উন্নয়ন বার্তাশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম-২স্বাস্থ্য বার্তা

নিশ্চিত হোক প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার

কথায় আছে, স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল। তবে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে গুরুত্ব দিতে হবে স্বাস্থ্যের সবকটা দিকেই। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়েও আমরা স্বাস্থ্যের অন্যতম একটা অংশ প্রজনন স্বাস্থ্যকে রীতিমত অবহেলা করে চলেছি সামাজিক প্রতিবন্ধকতার দোহাই দিয়ে।

আমরা অনেকেই এখনো এটা ভেবে থাকি যে প্রজনন স্বাস্থ্য বিয়ের সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু প্রজনন অঙ্গের বিকাশ যে কিশোর বয়স থেকেই শুরু হয় এটা হয়ত অধিকাংশ মানুষেরই অজানা কিংবা জানলেও মানতে নারাজ। বি.আই.জি.ডি. (BRAC Institute of Governance and Development) এর তথ্য মতে, কিশোর বয়সীরায় বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ২১ শতাংশ যা সংখ্যার হিসাবে নেহাতই কম নয়। বর্তমানে যারা কিশোর তারাই একসময় যৌবন পেরিয়ে দেশের প্রাপ্ত বয়স্ক নাগরিকে পরিনত হবে, তাই এই বিশাল জনগোষ্ঠির যেন সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয় সেদিকে গুরুত্বারোপ করা একান্তই জরুরি।

একজন মানব শিশু তার শৈশব থেকে যৌবনে পদার্পনের মাঝামাঝি যে সময় অতিবাহিত করে সেটা বয়ঃসন্ধি নামে পরিচিত। বয়ঃসন্ধিকালে একজন কিশোর শারীরিক ও মানসিক বিভিন্ন পরিবর্তনের মুখোমুখি হয়ে থাকে যা সম্পর্কে সে অবহিত নয়। ঠিক এই সময়ে সে এমন কারো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে যে কিনা তার বিশ্বস্ত ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অভিজ্ঞ । কিন্তু বেশিরভাগ কিশোরই তাদের বন্ধু কিংবা এমন কারো থেকে বিষয়গুলো জানতে পারে যারা ঠিক তারই মত অজ্ঞ কিংবা তাকে ভুলভাল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করতে চায়। বয়ঃসন্ধির শুরুর দিকে পাওয়া এসকল বিভ্রান্তমূলক তথ্যের উপর ভর করে অনেক কিশোর আবার এমন কিছু করে বসে যা তার প্রজনন স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব বিস্তার করে।

একজন কিশোর দিনের বেশি সময় অতিবাহিত করে তার পরিবার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সুতরাং পরিবার কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যদি তারা প্রজনন স্বাস্থের প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে তবে সেটাই হবে সবথেকে নির্ভরযোগ্য শিক্ষা। এক্ষেত্রে পরিবারের যেমন উদাসীনতা লক্ষ করা যায় ঠিক তেমনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরও খুব একটা ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়না। বর্তমানে প্রজনন স্বাস্থ্য কেবল শারীরিক শিক্ষা বই’র একটা মাত্র অধ্যায়েই সীমাবদ্ধ। তারপরেও সেই অধ্যায়টা এড়িয়ে যাওয়ার নজিরও কম নয়। কিশোর বয়সী ছেলে মেয়েরা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিষয় নিয়ে কোন প্রশ্নের সম্মুখীন হলে পরিবার কিংবা শিক্ষকদের সাথে যথেষ্ঠ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক না থাকার কারণে প্রতিনিয়তই সমস্যা গুলো নিজেদের মধ্যে চেপে রাখে এবং দিনশেষে সম্মুখীন হয় নানা জটিলতার।

বর্তমানে বাংলাদেশ সরকার সারাদেশে ৯০৩ টি কৈশোরবান্ধব সেবাকেন্দ্র স্থাপন করেছে, সেখানে কিশোর ও তরুণ বয়সী ছেলে মেয়েরা সকাল ৯ টা থেকে দুপর ৩.৩০ টা পর্যন্ত প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক সেবা পাবে। সরকারের এমন উদ্যোগ অবশ্যই প্রসংশনীয় তবে এক্ষেত্রে যুগোপযোগী প্রচার ও সেবা প্রদানের সময় বৃদ্ধি করা একান্তই প্রয়োজন।কারণ দেশের বেশীরভাগ কিশোরই শিক্ষার্থী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ফিরে তাদের পক্ষে সেবা কেন্দ্রের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেবা গ্রহণ করাটা অনেক কঠিনই বলা চলে৷ তাই কিশোর ও তরুণরা যেন নির্বিঘ্নে কৈশরবান্ধব সেবা কেন্দ্র থেকে সেবা গ্রহণ করতে পারে সেজন্য সেবাকেন্দ্রের সময় আপাদত বিকেল ৫ টা ও ভবিষ্যতে এর সময়সীমা বাড়িয়ে সারাবেলা করা উচিত বলে আমি মনে করি এবং এ বিষয়ে সরকারের নিতীনির্ধারকবৃন্দের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি৷
সময় এসেছে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা পাশে ঠেলে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার এবং সুন্দর আগামীর প্রত্যয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে সমস্বরে বলার “সপ্তাহ জুড়ে সারাবেলা, কৈশোরবান্ধব সেবাকেন্দ্র থাকুক খোলা”

 

লেখক: মো. মাহমুদুল হাসান শিশির,শিক্ষার্থী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

Close