কর্মখালিশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম-২

যোগাযোগ দক্ষতা (Communication skills)

জিনাত তারা নীলা

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যোগাযোগ দক্ষতা একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। কর্মজীবন , ব্যক্তিগত জীবন বা সামাজিক সব ক্ষেত্রেই যোগাযোগ দক্ষতার প্রয়োজন। প্রাচীন যুগে যোগাযোগ এর মাধ্যম ছিল পায়ে হেঁটে বা ঘোড়ায় চেপে নিজে যেয়ে বা দূত মারফত খবর দেয়া। বর্তমান যুগে যোগাযোগ এর অনেক সহজ মাধ্যম রয়েছে। মোবাইল ফোন, ইমেইল, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ অন্যতম। কর্মজীবন বা পেশাদারী জীবনে উন্নতি করতে হলে আপনাকে যোগাযোগে দক্ষ হতে হবে এবং বিশেষ কিছু টিপস মেনে চলতে হবে।

  • পেশাদারী জীবনে সর্বপ্রথম নিজের কর্ম দক্ষতা বাড়াতে হবে। পেশাদারী জীবনে নিজের কর্ম দক্ষতা বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই।
  • আপনার কর্মদক্ষতা যতো বাড়বে, পেশাদারী জীবনে আপনি ততোটাই সফল হবেন।

ক্লায়েন্ট এর সাথে যোগাযোগ

  • ক্লায়েন্ট এর সাথে কখনও ইনফরমাল ব্যবহার করবেন না।
  • ভদ্রতার সাথে কথা বলুন।
  • সর্বোচ্চ সহায়তা দিন।
  • ক্লায়েন্ট এর প্রশ্নের সঠিক জবাব দিয়ে সন্তুষ্ট করুন।
  • ক্লায়েন্ট এর প্রশ্নের সঠিক জবাব না জানা থাকলে তাকে নির্দিষ্ট  ডিপার্টমেন্ট এ পাঠান।

ক্লায়েন্ট এর ধরণ বুঝে যোগাযোগ করুন-

স্বনির্ভর ক্লায়েন্ট 

  • এই ধরনের ক্লায়েন্ট যারা কোন কিছুতেই সন্তুষ্ট হন না। তারা আরও বেশি সেবা চান।
  • সমস্ত ইনফর্মেশন দেওয়ার পরও আপনি তাদের সন্তুষ্ট করতে পারবেন না।
  • এই ধরনের ক্লায়েন্ট এর ব্যাপারে আরো বেশি প্রোফেশনাল হোন।
  • তাদের কে আরো  ধৈর্য সহকারে সার্ভিস দিন।

চাহিদা সম্পন্ন ক্লায়েন্ট 

  • এই ধরনের ক্লায়েন্টরা খুব আক্রমণাত্মক মানসিকতার হয়। তারা কোন কাজেই নিয়ম অনুসরণ করে করতে চায় না।
  • এই ধরনের ক্লায়েন্টদেরকে ধৈর্য সহকারে এবং বুদ্ধিমত্তার সাথে সার্ভিস দিতে  চেষ্টা করুন।

অন্যের দ্বারা প্ররোচিত ক্লায়েন্ট

  • এই ধরনের ক্লায়েন্টরা অন্যের দ্বারা প্ররোচিত হয়। আপনি যতই বোঝানোর চেষ্টা করুন না কেনো তারা নিজেরা যেটা বুঝে সেটাই তাদের কাছে সঠিক।
  • এই ধরনের ক্লায়েন্ট কে প্রমাণসহকারে কাজ বোঝানোর চেষ্টা করুন।

 

যোগাযোগের প্রকারভেদ

চার ধরনের যোগাযোগ রয়েছে

  • মৌখিক যোগাযোগ

সাধারনত মুখে কথা বলে আমরা এইধরনের যোগাযোগ করে থাকি। মৌখিক যোগাযোগ বহুল প্রচোলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা ।

 

  • লিখার মাধ্যমে যোগাযোগ

লিখার মাধ্যমে এইধরনের  যোগাযোগ করা হয়।

 

  • ভিজ্যুয়াল যোগাযোগ

বিভিন্ন ধরনের ছবি, ম্যাপ, রঙ, সংকেতিক চিহ্ন, পোষ্টার, ব্যানার বা ডিজাইনের মাধ্যমে এইধরনের যোগাযোগ হয়ে  থাকে।

 

  • সাংকেতিক ভাষা বা ব্রেইল ভাষা ব্যবহার এর মাধ্যমে যোগাযোগ

সাধারণত শারিরীক প্রতিবন্ধিরা ( বোবা বা কানে কমশোনা ) এই ভাষা ব্যবহার এর মাধ্যমে যোগাযোগ করে থাকেন।

 

যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতা

  • ভাষাগত প্রতিবন্ধকতাঃ

ভিন্ন ভাষাভাষির ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রতিবন্ধকতা হয়ে থাকে।

  • শারীরিক প্রতিবন্ধকতাঃ

কানে কম শোনা বা কথা বলতে না পারা যোগাযোগের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা।

  • অপরিচিত এবং জটিল শব্দ ব্যবহার।
  • আবেগপ্রবণতা।
  • মনোযোগের অভাব।
  • সাংস্কৃতিক ভিন্নতাও যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

 

যোগাযোগে দক্ষতা অর্জনের কিছু টিপস

  • সহমর্মি হতে হবে।
  • কঠোর নৈতিকতা মেনে চলতে হবে।
  • পেশাদারি মনোভাব থাকতে হবে।
  • কর্মদক্ষতা অর্জন করতে হবে।
  • আত্মবিশ্বাস থাকতে হবে।
  • বিনীত হতে হবে।

সঠিক আদবকেতা ,  সহমর্মিতা, কঠোর পরিশ্রম, নৈতিকতা এবং মানুষকে যথাযত সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমেই কেবল আপনি যোগাযোগের ক্ষেত্রে সঠিক দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন এবং একটি সুন্দর মনের পরিচয় দিয়ে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করতে পারবেন।

লেখক: জুনিয়র এ্যসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার, আশা ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ।

 

Close