জাতীয়শিরোনাম

‘পাটশিল্পসহ রাষ্ট্রায়ত্ত খাত রক্ষা গণঅভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অঙ্গীকার’

গণঅভ্যুত্থান দিবসে আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ

বিশেষ প্রতিনিধি: ১১ দফা ৬ দফা দাবিতে আন্দোলনের পটভূমিতে ১৯৬৯ এ সংগঠিত গণঅভ্যুত্থানের ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম অঙ্গীকার হলো পাটশিল্পসহ রাষ্ট্রায়ত্ত খাত রক্ষা-মহান গণঅভ্যুত্থান দিবসে পাট-সুতা ও বস্ত্রকল শ্রমিক কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথা বলেন।
আজ ২৪ জানুয়ারি রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটি মিলনায়তনে সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক,স্কপ’র যুগ্ম আহ্বায়ক,টিইউসি’র সভাপতি, ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের মিছিলে নেতৃত্বদানকারীদের অন্যতম শ্রমিক নেতা সহিদুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে শ্রমিক নেতা আসলাম খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক রাশেদ আল তিতুমির, সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানের ছাত্র নেতা লুৎফর রহমান, সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি স্কপের অন্যতম নেতা কামরুল আহসান, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সহ-সভাপতি প্রবীন শ্রমিক নেতা মাহাবুব আলম, প্রবীন শ্রমিক নেতা আঃ কাদের হাওলাদার, সিপিবি’র সম্পাদক কমরেড রুহিন হোসেন প্রিন্স, করিম জুট মিলের শ্রমিক ও পাটকল রক্ষা আন্দোলনের নেতা আঃ গফফার, লতিফ বাওয়ানী জুট মিলের শ্রমিক ও পাটকল রক্ষা আন্দোলনের নেতা দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ১১ দফার ৫নং দাবি ছিল, ব্যাংক-বীমা-পাট ব্যবসা ও বৃহৎ শিল্প জাতীয়করণ করিতে হইবে। ৭নং দাবিতে ছিল, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও বোনাস দিতে হইবে এবং রেশন, শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা ইত্যাদি ব্যবস্থা করিতে হইবে। শ্রমিক স্বার্থবিরোধী কালাকানুন প্রত্যাহার করিতে হইবে এবং ধর্মঘটের অধিকার ও ট্রেড ইউনিয়ন করার অধিকার প্রদান করিতে হইবে।’ এছাড়া স্বায়ত্তশাসন, নির্যাতন বিরোধী ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ও কৃষক স্বার্থের পক্ষের দাবি ছিল।
আলোচকরা বলেন, আজ ৫১ বছর পরেও আমরা দেখতে পাই এসব দাবি স্বাধীনতার পর আদায় হলেও, পরবর্তীতে দেশের নতুন শাসকরা কমবেশি তা খর্ব করে চলেছেন। এখন মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনার ভিত্তিতে জাতীয়করণের শেষ চিহ্ন মুছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আলোচকরা বলেন, লুটেরারা এদেশের জাতীয়করণকৃত পাটকল-চিনিকল-ব্যাংক-বীমা দুর্নীতি ও ভুলনীতির মাধ্যমে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। আবার এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পত্তি বিরাষ্ট্রীয়করণ করে ঐ লুটেরাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।
আলোচকরা আরও বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত খাতকে রক্ষা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকার। এই খাতকে দেখতে হবে আমাদের ভবিষ্যৎ শোষণমুক্তির ও স্বাধীনতার চেতনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে। আলোচকরা অবিলম্বে বন্ধকৃত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল আধুনিকায়ন করে চালু ও সমুদয় বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবি জানান।
আলোচকরা বলেন, ১৯৬৯ এর এই দিনে পাটকলসহ শ্রমজীবীদের লাখো মানুষের মিছিল গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত করতে অন্যতম অবদান রাখে। এই শ্রমজীবীদের উপেক্ষা করে আজ দেশে আমলা আর লুটেরাদের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে দেশ ও শ্রমজীবী মানুষকে বাঁচাতে শ্রমিক-জনতার ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।বরেন্দ্র বার্তা/এই
Close