মহানগরশিরোনাম

শিশু নির্যাতক ও মাদক ব্যবসায়ীরা যখন কাউন্সিলর প্রার্থী

ডেক্স রির্পোট :আসন্ন রাসিক নির্বাচনে ২৯ নং ওয়ার্ডে এবার সাধারণ কাউন্সিলর পদে লড়ছেন আলমগীর হোসেন আলো । আলো একজন চিহ্নিত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ।

নির্বাচন কমিশনে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বলেও ঘোষণা হয়েছে। তার প্রতিক লাটিম মার্কা ।

জানা যায়, তার পক্ষে ভোটের প্রচারনায় কাজ করছে তার মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা। এ ছাড়াও ২৯ নং ওয়ার্ড যুবলীগ সাধারন সম্পাদক আনার হত্যা এজাহার ভূক্ত আসামী এ মাদক সম্রাট আলো। তার রিরুদ্ধে প্রায় ১০টি মাদক মামলা রয়েছে মতিহার থানায়। যার স্বাক্ষী হিসেবে ৮০০ বোতল ফেন্সিডিলসহ একটি আর্মি রংএর প্রাইভেট কার আটক রয়েছে মতিহার থানায়। অবশ্য ওই ৮০০ বোতল ফেন্সিডিলের মামলার আসামীও সে। নগরীর মতিহার থানার শীর্ষ মাদক ও গরু মহিষ চোরকারবারি আলো ওশিশু নির্যাতক ও মাদক ব্যবসায়ীরা যখন কাউন্সিলর প্রার্থী আক্কাস দুই পার্টনার।

স্থানীয়রা জানান , আলো পূর্বে একজন টেম্পো চালক ও আক্কাস চরের মাদক বহনকারি লেবার ও সে সময়ের চরের ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারী। সে সময় বিডিআর- এর ছেড়ো গুলিতে আলোর পার্টনার আক্কাস আহত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে । এ ছাড়াও পুরো ডাসমারী এলাকায় ঘরে ঘরে মাদক পৌঁছে দেওয়ার মতো ভাল কাজ ছাড়া আর কোন ভাল কাজ করেনি কাউন্সিলর প্রার্থী আলো। ইতিমধ্যেই কাউন্সির প্রার্থী আলো ঘোষনা দিয়েছে ২৯ নং ওয়ার্ডে সকল ভোট যত টাকা লাগবে সে খরচ করবে।

এলাকা বাসীরা জানান, লাটিম মার্কায় ভোট দিতে নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। এ অবস্থায় এলাকার ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন। তবে আলো সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী হওয়াতে, ভয়ে কেউ এ নিয়ে প্রতিবাদের সাহস পাচ্ছেন না।

তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন ,প্রশাসনের লোকজন আটক করতে মরিয়া ছিল। সেই অভিযানই বা থেমে গেল কোন কায়দায় এমন প্রশ্ন মুখে মুখে। যদি সত্যি আলোর অসিম ক্ষমতায় টাকার জোরে নির্বাচিত হয়। তাহলে মাদকের স্রোত তো ড্রেন দিয়ে যাবে এমন ব্যঙ্গ কথা বলেও হাসাহাসি করতে দেখা যাচ্ছে ভোটারদের। এ নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে পুরো ২৯ নং ওয়ার্ডে যা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

দেশ ব্যপি মাদক বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতায় দফায়-দফায় পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে নগরীর ২৯ নং ওয়ার্ডে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী আলো-আক্কাসসহ নামধারি মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রেফতার এড়াতে কেউ রাজশাহীর বাইরে আবার কেউ পদ্মার চরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল। তবে এই মাদক সম্রাট আলো নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াতে তার পার্টনার আক্কাসসহ অত্র অঞ্চলের মাদক ব্যবসায়ীরা আরো বেগবান হলো।

অন্যদিকে সংরক্ষিত আসন নং -৮ এর সাবেক নারী কাউন্সিলর ও বর্তমানে নারী কাউন্সিলর পদপ্রাথী শাহানাজ বেগম শিখার বিরুদ্ধে ইয়ামিন (২) নামের এক শিশু নির্যাতনের ঘটনায় থানায় অভিযোগ পত্র দিয়েছেন নির্যাতিত শিশুর পরিবার। ১১ জুলাই রাত্রি সাড়ে দশটার সময় নির্যাতিত শিশুর রিক্সা চালক পিতা সাহিন বাদি হয়ে রাসিকের সংরক্ষিত আসন নং :-৮ এর নারী কাউন্সিলর শাহানাজ বেগম শিখা ও তার সহযোগী চন্না কে আসামী করে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন।শিশু নির্যাতক ও মাদক ব্যবসায়ীরা যখন কাউন্সিলর প্রার্থী

নির্যাতিত শিশুর পিতা সাহিন বলেন, গতকাল বুধবার বিকেলে রাজশাহী সিটি কপোরেশনের সংরক্ষিত আসন নং -৮ এর সাবেক নারী কাউন্সিলর ও বর্তমানে নারী কাউন্সিলর পদপ্রাথী শাহানাজ বেগম শিখা তার প্রতিক গ্লাস মার্কা নিয়ে আহম্মদপুর খরবনা এলাকায় গণসংযোগ করার সময় তার প্রচার মাইকের রিক্সায় থাকা প্রচারনার পোষ্টার টেনে ধরায় তার শিশু সন্তান ইয়ামিনকে ধাক্কা দিয় ড্রেনে ফেলে দেয় কাউন্সিলর পদপ্রাথী শাহানাজ বেগম শিখার সহযোগী চন্না। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন শিশু ইয়ামিনকে ধাক্কা দিয়ে ড্রেনে ফেলে দেয়ার বিষয়ে শিখার সহযোগী চন্নার সাথে কথা কাটা কাটির এক পর্যায়ে কাউন্সিলর পদপ্রাথী শাহানাজ বেগম শিখা বলেন শিশুকে ফেলেছি এবার তোদেরও ড্রেনে ফেলে দেব বলে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করেন ।

সেই সাথে এ বিষয়ে বাড়া বাড়ি কররে তাদের পেটোয়া বাহীনি দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন শিখা ও তার সহযোগী চন্না বাহীনিরা । পরে শিশু ইয়ামিনের মা রেখা বেগম আহত ছেলেকে ড্রেন থেকে তুলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে তাকে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করে ।

তিনি আরো বলেন, রাত সাড়ে নয়টার সময় শিশু ইয়ামিনকে রামেক হাসপাতাল থেকে বাসায় নিয়ে আসার পরে রাত সাড়ে দশটার সময় এ বিষয়ে রাসিকের সংরক্ষিত আসন নং :-৮ এর নারী কাউন্সিলর শাহানাজ বেগম শিখা ও তার সহযোগী চন্না কে আসামী করে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করে বাসায় ফিরে আসার পর পরই আবার কাউন্সিলর পদপ্রাথী শাহানাজ বেগম শিখার সহযোগী চন্না ও তার দল বল নিয়ে আমার বাসায় হামলা করে ।

এ বিষয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আমান উল্লাহ বলেন, শিশু নির্যাতন বিষয়টি সঠিক নয় তবে শিশুর পিতা বাদি হয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়ে গেছে । বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি ।  কৃতজ্ঞতা : দৈনিক উপাচার/বরেন্দ্র বার্তা

 

Close