পুঠিয়াশিরোনাম-২

পুঠিয়ায় অনলাইনের কার্ড কিনে মাঠ চষছে ভূয়া সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা

 

মোঃ আমজাদ হোসেন, পুঠিয়া: এক হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকায় সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীর কার্ড কিনে রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলা চষে বেড়াচ্ছে অর্ধশতাধিক ভূয়া সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী । অসাধু চক্রের কাছ থেকে অখ্যাত অনলাইন পত্রিকা, অনলাইন টিভি চ্যানেল ও মানবাধিকার কর্মীর কার্ড নিয়ে যথেচ্ছা করে বেড়াচ্ছেন এসব ব্যক্তিরা। তারা সাংবাদিক সেজে মোটরসাইকেলে প্রেস ও সাংবাদিক লিখে বোকা বানাচ্ছেন বিভিন্ন মহলকে। অনেকে রীতিমত মাদক বহনের কাজও করছে।
সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এসব ব্যক্তি বিভিন্ন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অনুমোদিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধ সংক্রান্ত সংবাদ পড়ে ছুটে যান অভিযুক্তদের কাছে। নানা উছিলায় তারা এসব মানুষের কাছ থেকে আদায় করে মোটা অংকের টাকা।

সম্প্রতি রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলায় প্রেস ও সাংবাদিক লেখা মোটরসাইকেলের সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। গলা ও কোমরে বাহারি রঙের পরিচয়পত্রও ঝুলছে তাদের। তাদের বেশিরভাগই নতুন মোটরসাইকেল চালান। বেশ-ভুষা দেখে দাপুটে সাংবাদিক মনে হলেও পরিচয়পত্র চেক করলে চোখ ছানাবড়া হওয়ার অবস্থা।

হাইওয়ে পুলিশ কিংবা চেকপোস্টে দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে এরা পুরো জেলা উপজেলা চষে বেড়াচ্ছে। পুলিশ এদের গাড়ির কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কি না, গাড়ি চোরাই কিংবা টানা কিনা চেক করতে পারছেন না সাংবাদিক ভেবে। নানা অপরাধে জড়িত তারা, একাধিক মামলার আসামি এমন অনেকে অখ্যাত অনলাইন ও অখ্যাত দৈনিক বা অনলাইন টিভি এবং মানবাধিকার কর্মীর নাম ভাঙিয়ে অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

জানা যায়, রাজশাহী পুঠিয়া উপজেলায় অর্ধশতাধিক সাংবাদিকদের কার্ড পকেটে রয়েছে নামসর্বস্ব অনলাইন নিউজপোর্টাল, পত্রিকা ও টিভি এবং মানবাধিকার কর্মীর কার্ড। একটি অসাধু চক্র এক থেকে দশ হাজার টাকায় এসব কার্ড বিক্রি করছে। এদের অর্থলিপ্সতায় রাজশাহী জেলার পুঠিয়া উপজেলায়ও বেড়ে চলেছে ভুয়া সাংবাদিকের সংখ্যা। সাংবাদিক সেজে পুঠিয়া উপজেলা দাপিয়ে বেড়ানো চক্রের মধ্যে এক সময়ের অনেক সন্ত্রাসীও রয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হলে এসব ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে অভিযুক্তদের কাছে ছুটে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পত্রিকা অফিস না জানলেও সংবাদ বন্ধ করার কথা বলে অর্থ হাতাচ্ছেন। এমনকী তাদের অখ্যাত অনলাইন ও পত্রিকায় সংবাদ ছেপে দেয়ার হুমকি দিয়েও ব্লাকমেইল করছেন।
এদের অনেকের পকেটেই কেনা পরিচয়পত্র। মোটরসাইকেল সাংবাদিক ও প্রেস লিখে হম্বিতম্বি করে পথ চলছে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক সময় অবৈধ মালামাল বহন করছে। সাংবাদিকতার কার্ড বিক্রি করা চক্র ও ওই কার্ড কেনা চক্রকে খুঁজছে একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা।
এই ব্যাপারে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি মোঃখাইরুল ইসলাম, রাজশাহী পবা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচর্জ মোঃ লুৎফর রহমান ও পুঠিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মোঃখালিদুর রহমান, দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস কে জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যে তথ্য মিলছে অনেক প্রতারক ও লেবাসধারী সাংবাদিক সেজে মাঠ চষছে মহাসড়কে মোটরসাইকেলের সামনে ও পিছনে প্রেস ও সাংবাদিক লিখে প্রতারণা করছে সাংবাদিক না হয়েও মনগড়া অনলাইনের কার্ড বানিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরছে।
এছাড়া, প্রতিনিয়ত নানা ভার্সনের মোটরসাইকেলে প্রেস বা সাংবদিক লিখে দাপটে পথ চলছে তারা। প্রথমে দেখে বোঝার উপায় থাকেনা। এদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। চক্রের কেউ কেউ সম্পাদক কিংবা ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সেজে সাংবাদিকতার কার্ড বিক্রি করছে। এই সব বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। দ্রুত প্রতারক চক্রকে আটক করা হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close