বাগমারাশিরোনাম-২

বাগমারায় শিক্ষককে শারীরিক লাঞ্ছিত ও ভ্রাম্যমাণ আদালতে আর্থিক দন্ড নিয়ে নানা গুঞ্জণ


আব্দুল মতিন, বাগমারা : শিক্ষা জাতির মেরু দন্ড, শিক্ষা ছাড়া কোন জাতির উন্নতি হতে পারে না। আর এই শিক্ষার ধারক বাহক শিক্ষকরা। সমাজে যারা উপরে স্থানে রয়েছেন তারা সবাই শিক্ষকের অবদানে উঠেছেন। এমন কি এখনও তাদের সন্তানাদি কোন না কোন শিক্ষকের কাছেই বেড়ে উঠছেন। শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর, তারা জাতির বিবেক। যারা সমাজের কর্ণধর সবাই শিক্ষকদের হাতে লালিত-পালিত। শিক্ষকের মর্যদা কতো উপরে। শিক্ষকের অবস্থানের বিষয়টি কাজী কাদের নেওয়াজ তার কবিতায় বাদশা আলমগীরের মুখ দিয়ে কতো সরল ভাবে বর্ণনা করেছেন। সব পেশার মধ্যে শিক্ষকতা পেশা যে সবার উপরে তা আমরা হরহামেশাই বলে থাকি। এই শিক্ষকের একজনকে শিক্ষার্থীদের সামনে চড়-থাপ্পড় মারপিট, হাতকড়া পরিয়ে হিড়হিড় করে টেনে নেয়ার ঘটনায় নিয়ে এলাকায় শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন। গত সোমবার বাগমারায় করোনা ভাইরাস সংক্রোমন রোধে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালতে এক শিক্ষকের ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও শিক্ষককে মার পিটের ঘটনায় ঘটে। অথচ ওই দিনে উপজেলা সদরে সর্বস্তরে লোক সমাগমসহ সোমবার উপজেলা ভবানীগঞ্জ ও তাহেরপুর হাটে হাজারো লোকের ভিড় ছিল সেখানে তেমন সমাজিক দুরত্ব মানার বালাই ছিলো না। এছাড়াও সবগুলো ব্যাংকেও ছিলো উপচে পড়া ভিড়। এতে করে সুশীল সমাজের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। ওই দিনে স্থানীয় এক চেয়ারম্যান আইন শৃংখলা মিটিংএ ও ৫ জন ছাত্রীর পড়ানো বিষয়ে ভ্রাম্যমান আদালতে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। একই ভাবে গত দুই দিন ব্যাপী উপজেলার সর্বত্রই ওই শিক্ষকের হাতে হাতকড়া, তাকে শাররীক লাঞ্চিত ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা নিয়ে নানা গুঞ্জণ দেখা দিয়েছে।
প্রসঙ্গত: গত সোমবার বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফ আহম্মেদ দাপ্তরিক কাজে বাগমারা হতে রাজশাহী যাবার পথে বাগমারা থানার সন্নিকটে কয়েকজন ছাত্রীকে বই-খাতা নিয়ে যাবার সময় তাদের মাধ্যমে জানতে পারে তারা প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছে। এমনটি যেনে ওই ছাত্রীদেরকে নিয়ে বাগমারা পাইলট হাই স্কুলের নিকটস্থ তরুন সংঘের একটি কক্ষে যায়। এসময় বাগমারা পাইলট স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক ইসুফ আলীকে পড়াতে দেখেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লক ডাউনের মধ্যে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগে শিক্ষক ইউসুফকে ছাত্রদের সামনে মারপিট করে থানায় পুলিশে দেন। পরে উপজেলা সদর ভবানীগঞ্জ ভ্রাম্যমাণ আদালতে ওই শিক্ষককে সস্মুখীন করা হলে তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেন। ভ্রাম্যমান আদালতে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করে প্রাইভেট পড়ানোর অপরাধের দায়ে অপরাধী হিসেবে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান ওই শিক্ষকের ৩০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেন।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close