স্বাস্থ্য বার্তা

আক্রান্ত ১ কোটির ৯০ লাখই শনাক্তের বাইরে

হেপাটাইটিস বি-সি ভাইরাস

স্বাস্থ্য ডেক্স : ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস।  দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান সরকার হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস প্রতিরোধে নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এ ভাইরাস নিরাময়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করছি।

তিনি বলেন, দেশের বিশেষজ্ঞরা লিভার রোগে আক্রান্ত রোগীদের আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত ১ কোটির ৯০ লাখই রয়েছে শনাক্তের বাইরে। অজ্ঞতা, অসচেতনতা আর ভুল চিকিৎসায় আক্রান্তরা ক্যান্সার, লিভার সিরোসিসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল হেপাটাইটিস বি ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই দেশের ৬৫ ভাগ লিভার ক্যান্সার নির্মূল সম্ভব। তাই বহুগুণে আর্থিক ক্ষতি ও জনসাধারণের জীবন রক্ষায় সরকারকে বিনামূল্যে হেপাটাইটিস ভাইরাস শনাক্তের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান তাদের।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস অবশেষে মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত করেছে নুরুন্নবীকে। কয়েক বছর আগে জন্ডিসে আক্রান্ত হয়েও অবহেলা অজ্ঞতা নুরন্নবীর জীবনকে ঠেলে দিয়েছে মৃত্যুর আশঙ্কার দিকে।

রোগীর স্বজনরা জানান, হাত-পা জালা পোড়া করে। আর এটা একবার এক পাশে যায়, আরেক বার অন্য পাশে যায়। সেই সঙ্গে ভূমির ভাব হয়। খাবার কোন রুচি নেই।

একইভাবে তীব্র জন্ডিসে হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে নুরুল ইসলামের শরীর। ছয়বছর আগে ভাইরাস ধরা পড়লেও আর্থিক সঙ্কট ও কবিরাজি চিকিৎসায় সময়ক্ষেপণ নুরুল ইসলামকে আক্রান্ত করেছে লিভার সিরোসিসে।

আক্রান্ত রোগী জানান, টাকা অভাবে চিকিৎসাও করতে পারে নাই। এবং সেই সঙ্গে এটিকে গুরুত্ব দেয়নি, এখন সমস্যা নেই পরবর্তীতে কিছুই হবে না।

অন্য আরেক রোগী জানান, পেটের মধ্যে পানি জমে ছিল, পরে এখানে এসেছি। পরে পরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারি আমার বি ভাইরাস হয়েছে।

দেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত। অথচ আক্রান্তের প্রতি ১০ জনের ৯ জনই জানেননা তারা এই ভাইরাসের বাহক। তাই এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে বিনামূল্যে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস শনাক্তের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো শাহিনুর রহমান বলেন, হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস যদি সরকারি হাসপাতালে ফ্রিও করা হয়। ১৬ কোটি মানুষের জন্য ৫০০ কোটি খরচ হবে না। আর এই টাকা যদি এখন খরচ করি, এবং তাদের লিভার সিরোসিস হয়, লিভার ক্যান্সার হয়, এবং লিভার ট্রান্স-প্লান্টে আমার পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে।

শিশু লিভার বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক ড. মো রোকনুজ্জামান বলেন, গর্ভকালীন নারীরা যখন ডাক্তারের কাছে আসবেন, তখনই স্ক্রিনি করতে হবে, তার হেপাটাইটিস বি আছে কি-না? যদি হয়, তাহলে গর্ভকালীন সময়ে চিকিৎসা দিতে হবে। সেই সাথে বাচ্চা ডেলিভারির পর শিশুকে চিকিৎসা দিতে হবে।

এদিকে সমস্যা সমাধানে উচ্চমূল্যের হেপাটাইটিস ভাইরাসের ওষুধের দাম কমানোর পরিকল্পনার কথা বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিম বলেন, হেপাটাইটিস বি তো পানি বাহিত ওষুধ, এদিকে ওষুধে দাম কমানোর বিষয়ে ওষুধ শিল্প জড়িত। তাদের সঙ্গে কথা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আক্রান্তের অধিকাংশের বিশ্বাস এখনো ঝাড় ফুঁক ও কবিরাজি চিকিৎসায়, যা তাদের রোগ মুক্তির পরিবর্তে উল্টো আক্রান্ত করছে নানান মরণব্যাধীতে।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা যায়, হেপাটাইটিস বি’তে আক্রান্ত ৮৫ লাখের ১৮ লাখই সন্তান জন্ম দিতে সক্ষম নারী। এই বিপুল সংখ্যককে চিকিৎসার আওতায় আনা গেলে নবজাতকদের অধিকাংশকেই হেপাটাইটিস ভাইরাসের কবল থেকে রক্ষা করা সম্ভব। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close