নাগরিক মতামতশিরোনাম-২

শিক্ষিত মানসিক বৈকল্যের নানা শ্রেণী

মো. শহিদুল ইসলাম

১. প্রথমে শিক্ষিত অশিক্ষিত নিয়ে একটু কথা বলা দরকার। যদিও আমরা প্রাতিষ্ঠানিক, মানে অমুক তমুক পাশ করলে বা লিখা পড়া জানলেই একজন মানুষকে শিক্ষিত বলে জানি। আসলে আদতে কি তাই? আমার মতে তা নয়। যদি বলি প্রতিটি মানুষই কোন না কোনভাবে শিক্ষিত হবার সম্ভাবনা থাকে বা শিক্ষিত। অশিক্ষিত তারাই যাদের দ্বারা ক্ষতি, নিষ্পেষিত, শোষিত এবং অনৈতিক আঘাত প্রাপ্ত হয় আরেকটি পক্ষ বা ব্যাক্তি বা আরো অন্যান্য অনেক বিষয় আছে এরকম।
উদাহরণ হিসেবে যদি বলি- একজন কৃষক শিক্ষিত ব্যাক্তি। তিনি কৃষি জানেন বা কৃষি করেন নিজে। জীবনের নানা পর্যায়ে নানাভাবে তাকে শিখতে হয়েছে এই কৃষি। কিন্তু তার অক্ষর জ্ঞান নাও থাকতে পারে, তারপরেও তিনি শিক্ষিত। অন্য দিকে একজন মানুষ অনেক বড় বড় ডিগ্রী নিয়েও মানুষের ক্ষতি করেন, নানাভাবে আঘাত করেন। এরকম মানুষগুলো অশিক্ষিত বটে। একটু খেয়াল করে দেখবেন একজন মানুষ অন্য আরেক জনার দ্বারা অযাচিত আঘাত প্রাপ্ত হলে বা কোন ব্যাক্তি পরিবেশ বা কোন প্রাণের ক্ষতি সাধন করলে, অনেকে রাগেই বলি শালা একটা অশিক্ষিত বদমাস। তারমানে কি দাড়ালো ? নিশ্চিত বুঝতে পেরেছেন। তাই বলবো- অশিক্ষিত একটা গালি মাত্র। পৃথিবীতে কেউ অশিক্ষিত নয়। প্রতিটি মানুষ তার জায়গা, অবস্থান থেকে কোনা কোন কিছু শিখেই এ-ই পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে চলে। সেটা হতে পারে নানা পেশা, নানা মতের, নানা ধরনের।
আশাকরি নিশ্চিত বুঝতে পেরেছেন শিক্ষিত ও অশিক্ষিতের বিষয় টি। এরপরেও যদি শিক্ষিত -অশিখ্ষিত পুস্তকি সজ্ঞা নিয়ে কথা বলেন, সেটা একান্তই আপনার বিষয়।আমারটা আপানাকে মানতে হবে এর কোন কারন নেই। আমি বলবো এ-ই পৃথিবীর সবাই শিক্ষিত, এমন কি সকল প্রাণীকুল তার নিজ নিজ অবস্থান থেকে শিক্ষিত।
২. শিক্ষিত, অশিক্ষিত ! অশিক্ষিত নয়, আছে মানসিক বৈকল্য। এই সর্বময় শিক্ষিত সমাজের মধ্যে আছে নানা মাত্রায় মানসিক বৈকল্য।মানসিক বিষয়টি আমরা সবাই জানি। বৈকল্য বিষয়টিও জানি। তবুও বলি। বৈকল্যের ইংরেজি দেখা যায় Disorder ; deformity ; defect ইত্যাদি শব্দ গুলো। আবার বাংলা অভিধানে দেখা যায় বৈকল্য বলতে স্বাভাবিক কাজ করতে বা চিন্তা করতে অক্ষম বা কাজ করতে অক্ষম। আবার শব্দগতভাবে দেখা যায় বিকলতা, অঙ্গহীনতা, বিহ্বলতা ইত্যাদি। আশাকরি এখন মানসিক বৈকল্যতা বিষয়টি এর সাথে আমরা মিলে নিতে পারি।ছন্দ পতন, অশোভন, অযাচিত কারো ক্ষতি, ইচ্ছে করেই আরেকজনের ক্ষতি, মানবিক দিক বিবেচনা না করা ইত্যাদি এসব একধরেরন মানসিক বৈকল্য।
এই ছন্দের মধ্যে যারা পতন ঘটায় অজাচিত ভাবে তাহলে সেটাই এক ধরনের মানসিক বৈকল্য। মানসিক বৈকল্য এক ধরনের রোগও বটে। এই রোগ আবার দুই ধরনের ।
একটি হলো – শারিরিক কারনে বা অন্যকোন কারনে মানসিক বৈকল্য হতে পারে। সেটা রোগ চিকিৎসা করে সেরে উঠে।
দ্বিতীয় হয়- শিক্ষিত মানসিক বৈকিল্য। শিক্ষিত মানসিক বৈকল্যরা কখনো চিকিৎসায় সেরে উঠেনা। এরা ইচ্ছে করেই এই বৈকল্য পরিবেশ তৈরী করে ক্ষণে ক্ষণে বা সুযোগ পেলেই। তারা দেশে, সমাজে, প্রতিষ্ঠানে এরকম কাজগুলো করে থাকে অনেক সুকৌশলে। এদের কাজ হলো বেকায়দায় ফেলানো, কৌশলে ধ্বংস করে অন্যের ঘারে চাপানো। এরা জেনে বুঝে পরিবেশ প্রতিবেশের ক্ষতি করে। সমাজ, দেশে এবং দলের নৈতিক শৃঙ্খল কৈৗশলে দুর্বল করে, ঐ্যি নষ্ট করে ইত্যাদি। এরা নিজেরাও পারবে না, আবার কেউকে সেটা করতে দিতে চায়না। করতে দিলেও সেটার ক্রেডিট সম্পূর্ণটা নিতে যায় নিজের মতো করে। এরা কারো প্রশংসা করতে পারেনা। এরা মানুষের ভুলগুলো বা অসহায়দের দুর্বলতাগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেয়না। সেটাকেই পুজি করে এরা ঐক্য, দল, নৈতিকতা আর্দশকে কৌশলে নষ্ট করে দেয়।
এরাই হলো শিক্ষিত মানসিক বৈকল্য। এই মানসিক বৈকল্য সমাজ , প্রতিষ্ঠান, দেশের জন্য ভয়ংকর পরিবেশ ডেকে নিয়ে আসে।
আমাদের সমাজে এরকম কিছু শিক্ষিত মানসিক বৈকল্যের মানুষ পাবেন। এদের মধ্যে আছে আবার শ্রেণী বিভাগ।– (চলবে).

Close