বাগমারাশিরোনাম-২

প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে ভাঙ্গা ঘরের বারান্দায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাত কাটে বৃদ্ধা আতেজান বেওয়ার


আব্দুল মতিন, বাগমারা : রাজশাহীর বাগমারায় প্রতিবন্ধী এক ছেলেকে নিয়ে ভাঙ্গা ঘরের বারান্দায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন রাত কাটে বৃদ্ধা আতেজান বেওয়ার (৭৪)। বারো বছর আগে মারা গেছেন তার স্বামী জেহের আলী। এরপর থেকে প্রতিবন্ধী এক ছেলেকে নিয়ে সেখানেই বসবাস করছেন তিনি। ঘরের প্রায় সকল কিছুই এখন ভেঙ্গে গেছে। স্বামীর ভিটে ছাড়া অন্য কোথায় গিয়ে ঘর করার ইচ্ছাও নেই তার। তাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেখানেই থাকেন তিনি। প্রতিবন্ধী একমাত্র ছেলেকে নিয়ে পাকাঘরে থাকার সখ থাকলেও সেটা পূরণ করার সামর্থ্য নেই তার। সরকার পাকাবাড়ি করে দিচ্ছে এমন শুনে আশাবাদী তিনি। তবে সে আশা পূরণ হবে কী না জানেন না আতেজান বেওয়া।
আতেজান বেওয়া তার ছেলেকে নিয়ে উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের কামনগর সোনার পাড়া গ্রামে থাকেন। অনেক অভাব অনটনের আর কষ্টের মধ্যে জীবন যাপন করছেন ছেলেকে নিয়ে। তবে পাঁচ মেয়েকে বিয়ে দিতে পারলেও মানসিক প্রতিবন্ধী এক ছেলেকে নিয়ে বিপাকে পড়েন বৃদ্ধা। উপার্জনের কোনো পথ না থাকায় বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন সহ এলাকার লোকজনের সহায়তায় কোনো রকম বেঁচে আছেন। ঠিক মত খাবারও জোটেনা তাঁদের। বয়স্কভাতার যোগ্য হলেও মাত্র ছয়মাস আগে প্রতিবেশি এক অবসরপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যের প্রচেষ্টায় ভাতার তালিকায় নাম অর্ন্তভূক্ত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ভাতা মিলেনি মানসিক প্রতিবন্ধী ওই ছেলের। এছাড়াও অন্য কোনো সরকারি সুবিধা পাননি আতেজান বেওয়া।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে তাঁর দুরাবস্থার চিত্র চোখে পড়ে। মাটির পুরানো ঘরের দেয়াল ও টিনের চালা ভেঙে গেছে। ঘরের দরজাও ভেঙে গেছে। ঘর ঝুঁকিপূর্ন এবং বৃষ্টির পানি পড়ার কারণে বারান্দায় এক কোনে চোকি বসিয়েছেন। সেখানে প্রতিবন্ধী ছেলের শুয়ে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চোকিতে বসে থাকতে দেখা যায় প্রতিবন্ধী মাহাবুর রহমানকে (৪৫)। তার পাশেই রয়েছে হাঁস-মুরগি রাখার কুঠির। তাদের থাকার কোন জায়গা নেই। কথাগুলো বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন আতেজান বেওয়া।
তিনি জানান, টিনের চালা নষ্ট হওয়াতে বৃষ্টি হলেই পানি ঘরে ঢুকে যার কারণে দেয়াল ভেঙ্গে পড়েছে। সেখানে আর থাকা যায় না। তবে মানসিক প্রতিবন্ধী ছেলে মাহাবুর রহমান কুঁড়েঘরের বারান্দাতেই থাকেন। সেখানে নতুন টিন দিয়ে থাকার জায়গা করে দিয়েছেন ছেলের জন্য। ছেলের সঙ্গে থাকা সম্ভব না হওয়ার কারণে রাত হলেই মেয়ের বাড়িতে যায়।
তিনি আরো এই প্রতিবেদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘সরকারকে বলে আমাকে একটা পাকা ঘরের ব্যবস্থা করে দেন।’ নিজের পাকাঘরে ঘুমানোর স্বপ্ন দীর্ঘদিনের। তবে বেঁচে থাকা অবস্থায় তা পূরণ হবে কী না এনিয়ে সংশয়ে আছেন বলে মন্তব্য করেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মমতাজ উদ্দিন বলেন, আতেজান বেওয়ার থাকা ও খাওয়ার খুবই কষ্ট। কিছুদিন আগে তাঁর বয়স্কভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরিফ আহম্মেদ বলেন, বর্তমানে যাদের কোন জমি এবং গৃহ নেই তাদেরকে খাস জমিতে ঘর নির্মাণ করে দেয়া হচ্ছে। আতেজান বেওয়ার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন এবং ঢেউটিন দিয়ে সহযোগিতা করারও আশ্বাস দেন।

বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close