সাহিত্য ও সংস্কৃতি

স্বপ্নে আচ্ছন্ন

হুমায়ূন সিরাজ

অপরাহ্ন। আচ্ছন্ন সন্ধ্যাকালীন অসময়। পশ্চিম আকাশে অদ্ভুত সাওয়াল মাসের ঈদের চাঁদ। বাতাস বইছে। ধীরে ধীরে ক্রমশ সে বাতাস ছড়িয়ে পড়ছে চারিদিকে। চাঁদের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই উজ্জ্বলতা নেমে আসছে আমাদের এই পৃথিবীতে। আমি তন্ময় আবেশে বাড়ির ছাদে উঠলাম। অবাক দৃষ্টিতে সেই অলৌকিক চাঁদ অবলোকন করলাম। মানুষের আনাগোনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মনের উচ্ছাসে সোপান পথ বেয়ে নিচে নেমে এলাম। সামনের সরু পথ ধরে এগিয়ে চললাম। এভাবে প্রায় আধ মাইল পথ অতিক্রম করে নদীর কিনারায় এসে পৌঁছলাম। সেই অলৌকিক ঈদের চাঁদের দিকে দৃষ্টিপাত করতেই দেখি ধীরে ধীরে ও আমার দিকে এগিয়ে আসছে। এক সময় সেই বিশাল বাঁকা চাঁদ দৃষ্টির খুব সন্নিকটে এসে পৌঁছালো। আমি হাত দিয়ে চন্দ্রটি ছুঁতেই আমার শরীরের সাথে মিশে গেল। আমি সপ্তম শতাব্দীর মক্কা নগরে এসে পৌছালাম। চারিদেকে নওরোজ উৎসব। এটি থেকে মুসলমানরা ছয়শত দশ খ্রিস্টাব্দে ঈদুল ফিতর পালনের রীতি প্রবর্তন করেন। আমি আচ্ছন্ন মনে নিজেকে আবিষ্কার করলাম এক বাস্তব মানব হিসেবে। আমি বিস্তীর্ণ বালিরাশির মধ্যে গম্বুজ দেখতে পেলাম। গম্বুজের সন্নিকটে পৌঁছে একটি কারুকায করা সুন্দর সোনালী থালা হাতে নিয়ে পূর্বের স্থানে পৌঁছলাম। চন্দ্রটি পূর্বের ন্যায় শরীরের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে গেল। মুহূর্তে একবিংশ শতাব্দীর দুই হাজার একুশ সনে পূর্বের স্থানে এসে পৌছালাম। চারদিকে দৃষ্টি অবলোকন করলাম। নদীর কিনারায় কাউকে দেখতে পেলাম না। আমি অপরূপ থালাটি নিয়ে বাড়ি ফিরলাম। অবাক বিস্ময়ে অসুস্থবোধ করতে লাগলাম। তারপর বিছানায় শুয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম। দিবসের প্রথম প্রহরে আমার ঘুম মোহ আচ্ছন্নতা কাঁপুনির মাধ্যমে ভেঙে গেল। অবাক বিস্ময়ে দেখি বিছানার পাশে একটি সোনালি থালা রাখা আছে। থালাটিতে সুন্দর খোদাই করে লেখা আছে ‘ঈদ মোবারক’ বাবা। থালাটি আমার মাথার কাছে আমার মেয়ে রেখে দিয়েছে। স্বপ্নটি সত্য প্রমাণিত করার জন্য আমি আমার জান্নাতবাসী বাবাকে ধন্যবাদ জানালাম। অতঃপর পরিবারের সকলে মিলে আমাকে উপহারটি দেয়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ ও ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা ‘ঈদ মোবারক’ জানালাম। বিশেষ করে আমার মেয়েকে ঈদ মোবারক জানাই। আজ ঈদ তাই হৃদয়ের প্রাচুর্য থেকে নব নব সৃষ্টির বিকাশ ঘটুক। আর এই হৃদয়ের প্রাচুর্য থেকে সাহিত্য,চিত্র,সঙ্গীত সকলে লাভ করুক। এজন্য প্রয়োজন শিল্পীর স্বাধীনতা। পুরাতন জীর্ণ দূর হয়ে যাক। আধুনিক ও শিখার সংস্পর্শে এসে মানুষ বলবান,স্বাধীন ও প্রাণময় হয়ে উঠুক। আজ সমাজের সকলের গৃহে আনন্দের ফোয়ারা ও উৎসব। আর এর মধ্যে দিয়ে সকলের মন সরস ও সচেতন হয়ে উঠুক। যেখানে ঈদের আনন্দ আছে সেখানেই প্রতীভার জন্ম নেয়। আর তাই সকলে জীবনকে সার্থক,সুন্দর উপভোগ ও আনন্দ রসে অভিষিক্ত করে তুলুক।

Close