চাঁপাই নবাবগঞ্জশিরোনাম

পশ্চিমবঙ্গে তোলপাড় সৃষ্টি করা সেই বাংলাদেশিকে ধরতে বিজিবির অভিযান


বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: গত ৪ জুন রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের পাঁকা সীমান্ত দিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার সুতি থানার সীমান্ত লাগোয়া হাসানপুর গ্রামে ইয়াবা ট্যাবলেট আনতে যায় দুর্লভপুর ইউনিয়নের ষড়াপাড়া গ্রামের রফিক ষড়ার ছেলে সোহেল ষড়া (২৬)।

গত ৫ জুন রাতে ৩০ হাজার ইয়াবা নিয়ে বাংলাদেশে ফেরার সময় হাসানপুর গ্রামের নদীপাড় থেকে পশ্চিমবঙ্গের সুতি থানার পুলিশ গ্রেফতার করে সোহেলকে।

গত ৬ জুন জঙ্গিপুর মহকুমা আদালতে হাজির করে পুলিশ তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয়। রিমান্ডে সোহেল অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এদিকে করোনার উপসর্গ দেখা দেওয়ায় গত ৯ জুন রাতে সোহেলকে স্থানীয় মহিষাদল গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই রাতেই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে সোহেল হাতকড়া নিয়ে হাসপাতাল থেকে চম্পট দেয়। এ ঘটনা নিয়ে এখন তোলপাড় চলছে পশ্চিমবঙ্গে। তবে বিষয়টি সেখানেই থেমে থাকেনি। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ হয়ে বিষয়টি যায় বিএসএফের কাছে।

বিএসএফ জরুরি বার্তা পাঠিয়েছে বিজিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ানের কমান্ডার পর্যায়ে। পুলিশি হেফাজত থেকে পলাতক ইয়াবাকারবারি সোহেল যাতে সীমান্তপথে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবির সহযোগিতা চেয়েছে বিএসএফ।

এর জেরে সীমান্ত এলাকায় সোহেলকে হন্যে হয়ে খুঁজছে বিজিবি। সোহেলকে ধরতে গত তিন দিনে তার বাড়িতে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছেন বিজিবির ফতেপুর ফাঁড়ির সদস্যরা।

বিষয়টি সম্পর্কে চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ বিজিবির ৫৩, ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সুরুজ মিয়া শনিবার সকালে জানান, সোহেল মাদক আনতে ভারতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের হাসানপুর সীমান্তে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। সে হাসপাতাল থেকে হাতকড়া নিয়ে পালানোর পর বিষয়টি বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে জানানো হয়েছে। ফলে আমরা তার বাড়িতে একাধিকবার অভিযান চালিয়েছি। যদিও সে সীমান্তের ওপারে আছে, নাকি পালিয়ে এপারে এসেছে, এখনও নির্দিষ্ট কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে সে এপারে এলে বিজিবি তাকে অবশ্যই গ্রেফতার করবে।

বিজিবি স্বীকার করেছে, সোহেল একটি বড় মাদক চোরাচালান সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা। মাসুদ-আলম সিন্ডিকেটের হয়ে দীর্ঘদিন ধরে সে মাদক চোরাচালানে জড়িত।

এদিকে সীমান্তের ষড়াপাড়াসহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা জানান, পদ্মার তীরবর্তী শিবগঞ্জের ষড়াপাড়া, গাইপাড়া, পোড়াপাড়া, খাঁকচাপাড়া গ্রামগুলোতে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী মাদক পাচার সিন্ডিকেট। ভারত থেকে হেরোইন, ইয়াবা ও ফেনসিডিল ছাড়াও অস্ত্রের চালান ঢুকে বাংলাদেশে এসব মাদক সিন্ডিকেটের হাত হয়ে। সীমান্তের দুর্গম এ গ্রামগুলোতে মাদক চোরাচালানের চারটি বড় সিন্ডিকেট সক্রিয় অনেক দিন ধরে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, করোনাকালে সীমান্তে কড়াকড়ির ভেতরেও মাদককারবারিদের তৎপরতা থেমে নেই। মাসুদ, সোহেল, আলম, জাব্বার, তরিকুল, মেজার, জাহাঙ্গীর, নিজাম, জিয়ারুল, আনারুল, নাজির, রুহুলের নেতৃত্বে চারটি বড় মাদক সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়ে আসছে।

সীমান্তের এ গ্রামগুলো দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাতে পারে না। পুলিশ মাঝে মধ্যে গোপনীয়তার সঙ্গে অভিযান করলেও টের পেয়ে এসব মাদক ব্যবসায়ী সীমান্ত পার হয়ে ভারতের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পুলিশ চলে গেলে তারা আবার ফিরে আসে গ্রামে।

বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সুরুজ মিয়া আরও জানান, এই গ্রামগুলো সীমান্তের নিকটবর্তী দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। ফলে তাদের গতিবিধি সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। এই সুযোগে তারা সীমান্ত অতিক্রম করে মাদক আনতে যায়। যেমন সোহেল মাদক আনতে গিয়ে ধরা পড়ে পালিয়েছে।

শিবগঞ্জ থানার ওসি ফরিদ উদ্দিনও বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এলাকাটি পদ্মার দুর্গম চরাঞ্চলের ভেতরে। উপজেলা সদর থেকে নদীপথে সেখানে পৌঁছতেই ৫-৬ ঘণ্টা পার হয়ে যায়। এদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা আছে, গ্রেফতারি পরোয়ানাও আছে। কিন্তু দুর্গম এলাকার কারণে এসব মাদক ব্যবসায়ীকে সহজে গ্রেফতার করা যায় না।
বরেন্দ্র বার্তা/অপস
সুত্র : যুগান্তর

Close