বিনোদন

গানে-জ্ঞানে দুটোতেই মেধা

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক : কেটি পেরি আজ এত বিখ্যাত গায়িকা; অথচ পড়াশোনায় তেমন মনোযোগ ছিল না তাঁর।

পনেরো বছর বয়সেই স্কুল বাদ দিয়ে গান গাওয়া শুরু করেন। পরে অবশ্য কোনোরকমে জিইডি পরীক্ষা দিয়েছেন। লেখাপড়াটা ভালো লাগত না র‍্যাপার জেজিরও।

হাইস্কুলেই পড়াশোনাকে বিদায় জানান। পড়াশোনার তোয়াক্কা করেননি ক্রিস্টিনা অ্যাগুইলেরা, এমিনেম, পিংক, প্রিন্স, বিলি জোয়েল, জর্জ হ্যারিসন, জর্জ মাইকেল, ডেভিড বাউয়ি, এলটন জনের মতো সংগীত কিংবদন্তিরা। তাঁদের কয়েকজন সতীর্থের কিন্তু গল্পটা অন্য রকম।

গানের জগতে এমন অনেকেই আছেন, যাঁরা গানেও মেধার পরিচয় দিয়েছেন, বিদ্যার্জনেও এগিয়ে আছেন। এই যেমন—

ওই ঝাঁকড়া শুভ্র চুলওয়ালা মাথার ভেতর যে মগজটা আছে, সেটা দিয়েই ব্রায়ান মে গিটারে সুর তোলেন। আবার ওই মগজটা খাটিয়েই পদার্থ-গণিতে বিদ্বান হয়ে উঠেছেন তিনি।

ব্রিটিশ রক ব্যান্ড ‘কুইন’-এর এই লিড গিটারিস্ট লন্ডনের ইমপেরিয়াল কলেজ থেকে পদার্থে স্নাতক করেছেন। সঙ্গে চর্চা করেছেন গণিত। ১৯৭০-৭৪ সালে পড়াশোনা করেন অ্যাস্ট্রোফিজিকস নিয়ে।

এ বিষয়ে তাঁর তৈরি গবেষণাপত্রও রয়েছে। সেই গবেষণাপত্র যখন ব্রায়ান তৈরি করছিলেন, তখন কিন্তু বিশ্বজুড়ে কুইনের জনপ্রিয়তা ছড়িয়ে গেছে। এমন অবস্থায় দলের ক্ষতি চাননি।

তাই গানে সময় দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় নিয়ে সেই গবেষণাপত্র তৈরি করেন। অবশেষে ২০০৭ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর গবেষণাপত্র।

২০০৮ সালে তাঁকে পিএইচডি ডিগ্রি দেয় ইমপেরিয়াল কলেজ। তাঁর গবেষণাপত্রের নাম ছিল, ‘আ সার্ভে অব র‍্যাডিয়াল ভেলোসিটিস ইন দ্য জোডিয়্যাকাল ডাস্ট ক্লাউড’!

ইলেকট্রনিক মিউজিকের পথিকৃৎ ডেলিয়া ডার্বিশায়ার পড়েছেন অক্সফোর্ড, কেমব্রিজেও। এটা সেই পঞ্চাশের দশকের কথা। সে সময় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ জনের মধ্যে ১ জন মাত্র নারী শিক্ষার্থী পড়তেন। কেমব্রিজে বৃত্তি নিয়ে গণিত বিষয়ে পড়েছেন বছরখানেক। পরে বিষয় বদলে সংগীত নিয়ে পড়তে শুরু করেন।

গণিত ও সংগীত দুইয়ে মিলে এক অদ্ভুত মিশেলের বিষয় নিয়ে বিএ পাস করেন ডেলিয়া। পরে সেই শিক্ষাটাই তিনি সংগীতজগতে এসে কাজে লাগান। ইলেকট্রনিক রেকর্ডিংয়ের মাধ্যমে গানে বিশেষ ইফেক্ট দেওয়ার জাদু দেখিয়ে তাক লাগিয়ে দেন বিশ্ববাসীকে।

তাঁর সেরা কাজের একটি ছিল ১৯৬৩ সালে ডক্টর হুর থিম গানের ইফেক্ট তৈরি করা।

মেটাফিজিকস নাকি গান? ‘কে জিতবে, কে জিতবে’ ভাবতে ভাবতে গানটাকেই বেছে নেন লানা ডেল রে।

হেরে যায় মেটাফিজিকস। ফোর্ডাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করলেও ক্যারিয়ারে কাজে লাগাননি লানা।

মনটা যে সংগীতকে দিয়ে বসেছিলেন আগেই। নইলে কি আর ‘বর্ন টু ডাই’ কিংবা ‘ইয়ং অ্যান্ড বিউটিফুল’-এর মতো দারুণ দারুণ গান উপহার দিতে পারতেন ।

মানুষের মানসিক সমস্যা শোনার চেয়ে বরং মানুষকে গান গেয়ে বিনোদন দেওয়া ঢের ভালো বলে মনে করেন মার্কিন সংগীতশিল্পী ও গীতিকার গ্লোরিয়া ইস্তেফান। নইলে কি ‘মনোবিদ্যা’ আর ‘যোগাযোগ’ এই দুই বিষয়ে পড়াশোনা করার পর গান গাওয়া ধরতেন? ওহ্‌, ফরাসি ভাষা নিয়েও পড়েছেন এই গায়িকা। মেধার জোরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএতে (সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি) নাকি চাকরি হতে যাচ্ছিল। গ্লোরিয়া বলেন, ‘আমার মনে হয় না আমি একজন মনোবিদ হতে পারতাম।

কারণ, আমি রোগীদের আবেগী ব্যাপারগুলো থেকে মুক্তি পেতে চাচ্ছিলাম।’

পড়াশোনা বাদ দিয়ে আবার কিসের গানবাজনা, হ্যাঁ? যিনি রাঁধেন, তিনি তো চুলও বাঁধেন। ব্রিটিশ রক ব্যান্ড কোল্ড প্লের ক্রিস মার্টিনকেই দেখুন। গান, কনসার্ট—এই সবকিছু সামলেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন। যখন পরীক্ষার সময় এল, তখন ট্যুর-কনসার্ট সব বাতিল করে পড়াশোনায় মন দিলেন ক্রিস। এরপর ফলাফল প্রকাশ হলো। গ্রিক ও লাতিন ভাষা নিয়ে পড়াশোনা ক্রিস প্রথম শ্রেণিতে উতরে যান স্নাতকের কোঠা। এরপর আবার ফেরেন গানে। আর এখন তাঁর সাফল্য তো সবাই-ই দেখতে পাচ্ছেন।

বরেন্দ্র বার্তা/আসশ

Close