বাগমারাশিরোনাম-২

বাগমারায় মাড়িয়ার ইউপি সদস্যদের স্বাক্ষর নিয়ে প্রতারণা

আব্দুল মতিন, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারার মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে বকেয়া ভাতা আদায়ের জন্য স্বাক্ষর করে নিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল হক এই প্রতারণা করেছেন বলে পরিষদের সদস্যরা অভিযোগ করেন । বৃহস্পতিবার ইউপি ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করা হয়। তবে রেজাউল হক এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
লিখিত বক্তব্যে চেয়ারম্যান বলেন, ইউনিয়ন নির্বাচন ঘনিয়ে আসার কারণে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য রেজাউল হক ইউপির নয়জন সদস্যের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। সদস্যদের বকেয়া ভাতা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেন। প্রভাবশালী হওয়ার সুবাদে তিনি এই ব্যবস্থা করে দিবেন বলে সদস্যদের জানান।
পরবর্তীতে গত সোমবার রেজাউল হক সদস্যদের স্বাক্ষর নেওয়া ওই রেজুলেশনে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ লিপিবদ্ধ করেন। তাঁরা অনাস্থা প্রস্তাব করেছেন মর্মে রেজুলেশনে উল্লেখ করে গত বুধবার রাজশাহী জেলা প্রশাসকের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার স্থানীয় পত্রিকায় ও আগের দিন রাতে একটি ওয়েবপোর্টালে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি প্রকাশ পায়। এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যায় চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পরিষদের সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাত করেন।

চেয়ারম্যান আসলাম আলী বলেন, রেজাউল হক তাঁর নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী। তিনি গত ইউপি নির্বাচনে তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। এবারও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। গত নির্বাচনের পর থেকে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তিনি দাবি করেন, পরিষদের বিভিন্ন সমস্যার কারণে সদস্যদের ভাতা বকেয়া রয়েছে এই সুযোগ নিয়ে ইউপি সদস্যদের সাথে প্রতারণা করে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন। তবে সদস্যদের সম্মানির কিছু টাকা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ইউপি সদস্য নূর মোহাম্মদসহ অন্যরা বলেন, রেজাউল হক তাঁদের বকেয়া সম্মানিভাতা আদায় করে দিবেন বলে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা বা দুর্নীতির অভিযোগ আনার কথা বলা হলে তাঁরা স্বাক্ষর করতেন না বলে জানিয়েছেন। পরিষদের ১০জন সদস্য এ সংক্রান্ত একটি রেজুলনে স্বাক্ষর করেছেন। এর ফটোকপি সাংবাদিকদের সরবরাহ করা হয়। তাঁদের দাবি অনাস্থা বা অনিয়ম দুর্নীতির কোনো অভিযোগ তাঁদের নেই।

তবে রেজাউল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সদস্যরা স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর দিয়েছেন। তাঁরাই স্বাক্ষর করে রেজুলেশনের কপি তাঁর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। তিনি বিভিন্ন দপ্তরে তা পৌঁছে দিয়েছেন। ইউপি সদস্যরা চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সুবিধা পেয়ে এমন করতে পারে বলে তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ বলেন, তিনি এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পাননি। তবে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন সদস্য পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close