জাতীয়মহানগরশিরোনাম

নারীর সবত্র বিচরন তবুও প্রতিনিয়ত নারী বলেই হতে হচ্ছে নির্যাতনের শিকার

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: “ করোনাকালে নারী নেতৃত্ব – গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব ” স্লোগানে পালিত হচ্ছে এবারের নারী দিবস। নারীর অধিকার রক্ষায় রাজশাহী অঞ্চলে দীর্ঘদিন যাবৎ কাজ করে আসছে উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস)। ৮ মার্চ নারী দিবস। নারী দিবস নারীর অধিকার আদায়ের দিবস। সারা বিশ্বে আনন্দঘন পরিবেশে নারী দিবস পালিত হলেও আমাদের দেশে আনন্দের মাঝেও নির্যাতিত নারীদের আর্তনাদ শোনা যায়। গ্রামে কিংবা শহরে বা পরিবারে বা কর্মস্থলে সব জাগাতেই যেন নারী বলেই অবহেলা নারী বলেই নির্যাতন। ২০২০ সাল ছিলো করোনা নামক ভয়াবহ মহামারীতে গোটা বিশ্ব স্থবির এমন পরিস্থিতিও ঘরে বাহিরে সবত্র ঘটেছে নারী নির্যাতন।। আমরা হতবাক।বর্তমান সরকার নারীদের উন্নয়নে বহুমাত্রিক উন্নয়ন কর্মসূচী বাস্তবায়ন করছে। নারীদের বিচরণ এখন সবত্র। একই সাথে আমাদের দেশে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে নারী নির্যাতন ও যৌন সন্ত্রাস। আমাদের রাজশাহী জেলাও এর বাইরে নয়। সম্প্রতি এক গবেষনায় উঠে এসেছে প্রায় ৭২.৬% শতাংশ নারী জীবনে একবার হলেও স্বামীর হাতে কোনো না সময়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ধর্ষণের শিকারদের ৮৬% শিশু-কিশোর। ধর্ষণজনিত হত্যার শিকার হয়েছে প্রায় দুই-তৃতীয় শিশু-কিশোর। যাত্রাপথে যৌননির্যাতন, ধর্ষণ ও গণধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। পাশাপাশি বিশ^ স্বাস্থ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় নারীদে আত্বহত্যার সংখ্যা বেশি। এদের বয়স ১৪-৩০ এর মধ্যে। এক সমীক্ষায় উঠে এসছে রাজশাহী অঞ্চলে আত্বহত্যার প্রবনতা বাড়ছে। বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ব্রাকের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, গণপরিবহনে চলাচলকারী নারীদের ৯৪ শতাংশ কোনো না কোন সময় মৌখিক, শারীরিক ও যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে। এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে সরকার দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত নারীদের বিনা মূল্যে পড়াশুনার সুযোগ দিচ্ছে কিস্তু স্কুল-কলেজ যাওয়ার পথ সুগম নয় এমন বাস্তবতায় অভিভাবকরা মেয়েদের অল্প বয়স বিয়ে দিয়ে দিচ্ছে। উন্নয়ন সংস্থা লফস সমাজের নারী নেত্রী, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী সরকারী/বে-সরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সহ সমাজের বিজ্ঞজন ও জনসাধারনের সাথে নারী নির্যাতন বিষয়ে কথা বলে এবং তথ্য অনুযায়ী জানা যায়- পারিবারিক কলহ, প্রেম ঘটিত কারনে হত্যা ও আত্মহত্যার মতো ঘটনা বাড়ছে। ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মতো ঘৃনিত অপরাধ ঘটছে অহরহ যা প্রতিরোধের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। একই ভাবে যৌতুক ও বাল্যবিবাহ’র ফলে নারীরা প্রতি নিয়ত নির্যাতিত হচ্ছে এর ফলে সংসারে ভাঙ্গন দেখা দিচ্ছে, আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে পরকীয়া প্রেম নারীর জীবনকে দূর্বিষহ করে তুলছে, বর্তমান সোসাল মিডিয়ার ব্যবহারকারীদের মধ্যে পরকীয়া প্রবনতা বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নারীর পাশাপাশি পুরুষদের এগিয়ে আসতে হবে তাদেও মন-মানসিকতা পরিকর্তস ঘটাতে হবে, পশ্চাদপদ ধ্যান-ধারনা বদলিয়ে নারীকে নিয়ে একসাথে এগিয়ে যেতে হবে। নারী নির্যাতনের মতো ঘৃনিত অপরাধের দ্রুত শাস্তি নিশ্চিত করার মাধ্যমে নারী তিসের স্বার্থকতা ফুটে উঠবে। লফস এর নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন মানুষের নৈতিক মূল্যবোধের অভাব ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারনে নারী নির্যাতনের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। স্কুল, কলেজ এমনকি নিজ বাসায় নিরাপদ নয় শিশু কিশোরীরা। বর্তমানে মায়ের কোলে শিশু যখন নিরাপদ নয় তখন রাষ্ট্রকে এ বিষয়ে গভীর ভাবে ভাবতে হবে। তিনি বলেন এই বর্বরতা থেকে সমাজকে উত্তোরনের জন্য শিক্ষা, শ্রদ্ধা, সম্মান সর্বাপরি মানসিকতা পরিবর্তনের জায়গাগুলোয় কাজ করতে হবে। স্কুলের পাশাপাশি পরিবার থেকেও নারীকে সম্মান করা শেখাতে হবে। গনমাধ্যমকে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি কাজ করতে হবে। সর্বপরি নারীকে সম্মান করতে পারলে সমাজ অনেক এগিয়ে যাবে যা আমাদের সকলের জন্যই মঙ্গলজনক। অগ্রযাত্রায় নারী এটাই হোম আমাদের মূল মস্ত্র। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী নির্যাতন সহ সকল অপরাধের জন্য ডিজিটাল পদ্ধতিতে হেল্প লাইন এর মাধ্যমে সেবা চালু করেছে যা সকল জনগনের নিরাপদ থাকতে সহায়ক। সর্বপরি নারী নির্যাতন করবো না অন্যকেউ নারী নির্যাতন না করতে উৎসাহিত করবো এই হোক আমাদের আগামীর প্রত্যাশা।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close