সাহিত্য ও সংস্কৃতি

মুখোশ

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি

কিছুদিন থেকে একের পর এক খুন হতেই আছে। প্রত্যেকটা খুন এক ভাবে করা হচ্ছে। মুখে প্লাস্টিক পলেথিন বেধে শ্বাসরুদ্ধ করে। কিন্তু এখন পযর্ন্ত কে বা কারা এ খুন গুলো করছে তার হদিশ এখনো পুলিশ পাইনি। প্রত্যেকটা নিউজ, চ্যানেলের সাংবাদিকরা হন্ন্য হয়ে ঘুরে ব্যারাচ্ছে এই খুনের রহস্য মচন করার জন্য। কিন্তু রহস্যমচন করার মত এক সুচ ক্লু কেউ পাচ্ছে না। যে বা যারা এ খুন গুলো করছে খুব পরিকল্পিতভাবে এবং সাবধানে। সাধারনত অপরাধি অপরাধ করার পর কোনো না কোন ক্লু ফেলে যায় ভুল বশত কিন্তু এ খুনি কোনো ক্লু ভুল করেও ফেলে যায় নি। শহরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ৮:০৩ বাজে হিমাদ্রী অফিস থেকে বেরিয়ে সোজা পথ ধরে হাটতে শুরু করেছে। হিমাদ্রী একজন নাম করা টিভি রিপোর্টার। খুব সাহসী এবং নির্ভীক একটা মেয়ে।যে কোনো বিপদজনক রিপোর্ট করতে ও সে ভয় পাই না। যে সব কেশ হিমাদ্রী নেই প্রতিটা কেশেরি রহস্যমচন করেছে খুব নিখুত ভাবে। তার কাছে তার পেশাটা এডভেন্চার আর অনেক আনন্দদায়ক। এবারের খুনের রহস্যমচনও করবে হিমাদ্রী এটাই সবার আশা। হিমাদ্রী হাটতে হাটতে রাস্তার ঠিক মাঝখানটায় দাঁড়িয়ে গিয়ে আকাশের দিকে তাঁকালো। বিশাল বড় একটা চাঁদ আকাশ ভরা লক্ষ্য কোটি তারা। এমন চাঁদ আর আকাশ ভরা তারা দেখে যে কেউ তার প্রিয়জনের হাত ধরে পুরো রাত জেগে কাটিয়ে দিতে পারবে। হিমাদ্রীরও খুব ইচ্ছে করে তার প্রিয়জনের হাত ধরে এমন আকাশ ভরা তারা আর চাঁদ দেখবে। কিন্তু কিছু মানুষের স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায় সেটা বাস্তবে কখনো রূপ পাই না। আকাশের দিকে তাঁকিয়ে হিমাদ্রী ধ্রুবর কথা মনে করে। ধ্রুব এখন পৃথিবী নামক গ্রহ থেকে অনেক দুরে। সবাই বলে মানুষ মরে গেলে নাকি আকাশের তারা হয়ে যায় তার মানে ধ্রুবও নিশ্চয় আকাশের তারা হয়ে গেছে। এ তারাগুলোর মধ্যেই হয়তো লুকিয়ে আছে ধ্রুব।চুপিচুপি হিমাদ্রীকে দেখছে। ধ্রুবর মারা যাওয়া তিন বছর হয়ে গেছে। হয়তো ধ্রুব বেচে থাকলে হিমাদ্রীর কোনো ইচ্ছাই অপূরন থাকতো না। এসব ভাবতে ভাবতেই হিমাদ্রীর দু গাল বেয়ে চোখের পানি পড়তে শুরু করেছে।হিমাদ্রী চোখের পানি মুছে নিজেই নিজেকে বলল না কাঁদলে চলবে না হিমাদ্রী । তোর কাজ সম্পুর্ন করতে হবে। হিমাদ্রী তার হাত ঘড়ির দিকে তাকালো। দেখে ৯:৪৭ বাজে। আর মাত্র ১৩ মিনিটস।১৩ মিনিটস পর এ রাস্তা দিয়ে নাম করা শিল্পপতি জন চৌধুরী যাবেন। হিমাদ্রী আর এক মহুর্ত না দাড়িঁয়ে ফ্রাইওভারের ওপর এলো।একপাশে দাড়িঁয়ে আছে হিমাদ্রী। দুর থেকে দেখতে পেলো একটা মেরুন রঙ্গের গাড়ি আসছে লাইট জ্বালিয়ে।হ্যা এটাই শিল্পপতি জন চৌধুরীর গাড়ি। গাড়ির পিছন শিটে বসে আছে জন চৌধুরী। ফ্রাইওভারের ওপর গাড়িটি আসতেই থেমে যায়। তখন ঘড়িতে ঠিক ১০:০১ বাজে।মানুষরুপী পিশাচের রুপ ধারন করলো হিমাদ্রী। গাড়ির ভিতরে পরে রইল দুটি লাশ মুখে পলেথিন বাধা অবস্থায়। পরের দিন সকালে আবারো হিমাদ্রী ঠিক মতই অফিসে গেলো। সকালের প্রত্যেকটা খবরের কাগজে প্রথম পাতাতেই ছাপানো হয়েছে শিল্পপতি জন চৌধুরীর রহস্যময় মৃত্যু।একি ভাবে মুখে পলেথিন বাধা অবস্থায়। হিমাদ্রী ঠিক অন্য সবার মতই এই নিউজটা শুনে অবাক হয় এবং সবার সাথে সেও এ খুনের পিছনে কে বা কারা আছে তার রহস্যমচন করার জন্য বের হয়। সকাল থেকে দুপুর,দুপুর থেকে সন্ধা,আস্তে আস্তে রাত ঘনিয়ে আসছে। হিমাদ্রী আবারো অপেক্ষা করছে রাত ১০:০০ বাজার। একে একে ১২ টা খুন করেছে হিমাদ্রী আর মাত্র দুইজন। তবেই তার প্রতিশোধ নেবার পালা শেষ।কিন্তু হিমাদ্রী দুইজনের একজনকে মারবে। আর একজনকে বাঁচিয়ে রাখবে। কারন হিমাদ্রী কেশটা এমন ভাবে সাজিয়েছে, যে যাকে বাঁচিয়ে রাখবে ওই ১৩ টা খুনের দোষ হবে তার উপর। আসতে আসতে সময় ঘনিয়ে আসছে ঘড়িতে কাটায় কাটায় ১০:০০ বাজে। আরো একজনের খুন ঠিক একি ভাবে। সকালে আবারো হিমাদ্রী অফিসে গেলো। ১৩টা খুনের রহস্যমচন করল এতগুলা খুন করেছে রাকেশ মুখার্জি। রাকেশ মুখার্জি তার বিজনেসের জন্য এতগুলো খুন করেছে কারন এই ১৩ জন তার বিজনেস পাটনার ছিলো।১৩ জন বললে ভুল হবে ধ্রুবও ছিলো তাদের বিজনেস পাটনার।কিন্তু তিন বছর আগে এই ১৩ জন লোভে পড়ে ধ্রুবকে মেরে ফেলে আর ধ্রুবের সমস্ত সম্পত্তি আর বিজনেস এরা নিজেদের করে নেই। আর সমস্ত কিছুর মুলে ছিলো রাকেশ মুখার্জি তাই তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে হিমাদ্রী । বাচিয়ে রেখেছে বললে ভুল হবে। জীবন্ত লাশ বানিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। ১৩ টা খুনের দায়ে রাকেশ মুখার্জির ৩০২ ধারা অনুযায়ী ফাঁশির আদেশ দেয় আদালত। হিমাদ্রীর আজ খুশির দিন কারন সে ধ্রুবের খুনিদের প্রতিশোধ নিতে পেরেছে। সব সময় সত্যিটা খুজে বের করলেও হিমাদ্রী এবার নিজে মুখোশের আড়ালে রেখে দিলো তার পরপর করা ১৩ টা খুন। আর মুখোশের বাইরে রয়ে গেলো একজন নাম করা টিভি রিপোর্টার হিমাদ্রী । সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি

Close