বাগমারাশিরোনাম-২

ঘুষ নেয়ার অভিযোগে তাহেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই হারুন প্রত্যাহার, তদন্ত শুরু

আব্দুল মতিন, বাগমারা: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হারুন-উর-রশিদকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। একটি দোকান থেকে ওই পুলিশ কর্মকর্তা টাকা নিচ্ছেন, এমন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর গত বুধবার রাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে কিছুদিন আগে তিনি ওই দোকান থেকে ধুমপানরত অবস্থায় টাকা গ্রহন করেন বলে জানা যায়।
গত মঙ্গলবার বাগমারা হেল্পলাইন নামের একটি ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে ১ মিনিট ৪ সেকেন্ড ও ৩৫ সেকেন্ডের দুটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। ভিডিও দুটিতে দেখা যায়, একটি দোকানে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন এএসআই হারুন-উর-রশিদ। তবে যিনি টাকা দিয়েছেন, তাঁকে দেখা যায়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বাগমারার তাহেরপুরে আশিক টেলিকম নামের একটি দোকানে এসব ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। দোকানের মালিক আশিকুর রহমান জানান, এএসআই হারুন-উর-রশিদ তাঁর দোকানে এসেছিলেন। তখন আরেকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করে দেওয়ার কথা বলে তিন হাজার টাকা নিয়েছিলেন হারুন-উর-রশিদ।

এ বিষয়ে জানতে আজ বৃহস্পতিবার হারুন-উর-রশিদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তিনি ফোন ধরেননি। খুদে বার্তা পাঠিয়েও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় লোকজনেরা অভিযোগ করেন, উপসহকারী পরিদর্শক হারুণ অর রশিদ তাহেরপুরে যোগদানের পর থেকে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। করোনাকালীন বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করতেন। তিনি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে অপতৎপরতা শুরু করেন। অভিযুক্তদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করা ছাড়াও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। তাহেরপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মঙ্গলপাড়া গ্রামের এনামুল হক অভিযোগ করেন, এক ব্যক্তি তাঁর বিরুদ্ধে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য এএসআই হারুণের কাছে অভিযোগ দেন। এর প্রেক্ষিতে তাঁর কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায়ের জন্য বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। তাহেরপুর পৌর আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা অভিযোগ করে বলেন, তাহেরপুর পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের দায়িত্বে একজন উপপরিদর্শক থাকলেও সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি। চোরাই মোবাইলের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করা ছাড়াও মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সখ্যতা ছিল। মাদক সেবী ও ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সময়ে মাদকদ্রব্যসহ আটকের পর টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ভূক্তভোগী এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। বাজারের বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকেও নিয়মিত টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। সহকারী উপপরিদর্শক হারুণ অর রশিদ একটি প্রাইভেট কারে চলাফেরা করতেন। প্রাইভেট কারটি পুলিশ কেন্দ্রেই রাখা হতো। তবে আজ বৃহস্পতিবার তা দেখা যায়নি। এ ব্যাপারে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাক আহম্মেদ জানান, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার মাধ্যমে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনা আসলে কি ঘটেছিল তা জানা যাবে।

এদিকে এএসআই হারুণ অর রশিদকে প্রত্যাহারের পর বৃহস্পতিবার (৩ডিসেম্বর) বিকেলে রাজশাহীর সদর সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন দে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ভুক্তভোগী ব্যক্তি ছাড়াও বাজারের বিভিন্ন ব্যক্তি ও পেশার লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছেন।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র ইফতেখায়ের আলম জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন দেব কে তদন্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই বিষয়ে গতকাল সন্ধ্যায় যোগাযোগের চেষ্টা করেও তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত তিনি ঘটনাস্থলেই তদন্তকাজে অবস্থান করছিলেন।

এ সম্পর্কে রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার ইফতেখার আলম বলেন, এএসআই হারুন-উর-রশিদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close