মহানগরশিরোনামস্বাস্থ্য বার্তা

রামেক হাসপাতালে যৌন হয়রানীর ঘটনার তদন্তে গড়িমসি, নার্সদের ক্ষোভ ও অনস্থা প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: গত ১৮-১৯ জানুয়ারি ২০২১ ইং তারিখে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে সিনিয়র স্টাফ নার্স কে যৌন ডাক্তার মামুনুর রহমান কর্তৃক যৌন হয়রানীর অভিযোগ উঠে। অভিযুক্ত চিকিৎসক ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাশ করে চট্টগ্রামে একটি বেসরকারী হাসপাতালে যোগ দেন । সেখান থেকে ছুটি নিয়ে রাজশাহী মেডিকেলে ডিপ্লোমা অ্যানেসথেসিয়া কোর্সে যোগ দেন। এবং আইসিইউ তে কর্মরত ছিলেন। সেখানেই তিনি ডিউটিরত নার্স কে যৌন হয়রানী করেন বলে অভিযোগ উঠে । এর পর রাজশাহী মেডিকেলে কর্মরত নার্সরা সহ সারাদেশের নার্সিং সমাজ বিচারের দাবিতে আন্দোলন ও মানব বন্ধন করেন ।
হাসপাতাল প্রশাসনএকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং সেখানে দুদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবার কথা থাকলেও ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি শেষ খবর পাওয়া তদন্ত রিপোট প্রকাশ করে নাই।
হাসপাতালের বিভিন্ন নার্সদের সাথে কথা বলে জানা যায় অভিযুক্ত ডাক্তার হাসপাতালের পরিচালক এবং নার্সিং নেতা সহ অনেক নার্সের সামনে দোষ স্বীকার করেন। এবং হাসপাতালের পরিচালক মহোদ্বয় সাথে সাথে অভিযুক্ত ডাক্তার কে কোর্স বাতিল করে ফেরত পাঠানোর মৌখিক নির্দেশ দেন কিন্তু পরে কোন একটি অদৃশ্য কারনে সে নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি ।
নার্সিং সমাজ যৌন নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ জানালে অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার রা ২০-২১ তারিখ বেশ কয়েক ঘন্টা কর্মবিরোতি পালন করেন যার ফলে বেশ কিছু জটিল অপারেশান বিঘ্নিত হয়।

হাসাপাতাল প্রশাষন তদন্ত কমিটি গঠনে আইন ভংগ করেছে বলে জানা যায় । যৌন নির্যাতনের অভিযোগ গ্রহন ও তদন্ত ধারা আইন ৯ বলা আছে কোন পুরুষ দ্বারা যদি কোন নারী শাররীক বা মানষিক ভাবে যৌন নির্যাতনের স্বীকার হন তবে অভিযোগ গ্রহন ও তদন্ত এর ক্ষেত্রে নিচের নিয়ম অনুষরন করতে হবে ।

ক) অভিযোগ গ্রহনের জন্য , তদন্ত পরিচালনার জন্য এবং সুপারিশ করার জন্য সরকারী বেসরকারী সকল কর্মক্ষেত্রে এবং সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগ তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করবে।

খ) কম পক্ষে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করতে হবে যার বেশিরভাগ সদস্য হবেন নারী । সম্ভব হলে কমিটির প্রধান হবেন নারী ।

গ) কমিটির দুজন সদস্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্যপ্রতিষ্ঠান থেকে নিতে হবে , যে প্রতিষ্ঠান জেন্ডার এবং যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করে ।

নার্সরা অভিযোগ করে বলেন উপরে উল্লেখিত আইনের কোন ধারাই অনুষরণ করা হয়নি যা আইন অমান্যের সামিল। যেখানে তদন্ত কমিটি গঠনে আইন মানা হয়নি সেখানে তদন্ত নিরপেক্ষ না হবার ব্যাপারে নার্সিং সমাজ সংশয় প্রকাশ করে হতাশা এবং ক্ষোভ ব্যাক্ত করেন।
হাসপাতালের নার্সদের সাথে কথা বলে জানা যায় তারা ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শংকিত। এব্যাপারে নার্স এসোসিয়েশনের সভাপতির কাছে জানতে চাইলে এসাসিশেনের সভাপতি শাহাদাতুন নুর লাকী বলেন আমাদের সর্বোচ্চ অথরিটি নার্সিং ও মিডওয়াফারী অধিদপ্তর কে ব্যাপার টা জানানো হয়েছে তাছাড়া পরিচালক মহাদ্বয় এর প্রতি আমারা আস্থা রাখছি উনি আমাদের স্থানীয় অভিভাবক হিসাবে ন্যায় বিচার এর ব্যবস্থা করবেন বলে আশা রাখি।আমরা আমাদের গনতান্ত্রিক ভাবে সরকারী চাকুরী বিধি মেনে যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছি, আমারা নির্যাতিতা সহকর্মির পাশে থেকে, সাথে থেকে তাকে মানসিক ভাবে সহযোগীতা করে যাচ্ছি নিশ্চয় দোষি তার প্রাপ্য শাস্তি পাবে।

এদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসকের হাতে একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাটি পত্রিকা এবং স্থানীয় নার্স নেতাদের মাধ্যামে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতর জানতে পারেন। হাসপাতালে চিকিৎসক কর্তৃক সিনিয়র স্টাফ নার্স যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনাটি স্থানীয় নার্সিং কর্তৃপক্ষ গোপন করার কারনে নার্সিং ও মিডওয়াইফারী অধিদপ্তর সেব্যাপারে ব্যাখা দিতে রাজশাহীর চার কর্মকর্তাকে আগামি ০২-০২-২০২১ ইং তারিখে অধিদফতরে তলব করেছেন। অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন ও শিক্ষা) মোহাম্মদ আবদুল হাই স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ঘটনার একটি সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন সহ চার কর্মকর্তাকে হাজির হতে বলা হয়েছে। চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্ণিত কর্মকর্তাদের বিষয়টি অধিদফতরকে না জানানো দায়িত্বে চরম অবহেলা, অদক্ষতা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল যা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য। তাই সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদনসহ তাদের অধিদফতরে হাজির হতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সে চিঠিতে।

শেষ পাওয়া খবরে জানা যায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সকল নার্স গন যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠ নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার দাবিতে কালো ব্যাচ ধারন করে হাসপাতালে ডিউটি করছেন ।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close