অর্থ ও বাণিজ্যচাঁপাই নবাবগঞ্জশিরোনাম-২

সোনামসজিদ বন্দর: ১০ মাসে রাজস্ব আয় ৬৫০ কোটি টাকা


বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: সোনামসজিদ স্থলবন্দরে চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরে জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৪৯ কোটি ৮২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। ১০ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪২৬ কোটি ৪১ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২২৩ কোটি ৪০ লাখ ৪১ হাজার টাকা রাজস্ব আয় বেশি হয়েছে।

গত ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের তুলনায় ৪৫৩ কোটি ৬০ লাখ ২৬ হাজার টাকা বেশি আদায় হয়েছে।

বুধবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মমিনুল ইসলাম।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৯০ কোটি ৯৭ লাখ ৯ হাজার টাকা। গত বছরের এপ্রিল মাসে করোনাভাইরাসের কারণে বন্দর বন্ধ থাকায় কোনো আমদানি-রপ্তানি হয়নি।

গত ১০ মাস থেকে পর্যায়ক্রমে পণ্য আমদানি বাড়ছে এবং রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় কাস্টমস কর্মকর্তাদের দাবি— করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে সোনামসজিদ বন্দরে প্রতিমাসেই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

কাস্টমস কর্মকর্তাদের তদারকি ও কঠোর নজরদারি ফলে বন্দরে রাজস্ব আহরণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৪৯ কোটি ৮২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।

গত বছরের একই সময় আদায় হয়েছিল ১৯৬ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা গত বছরের তুলনায় এ বছরের ৪৫৩ কোটি ৬০ লাখ ২৬ হাজার টাকা বেশি আয় হয়েছে। সোনামসজিদ স্থলবন্দরে রাজস্ব বৃদ্ধিতে কাস্টমস বদ্ধপরিকর। আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধি ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
তবে সুযোগ সন্ধানী একশ্রেণির আমদানিকারক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা রাজস্ব ফাঁকি দিতে সব সময় চেষ্টা করে আসছে। বিশেষ করে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে এ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

গত ১০ মাসে মিথ্যা ঘোষণায় ১০০টির অধিক আমদানি পণ্য আটক, অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় ও জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ১০ মাসে বিভিন্ন পণ্য আমদানি-রপ্তানি ছাড়করণে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের লাইসেন্স সাময়িক বাতিল করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ বিষয়ে সোনামসজিদ স্থলবন্দরের কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মমিনুল ইসলাম জানান, রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করে আমদানি-রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানির পণ্য দ্রুত ছাড়করণের লক্ষ্যে দ্বিগুণ জনবল পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব ফাঁকি রোধ করতে শুল্ক গোয়েন্দা বিশেষ টিমকে আমদানিকৃত শতভাগ পণ্য চালান নজরদারির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে রাজস্ব ফাঁকি শূন্যের কোটায় নেমেছে।

তিনি আরও জানান, এ বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমকে গতিশীল ও সহজতর করতে অনলাইনে আইজি এম দাখিলসহ বাধ্যতামূলক ই-পেমেন্ট সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ফলে আমদানিকারকদের ইজি ডুইং বিজনেসের গতিশীলতা বাড়ছে। বিভাগীয় কাস্টমস কমিশনার রাজশাহীর নিদের্শক্রমে অধিকাংশ আমদানিকারক/স্টেকহোল্ডারগণ আঞ্চলিক হওয়ায় নিয়মিত তাদের সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান সর্ম্পকে অবগত করা সম্ভব হচ্ছে।

রাজস্ব ফাঁকি রোধে দ্বিগুণ জরিমানাও করা হচ্ছে। কাস্টমস কর্মকর্তারা সঠিক তদারকি ও নজরদারির ফলে বন্দরে আমদানি-রপ্তানি দুটোই বেড়েছে বলে কাস্টমসের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তা সুন্নদন জানিয়েছেন।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আবদুল আওয়াল জানান, বর্তমানে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বেড়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পেয়েছে।

আমদানি-রপ্তানিকৃত পণ্য দ্রুত লোড আনলোড করার জন্য ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি রোধে অতিরিক্ত শ্রমিক কাজ করছে বলে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার বেলাল হোসেন জানিয়েছেন।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস
সুত্র: যুগান্তর

Close