাইহান বাপ্পীর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহিন আলম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ সবসময়ই সাংবাদিকদের নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা করেন। কোন সাংবাদিক শিক্ষকদের স্বার্থের বিপরীতে অবস্থান নিলেই তাকে হেয় প্রতিপন্ন ও হয়রানি করতে উনারা উঠেপড়ে লাগেন।

এ ঘটনায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসাইন বিপ্লব বলেন, শুরু থেকেই আমরা আইনের বিরোধিতা করে আসছি। ধারায় অপরাধ ও আইনের সামঞ্জস্যতা নেই। আমরা চাই অবিলম্বে সাংবাদিকদের হয়রানিমূলক এই আইন বাতিল করা হোক। আর দ্রতই সাংবাদিক মানিক রাইহান বাপ্পীকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রাবি প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি আকরাম হোসাইন, রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আরাফাত রহমান, সহ-সভাপতি হারুন অর রশিদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ফরিদ, রাবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহিন আলম, সাবেক সভাপতি সুজন আলী প্রমুখ।

এর আগে ২০১৫ সালের অক্টোবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের তখনকার আবাসিক শিক্ষক ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক কাজী জাহিদের বিরুদ্ধে সিট বরাদ্দ দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

এ সংবাদ প্রকাশের জের ধরে ২৪ অক্টোবর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ক্ষুব্ধ ওই শিক্ষক যুগান্তরসহ ১৬টি পত্রিকার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা দায়ের করেন। সে সময়ে বাপ্পী ২৪বিডিটাইম ডটকম নামে একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলার এজহারে তার নামও উল্লেখ করা হয়েছিল। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ আরও সাত জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, মতিহার থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মোমিন।

মামলায় তিনি দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, যুগান্তরের তৎকালীন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি হাসান আদিব, যুগান্তরের বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মানিক রাইহান বাপ্পী ও রাজশাহীর স্থানীয় দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলীসহ ৮ সাংবাদিককে আসামী করা হয়েছে।

এ মামলার প্রেক্ষিতেই গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হন সাংবাদিক মানিক রাইহান বাপ্পী। পরে ১৪ নভেম্বর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এ সাংবাদিক নেতার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ ও মুক্তির দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, ডুয়েট সাংবাদিক সমিতি, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন।

মানিক রাইহান বাপ্পীর বাড়ি চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৪-১৫ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ছাড়া, রাবি প্রেস ক্লাবের ২৯তম কার্যনির্বাহী কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। বাপ্পী বর্তমানে যুগান্তরের রাবি প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close