বগুড়ামহানগরশিরোনাম

সংক্রমণ বৃদ্ধির ঝুঁকিতে রাজশাহীর ৮ জেলা


বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার পর থেকে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রতিদিনই বিপুল সংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। মৃত্যুর সংখ্যাও কম নয়। প্রথমদিকে আক্রান্তদের নিয়ে প্রতিবেশীদের আগ্রহ থাকলেও রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নিজেকে নিয়ে সবাইকে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রেও সাধারণের মধ্যে উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। জনগণকে বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য করার ক্ষেত্রে প্রশাসনের মধ্যে ঢিলেঢালা ভাব দেখা গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার হটস্পট রাজশাহী ও বগুড়ায় দৈনিক গড়ে একশ জন করে আক্রান্ত হচ্ছেন। এ দুই জেলায় গড়ে দৈনিক ছয় জন করে মারা যাচ্ছেন। গত শনিবার দুপুর পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ ও উপসর্গহীন পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে শুধু রাজশাহীতে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরুর হওয়ার পর শনিবার পর্যন্ত রাজশাহী জেলায় করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬৬ জন। এর মধ্যে রাজশাহী মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছে ৫৪ জন। বাকিরা নিজ নিজ বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রয়েছেন। করোনার হটস্পট বগুড়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ৯১৬ জন। এদের মধ্যে বগুড়া মেডিকেল কলেজ, মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও টিএমএসএস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসা নিচ্ছেন ১৪৪ জন। বাকিরা নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। শনিবার পর্যন্ত পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর ও জয়পুরহাট জেলা সদর হাসপাতালের করোনা ইউনিট সচল হয়নি। আক্রান্তদের অবস্থা খারাপ হলে রাজশাহীতে পাঠানো হচ্ছে। শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১৩৭ জনের ১১ জনকে রাজশাহী ও বগুড়া মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।

এত বিপুলসংখ্যক রোগীকে বাড়িতে রেখে তাদের চিকিৎসাসেবা কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে-জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, নিজ নিজ জেলার করোনা রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের দায়িত্ব সিভিল সার্জনদের। বিভাগের ছোট-বড় ৪০টি স্বাস্থ্য ও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ইতোমধ্যেই চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও নার্সদের সমন্বয়ে করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ টিম কার্যকর করা হয়েছে। আক্রান্ত যারা বাড়িতে থাকছেন তাদেরকে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের করোনা টিমের ফোন নম্বর দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে তারা টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। হাসপাতালের বাইরে চিকিৎসাধীন এই বিপুল সংখ্যক রোগীর নিবিড় তদারকির বিষয়টি কঠিন হলেও রোগী ও তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় প্রটোকল কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হচ্ছে।

এদিকে আক্রান্ত রোগীর পরিবারের অনেকেই জানিয়েছেন, গত বছর করোনার প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর আক্রান্তদের বাড়ি ও এলাকা লকডাউন করা, হোম আইসোলেশন কঠোরভাবে মনিটরিং করা, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল সেটা এবার নেই। ফলে উপসর্গহীন আক্রান্তদের অনেকেই নিজ নিজ এলাকা ও মহল্লায় যথেচ্ছ ঘুরেও বেড়াচ্ছেন। কেউ শনাক্ত হলেও স্বাস্থ্য ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে চিহ্নিত না করার ফলে অনেকেই তথ্য গোপন করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এতে সংক্রমণের বিস্তার ঘটছে। এতে করোনা বিস্তারের ঝুঁকি বাড়ছে কিনা-জানতে চাইলে বগুড়ার ডেপুটি-সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন যুগান্তরকে বলেন, সবাইকে হাসপাতালে ভর্তি করার পরিস্থিতি এখন নেই। এ কারণে শনাক্ত হওয়ার পর যাদের কোন উপসর্গ নেই অথবা মৃদু উপসর্গ আছে, তাদেরকে বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের থেকে আলাদা থাকতে পরামর্শ দিয়ে ওই পরিবারের সবার নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি জানান, হোম আইসোলেশনে থাকা আক্রান্তদের বলা হচ্ছে যদি পরিস্থিতির অবনতি হয় তারা যেন দ্রুত হাসপাতালে আসেন। এই মুহূর্তে এ ব্যবস্থা ছাড়া কিছু করার থাকছে না।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগে গুরুতর আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে মোট ৫১টি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) আছে। এক্ষেত্রে রাজশাহী মেডিকেলের ২০টি আইসিইউ ছাড়া বাকিগুলো চালু করা যায়নি। বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৩টি ও মোহাম্মদ আলীতে থাকা আটটি আইসিইউ লোকবল ও অক্সিজেনের অভাবে শনিবার পর্যন্ত চালু করা হয়নি। তবে টিএমএসএস বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০টি আইসিইউ চালু আছে। বিভাগের আর কোনো হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় গুরুতর আক্রান্তদের রাজশাহীতে আনা হচ্ছে। যদিও রাজশাহী মেডিকেলে কোনো আইসিইউ খালি নেই।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস
সুত্র: যুগান্তর

Close