মহানগরশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম

বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর রাবিতে মানসিক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে ৮ গুণ



কামরুল হাসান অভি, রাবি : করোনাকালীন দীর্ঘ ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খুলে দেওয়ার পর থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানসিক রোগীর সংখ্যা বেড়েছে পূর্বের তুলনায় ৮ গুণ। গত তিন বছরে যেখানে মোট মানসিক রোগীর সংখ্যা ছিলো ৫০০ জন সেখানে গেল দুই মাসেই এই সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে প্রায় ৭০০ জনে। মানসিক সমস্যায় জর্জরিত শিক্ষার্থীদের এই সংখ্যা ক্রমাগত বেড়েই চলছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক ও মনোবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনোয়ারুল হাসান সুফী।

তিনি বলেন, গত দুইমাসে এ পর্যন্ত প্রায় ২০০ জনের মত মানসিক সমস্যাগ্রস্থ শিক্ষার্থী আমারদের কাছে এসেছে। তবে এই সংখ্যা প্রতিনিয়ত যেভাবে বেড়েই চলছে সেটা সামাল দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। যেখানে করোনা মহামারীর পূর্বে দিনে সর্বোচ্চ দুই জন রোগী আসতো সেখানে বর্তমানে দিনে ১০ জনেরও অধিক রোগী আসছে। যাদের মধ্যে ৪৮% পুরুষ ও ৫২% নারী শিক্ষার্থী।

এর কারণ উল্লেখ করে অধ্যাপক সুফি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরপরই প্রায় সব বিভাগের পরীক্ষা ও একটানা ক্লাস শুরু হয়ে যায়। যার ফলে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়াশোনার ব্যাপক চাপ পরে। এছাড়াও আমাদের অনেক শিক্ষকদের মধ্যে দেড় বছরের পড়াশোনা দেড় মাসে শেষ করিয়ে ফেলার প্রবণতাই এমন পরিস্থিতির জন্য অনেকাংশেই দায়ী বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে বিশ্বিবিদ্যালয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলেও এমন তথ্যই পাওয়া গেছে৷ বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহানা খন্দকার জানান, গত দেড় বছর কোভিড-১৯ এর জন্য মানসিক চাপের মধ্যেই ছিলাম। অনেক বড় একটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিলো একাডেমিক পড়াশোনার সাথে। এমন অবস্থায় ক্যাম্পাস খোলার পর পরই পরীক্ষা হওয়ায় মানসিকভাবে বেশ অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ি। পড়তে বসলে মনে হতো কিছুই পড়িনি, কিছুই পারবো না পরীক্ষায়। এসব কিছু মিলিয়ে মারাত্মক চাপে পড়ে যাই ।

ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী তুহিনুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পরে আমাদের কমপক্ষে এক মাস সময় দেওয়া উচিৎ ছিল প্রশাসনের। কিন্তু বিভাগগুলো তা না করে ক্যাম্পাস খোলার পরপরই পরীক্ষা শুরু করে দেয়। যার কারণে পড়াশুনা করলেও পরীক্ষার খাতায় যথেষ্ট লেখা সম্ভব হচ্ছে না এবং মানসিক দিক থেকে অনেকটা দুর্বল মনে হচ্ছে নিজেকে।

তবে এই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে অধ্যাপক সুফী বলেন, ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে একটি সেমিনার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যাতে করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিরাজ করে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের মানসিক সমস্যা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়াবলি শিক্ষকদের সাথে শেয়ার করতে পারে। এছাড়াও মানসিক স্বাস্থ্য খাতে দেশের নির্ধারিত বাজেটের পরিমাণকে ০.৩℅ থেকে নূন্যতম ৩% এ উন্নীত করা এবং সেই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের উচিত শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করণে যথেষ্ট অর্থের বরাদ্দ রাখা।


বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close