চাঁপাই নবাবগঞ্জশিরোনাম-২

ধানের শীষে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন শিবগঞ্জের লিটিল

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভা মেয়রের চেয়ার পুনরুদ্ধারে বিএনপি নেতাকর্মীদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন মতিউর রহমান লিটিল। যদিও ধানের শীষের মনোনয়ন নিশ্চিত হয়নি সাবেক এই যুবদল নেতার। এই পৌরসভায় ধানের শীষের দাবিদার রয়েছেন পৌর বিএনপির সভাপতি সফিকুল ইসলাম এবং জেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক ওজিউল ইসলাম ওজুল মিয়া।

জানা গেছে, সফিকুল ইসলাম গত মেয়াদে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েও পৌরভোটে হেরে যান। আর ওজুল মিয়া কখনোই ভোটের আলোচনায় ছিলেন না। স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানাচ্ছেন, এই তিন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে লিটিল বেশ সক্রিয়। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এলাকায় রয়েছেন। দলীয় কোন পদে না থেকেও সুখে দুঃখে নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক কাজেও জড়িয়েছেন তিনি। অন্য দুজনের তেমন কর্মকাণ্ড নেই। ফলে প্রার্থীতার দৌড়ে লিটিলই রয়েছেন এগিয়ে।

নেতাকর্মীরা আরো জানাচ্ছেন, শিবগঞ্জ বিএনপির ঘাটি। তা সত্ত্বেও গত নির্বাচনে পৌরসভায় মেয়রের চেয়ার বিএনপি দখলে নিতে পারেনি। শোনা যাচ্ছে, বর্তমান মেয়র কারিবুল হক রাজিন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হচ্ছেন। সাবেক ছাত্রনেতা সৈয়দ মনিরুল ইসলামও চান নৌকায় উঠতে। এই দুজনই সক্রিয় রয়েছেন ভোটের মাঠে। তাছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগে রয়েছে স্থানীয় একাধিক গ্রুপিং। পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে, করোনাকালে লিটিল মানবিক সহায়তা নিয়ে দুর্গত মানুষের দরজায় দরজায় গেছেন। অসুস্থদের চিকিৎসা এমনকি কন্যাদায়গ্রস্থ পিতাকে মেয়ের বিয়ের খরচ যোগান দিয়েছেন। নিজ উদ্যোগে এলাকার কিছু মাদকাসক্ত যুবককে নিরাময়কেন্দ্রেও পাঠিয়েছেন। ঈদ-পার্বণে দুস্থদের মাঝে হাজির হন উপহার নিয়ে। অন্যরা কোননা কোন বিনিময় চাইলেও তিনি কখনো বিনিময় চাননি। মেয়র হিসেবে এমনই প্রার্থী চান স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মতিউর রহমান লিটিল ১৯৮৮ সালে শিবগঞ্জ সরকারী মডেল উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। এরপর শিবগঞ্জ কলেজে ভর্তি হন। ১৯৮৯ সালে তিনি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দেয়া ৫০টিরও বেশি মামলা হয় তার নামে। ১৯৯২ সালে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে জননিরাপত্তা আইনে জেলায় প্রথম মামলার একমাত্র আসামী হন তিনি। আওয়ামী লীগের ওই মেয়াদে ২২টিরও বেশি মামলা হয় তার নামে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে লিটিল বিএনপির সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়ার ব্যক্তিগত সহকারী নিযুক্ত হন লিটিল। এই পদে ২০০৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্বপালন করেন। এরপর রাজনীতির পাশাপাশি একে একে ঠিকাদারি, আমদানি-রপ্তানী, বাণিজ্যিক ফলবাগান ও মৎস খামার করেন। তার এসব ব্যবসা নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘বাঁধন গ্রুপ’। ধানের শীষের মনোনয়ন পেলে মেয়রের চেয়ার পুনরুদ্ধারে আশাবাদি মতিউর রহমান লিটিল। তিনি বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করেন ঠিকই, কিন্তু মেয়র প্রার্থী হবেন এই লক্ষ্য নিয়ে জনসেবায় নামেননি।

সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি সাধ্যমত মানষের সেবা করছেন। এলাকার সাধারণ মানুষ চাইছে, তিনি মেয়র হলে সেবার পরিধি আরো বাড়বে। এখন দল চাইলে তিনি ধানের শীষের প্রার্থী হবেন। মেয়র হলে আধুনিক পৌরসভা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন মতিউর রহমান লিটিল। তিনি বলেন, এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ড নিয়ে তিনি আলাদা পরিকল্পনা নেবেন। গণমুখি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে উন্নয়নের সুফল পৌঁছে নেবেন পৌরবাসীর দরজায়। পৌরসভা গঠনের আগে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯২ পর্যন্ত শিবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ ছিলো। পৌরসভা গঠনের পর ১৯৯৫ সালে প্রথম নির্বাচন হয়। তাতে জয়লাভ করেন বিএনপির মোতাহারুল ইসলাম ঘেটু। পরের মেয়াদে জামায়াতের কাছে চেয়ার হারায় বিএনপি।

তবে ২০০৬ সালে মেয়রের চেয়ার পুনরুদ্ধার করে বিএনপি। ২০০৬ এবং ২০১১ সালের পর পর দুটি নির্বাচনেই মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি নেতা শামিম কবির হেলিম। দলীয় প্রতীকে সর্বশেষ ২০১৫ সালের নির্বাচনে অংশ নিলেও হেরে যান ধানের শীষের প্রার্থী।

বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close