নাগরিক মতামতমহানগরশিরোনাম-২

মহসীন খান স্মরনে

খোন্দকার আমিনুল হক

অ্যাডভোকেট মহসীন খান, রাজশাহীর কৃতি সন্তান। পিতা খান বাহাদুর আব্দুর রহমান খান। তিনি রাজশাহী জেলা ও চট্টগ্রাম বিভাগের শিক্ষা কর্মকর্তা ছিলেন। পিতার সুযোগ্য সন্তান। সে ইহলোক ত্যাগ করেছে গত ২০ জুন ২০২১ সালে।

মহসীন খান একাধারে বন্ধুবৎসল, সমাজসেবী  সংস্কৃতিমনা ও আইনজীবি। তাঁর মৃত্যুতে সমাজে অপূরনীয় ক্ষতি হয়েছে।

রাজশাহী শহরে ১৯৩৬ সালের ২৯ মার্চ তাঁর জন্ম। আমি মাত্র ১৬ দিনের বড়।

লোকনাথ হাই স্কুলে পাঠ্য অবস্থায় বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। বয়স হলে পিছন পানে ফিরে চাইতে ইচ্ছে হয়-স্মৃতিময় অতীত রোমন্থন করতে হয়।

হারিযে যা্ওয়া বন্ধুদের একত্র করতে সহায়তা করেছিল মহসীন খান। শহরের সালাম, ভারতের  ব্যা্গালুরে অবস্থানরত  পরশু ও আমাকে একত্রিত করেছিল। পরশু বেশ কয়েকবার এসেছে। সম্প্রতি মারা গেছে। আমার গ্রন্থ রম্যকে নিয়ে রম্য ও গল্প  গ্রন্থ-রোমন্থন ও অন্যান্য উপহার দিয়েছিলাম।

কিছুদিন পর ফোনে জানালে-বই পড়ে তাঁর স্ত্রী মুগ্ধ। সো ফ্যাক্ট। উত্তরে আমি অভিনন্দন  জানিয়েছি।

গত ঈদুল ফিতরের পূর্বে ফোনে মহসীন বলল-তুমি আর সালাম কে নিয়ে ঈদ তাঁর বাড়িতে উপভোগের কথা। ঈদের দুদিন পর ঠিক করলাম ।আমার নাতনী তাসনিয়া তাবাসসুম ময়ূরীকে নিয়ে রওনা হলাম। পথে সালামকে  নিব বলে ওর বাড়ির সম্মুখে দাঁড়ালাম। ও অসুস্থ,- ওকে ছাড়ায় আমরা মহসীনের বাড়িতে উপস্থিত হলাম। বাইরের ঘরে বসে কথা। আমার নাতনী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের  চারুকলার ছাত্রী। এ কথা শুনে ভীষন খুশি। প্রায় দু ঘন্টা ধরে তাঁর সৃষ্টি রাজশাহী আর্ট কলেজ কথা বলে গেল।

আমি এক পর্য্যায়ে জিজ্ঞেস করলাম কি করে আর্ট কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্ভূক্ত হল।

সে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের মেম্বার। তাঁর প্রচেষ্টা আর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে, কলেজটি অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল।

মহসীন খান আর্ট কলেজ সম্পর্কে একটা প্রবন্ধ সোনার দেশ ঈদ সংখ্যা ২০১৯ সালে ছেপেছে।

আমরা অন্দর মহলে গেলাম। তাঁর বাবার আমলের বাড়ি। খাবার ঘরে বসেই গল্প।

বলল- তোমার সঙ্গে  খাব বলে ঈদে খাওয়ার আয়োজন করিনি। বেশ আনন্দ উপভোগ করছি।বাড়ির সকল সদস্যদের প্রতি অমায়িক ব্যবহার। বৌমাকে মাগো মা বলে ডাকছে। নাতি-নাতনী ও সন্তানদের স্নেহ মাখা ডাক পরিবেশকে মধুময় করে তুলেছে।

সাহিত্য অঙ্গনে তাঁর পদচারনা ছিল। তাঁর লেখা পারিবারিক ইতিহাস-ঠিকানা যখন মুগ্ধ বেলায় ইতিহাসের প্রতি অনুরাগ ও কঠোর পরিশ্রম এর কথা স্মরন করে দেয়।

সমাজ হিতৈষী মহসীন খান রাজশাহীর বিভিন্ন সংগঠনের সাথে জড়িত ছিল। বয়েজ স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি, রাজশাহী এসোসিয়েসনস, লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি। সর্বশেষে রজনীকান্ত স্মৃতি পরিষদে তারই আগ্রহে আমি স্মৃতি পরিষদে অন্তর্ভূক্ত হয়েছিলাম। এই পরিষদের উদ্যোক্তা সাংবাদিক জুলফিকার।

মহসীন প্রচন্ড প্রান চঞ্চল বিদ্যোৎসাহী ও পরোপকারী বন্ধুবৎসল প্রানপুরুষ। তাঁকে হারিয়ে রাজশাহীর অপূরনীয় ক্ষতি হয়েচে। তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।

Close