মহানগরশিরোনাম-২সাহিত্য ও সংস্কৃতি

রাজশাহীর স্থবির সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড পুর্নজীবিত করার দাবি স্থানীয়দের

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্থবির হয়ে আছে রাজশাহীর সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড। স্থানীয় সংস্কৃতি কর্মীরা বলছেন, রাজশাহীর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে। কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ঝিমিয়ে পড়েছে রাজশাহীর সাংস্কৃতিক অঙ্গন। একে একে লোপ পাচ্ছে সংস্কৃতি চর্চার প্রতিষ্ঠানগুলোও। তাই সংস্কৃতি কর্মীদের প্রত্যাশা, এই নির্বাচনে যিনি মেয়র পদে বিজয় লাভ করবেন তিনি যেন এ অঞ্চলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে বিকশিত ও সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ নেন। বিশেষ করে মহানগরীতে একটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নির্মাণ, একটি বড় মিলনায়তন তৈরি, উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরিসহ নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের দাবি স্থানীয়দের।

রাজশাহী ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি আহসান কবীর লিটন বলেন, ‘একটি নেতৃত্ব একটি অঞ্চলের উন্নয়নের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। এক্ষেত্রে আমাদের সিটি মেয়র নির্বাচিত করার ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। যিনি নগরীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবেন তাকেই ভোট দিতে হবে। এর আগে সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন মেয়র থাকাকালীন পদ্মা তীরকে সংরক্ষণ করে পদ্মা তীরের চিত্রই পাল্টে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি রাজশাহীকে রিভার সিটি হিসেবে তৈরি করা, লালন শাহ মঞ্চের মতো আরও অনেক উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এছাড়া সংস্কৃতি বিকাশের ক্ষেত্রেও তিনি নানা ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বিশেষ করে নাট্যোৎসব ও কবিতা উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। এছাড়া বেকার সমস্যা দূর করা এবং চিকিৎসার সেবার উন্নয়ন করেছিলেন। তাই মেয়র নির্বাচনে তাকেই ভোট দেওয়া হবে যিনি উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন।’

নগরীর উন্নয়নে যিনি কাজ করবেন তাকেই ভোট দেওয়া হবে বলে মনে করেন ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন মাসুদ। তিনি বলেন, ‘রাজশাহী উন্নয়নে পিছিয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি প্রতিটি অঙ্গনে নগরী পিছিয়ে পড়েছে। তাই দল-মত-নির্বিশেষ আমাদের উচিত তাকেই মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করা, যিনি নগরীর উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। পাশাপাশি নগরীতে শিক্ষা ও সংস্কৃতির পরিবেশ বজায় রাখা, কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করবেন তাকেই মেয়র হিসেবে নির্বাচিত করা উচিত।’

সাংস্কৃতিক কর্মী তৌফিক ইমরোজ বলেন, ‘রাজশাহীতে বিশেষ করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও মিলনায়তন গড়ে তোলা উচিত। এছাড়া পদ্মার তীরে উন্মুক্ত মঞ্চও তৈরি করা প্রয়োজন।  সেই সঙ্গে বিনোদন কেন্দ্রগুলোও যত্নের অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের উচিত মেয়র পদে তাকেই নির্বাচিত করা উচিত যিনি নগরীতে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডল গড়ে তুলতে কাজ করবেন।’

রাজশাহী আবৃত্তি পরিষদের সহসভাপতি মনিরা রহমান মিঠি বলেন, ‘সংস্কৃতির চর্চা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনও বিষয় না। সমাজকে নিয়েই সংস্কৃতির চর্চা। এজন্য রাজশাহীতে প্রধান যে জিনিসটা দরকার তা হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি। কারণ কর্মসংস্থান না থাকায় অনেক দক্ষ সাংস্কৃতিক কর্মীরাও রাজশাহী থেকে চলে গেছেন। পরবর্তীতে তারা আর তাদের সেই চর্চাও চালিয়ে যেতে পারেননি। এজন্য প্রথমেই দরকার নতুন কর্মসংস্থান তৈরি। এবার যিনি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়ে নগরীর দায়িত্বে আসবেন। তার কাজ হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া।’ বরেন্দ্র বার্তা/অপস

 

 

Close